সৃজনশীলতার চর্চা কেন দরকার? - hello
আমার কথা

আদনান কাদির চৌধুরী দীপ (১৩), ঢাকা

Published: 2021-04-06 21:48:09.0 BdST Updated: 2021-04-06 21:48:09.0 BdST

সুন্দর পৃথিবীর জন্য সৃজনশীলতা জরুরি বলে আমার মনে হয়।

যারা মৃত্যুর পরও অমর হয়ে আছেন, তাদের প্রত্যকেই ছিলেন অত্যন্ত সৃজনশীল। 

সৃজনশীলতার অর্থ হলো কোনো একটি বিষয়কে একাধিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা, উপলদ্ধি করা। সৃজনশীল কর্মকাণ্ড হতে পারে গান গাওয়া, চিত্রাঙ্কন করা, লেখালেখি করা কিংবা হতে পারে কবিতা আবৃত্তি, বৈজ্ঞানিক বিভিন্ন বিষয় পরীক্ষা নিরীক্ষা ইত্যাদি।

এসব কাজ যে শুধু মনকে অন্য মাত্রার আনন্দ দেয় তা নয়, মানসিক বিকাশের ক্ষেত্রেও এসবের রয়েছে অসামান্য অবদান। যেকোনো ধরনের সৃজনশীল কাজ করতে হলে প্রয়োজন হয় কল্পনা শক্তি ও গভীরচিন্তার। যে যত বেশি সৃজনশীলতার চর্চা করবে, দিনে দিনে তার কল্পনাশক্তি ততই প্রখর হবে। এই কল্পনা শক্তি ধীরে ধীরে জ্ঞানের নতুন দ্বার উন্মোচিত করবে।

কল্পনা করার শক্তি আমাদের প্রত্যেকেরই রয়েছে। আর এটাকে ধারালো করার জন্য প্রয়োজন অনুশীলন। সৃজনশীলতা যে শুধু এ ধরনের কাজগুলোতেই প্রযোজ্য তা নয়, বরং পড়াশোনার ক্ষেত্রেও আমরা এর প্রয়োগ করতে পারি।

কিন্তু বর্তমানে আমরা অনেকেই শুধু পাঠ্যপুস্তকের গঁৎবাধা বিষয়বস্তু নিয়েই পড়ে থাকি। বেশিরভাগ সময় যার উদ্দেশ্য থাকে ক্লাসে প্রথম, দ্বিতীয় কিংবা তৃতীয় হওয়ার অসুস্থ প্রতিযোগিতায় জয়ী হওয়া। আর এজন্য আমরা অনেকেই রক্ত পানি করে দীর্ঘক্ষণ বইয়ে মুখ বুজে বসে থাকি। নিজের জন্য অবসর সময়টুকু রাখারও ফুরসত হয় না। অথচ প্রকৃত মেধা বিকাশে এ ধরনের অসুস্থতার বিশেষ কোনো ভূমিকাই নেই। এতে বরং হিতের বিপরীতই ঘটে। এর ফলে যে শুধু অনেক লুকায়িত প্রতিভা বিলীন হয়ে যায় তাই নয়, বরং শারীরিক অনেক সমস্যাও সৃষ্টি করতে পারে।

একটি গবেষণার কথা দেখেছিলাম গণমাধ্যমে। যেখানে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি প্রতিদিন ১৩ ঘণ্টা বা তার বেশিক্ষণ পড়াশোনায় ব্যয় করলে অন্যদের চেয়ে তার মৃত্যুঝুঁকি বেশি থাকে। এছাড়া স্মৃতিবিভ্রমের সম্ভাবনাও থাকে অনেকাংশে।

জীবনে শিক্ষা, পড়াশোনার গুরুত্ব অনস্বীকার্য। কিন্তু এর পাশাপাশি এমন কোনো কাজ যা মেধা বিকাশে সহায়ক তা করাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি বিষয়েরই ভারসাম্য থাকা প্রয়োজন। কেননা কেউ শুধু একটা দিকে বেশি ঝুঁকে পড়লে তার অন্যদিক দুর্বল হয়ে যেতে পারে।

কেউ যদি পড়াশোনায় প্রয়োজনের অতিরিক্ত সময় ব্যয় করে, তাহলে তার ভেতরে লুকিয়ে থাকা সৃজনশীলতা বিকশিত হওয়ার সুযোগ পাবে না। 

সৃজনশীলতা হলো একাধিক প্রতিভা ও গুণের সমষ্টি যে শুধু ব্যক্তিগত উন্নতি সাধনে সহায়ক তা নয় বরং একটি জাতির রুচিবোধ, শিল্পসৌন্দর্য, বিজ্ঞানমনস্কতা ইত্যাদিরও পরিচয় বহন করে। যে জাতি যত বেশি সৃজনশীল, পৃথিবীর বুকে সেই জাতি ততই উন্নত।

শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতির দিক থেকে ইউরোপ পৃথিবীর সবচেয়ে সমৃদ্ধ মহাদেশ। পঞ্চদশ শতকে ইউরোপে যে রেনেসাঁ শিল্পের উদ্ভব ঘটে, তা ইউরোপকে বিশ্বের বুকে উঁচু স্থান দেওয়ার জন্য বিশেষ ভূমিকা পালন করেছে। সেসময়ের মানুষের সৃজনশীলতা আধুনিক যুগেও মানুষের মনে বিস্ময় সৃষ্টি করে। 

Print Friendly and PDF

সর্বাধিক পঠিত