Published : 18 Sep 2026, 08:29 AM
ছন্দ ভাঙচুর
ছন্দ ভাঙলে
পাখি কষ্ট পায়
যেন তার
ডিমই ভেঙে গেছে,
পাখির ডানায় আছে
ওড়ার সুমিত ছন্দ
উড়তে উড়তে
ছন্দ ছুঁয়ে ফেলে
লুকোচুরি খেলা চলে
ছন্দ যেন সহচরী
মেঘের মহলা
অফুরন্ত নীল
সুতরাং ছন্দ থাক
ছন্দেরই মতন
থাকুক না আইবুড়ো
শুধু শুধু ভাঙচুর
করে কোনো লাভ নেই
ছন্দ থাক নিজের নিভৃতিসহ
সাধ্যমত সালংকারা
সাধ্যমত নিরালা গোপনে
নৈঃশব্দ্য ও ঝরাপাতা
ঝাউবীথি শালবীথি দেবদারুবীথি
অতিদূর নক্ষত্রবীথির সঙ্গে
কী মিতালি পাতিয়েছে
ঠাহর করে না কেউ
রঙিন থালার মতো চাঁদ ওঠে
ক্ষয়ে ক্ষয়ে অমাবস্যা
চক্রাকারে ফিরে আসে
আবার নতুন জন্ম
নক্ষত্রেরা অকম্পিত স্থির
মর্ত্যে ওর বন্ধুজন নিঃসঙ্গ ঝিমোয়
ঝাউবীথি শালবীথি
খরায় দুঃসহ পোড়ে
অপুষ্টির দাঁতাল কামড়ে
পাতা ঝরে বল্কল শুকিয়ে যায়
মরে যায় ওরা নিজেরাও
যেন ঠাটা পড়ে মৃত ফসিলপ্রতিম
প্রতিবাদ চিৎকারবিহীন
কথা নীরবতা প্রথা
কথার ফাঁকে লুকিয়ে থাকে
নীরবতার ঢেউ
ঝাঁপ দেবে সে মরণগাঙে?
ভাবতে পারো কেউ?
কথার ছাঁদে কথার ফাঁদে
আটকা বিমূঢ় কবি
ছন্দভাঙার শাস্তিতে নীল
হয় না আঁকা ছবি...
নিঝুমপুরে ছবির বাড়ি
ঘুমের সমুদ্দুরে
অচিন পাখির কণ্ঠে কুহক
জীবন মূর্ত সুরে,
কবির শব্দ নিরল শব্দ
কবির কথন ঘোর
রাত্রি কেটে চায় না হতে
পোয়াতি-রঙ ভোর
দূরত্বই জয়ী হয়
কেউ কাউকে গ্রহণের ঝুঁকি নেয় না
দূরত্বের বর্ম গায়ে এঁটে
দূর থেকে মজা দেখে
কুপ্রবৃত্তি এতে হয়তো চরিতার্থ হয়
একজনের বিপদে অপরে
পাশে এসে দাঁড়ানোর
তাগিদ করে না বোধ
ভাবে এতে ছোট ও নিন্দিত হতে হবে
মানবসভ্যতা থেকে
সাহসের ইতিহাস
ত্যাগের অহং
মিলে মিশে থাকার মহত্ত্ব
উবে গেছে জন্মশোধ অধরা সে দূরের সাকিনে...
সৃজনের দায়বোধ
এক কালে মানুষেরও ছিল
কিন্তু দ্রুত অবলুপ্ত
নিঃশেষ হয়েছে...
তুমি জান নাই তার মূল্যের পরিমাণ...
ঘৃণা ও উপেক্ষাগুলো
স্বত্ব ত্যাগ করে
আমাকে দিয়েই দ্যাখো
ভালোবাসা, ত্যাগের জারক রসে
ওদের সিঞ্চিত
সুগন্ধি ফুলের স্বপ্ন অতি যত্নে ফোটাবো ওদের।
ভালোবাসা এমনই ক্ষমতাধর
প্রকৃত সে পরশপাথর
ভালোবাসা এত কিছু পারে
খরায় বৃষ্টির ঢল
ডেকে আনতে পারে
ভালোবাসা এমনই জীয়নকাঠি
হিমশৈত্যে কম্বলের ওম
তৃষিতের প্রলম্বিত চুমু
অন্ধ চোখে দৃষ্টি ফোটা জ্যোতি
জানি আমি জানি
তুমি জানলে না, তুমি জানবার
কোনোদিন সামান্যও চেষ্টাও করোনি।