আমার কথা

তাজওয়ান চৌধুরী (১৭), সিলেট

Published: 2020-02-11 17:26:05.0 BdST Updated: 2020-02-11 17:26:05.0 BdST

নারীকে আমরা কেন যেন এখনো স্বাভাবিক মানুষ ভাবতে পারি না। হয় বেশি সহানুভূতি দেখাই নচেৎ বঞ্চিত করি।

নারী-পুরুষকে আমরা যদি কেবল মানুষ ভাবতে পারতাম তাহলে বিষয়টা এমন হতো না। একটা বিষয় সত্য যে, যুগে যুগে নারীকে যে পরিমাণ অবজ্ঞা করা হয়েছে সেই ক্ষতি মেটাতে সব ক্ষেত্রেই ‘স্পেশাল অ্যাটেনশন’ বা বিশেষ আকর্ষণ দরকার নারীর। সেটা পাওয়ার দাবি রাখেন তারা।

আমরা মনে করি নারী-পুরুষের বিভাজনটা মূলত মূর্খ বা অর্ধ শিক্ষিত মানুষজনই বেশি করে থাকে। আমরা শিক্ষিত হচ্ছি, আশায় বুক বাঁধব ভাবি। ভাবি তারা নারীকে শ্রদ্ধা করবেন। কিন্তু এখানে মাঝে মাঝেই হতাশ হতে হয়। অনেক শিক্ষিত মানুষকেই দেখি গণপরিহনে নারী সিটে বসছেন, প্রতিবাদ করতে গেলে উল্টো কথা শুনিয়ে দিচ্ছেন। আসলে জাতিকে সুশিক্ষিত করতে পারলে এই অন্ধকার থেকে আমাদের মুক্তি মিলবে।

কিছু পরিবারকে দেখলে আশাহত হতে হয়। পরিবারের সবাই উচ্চ শিক্ষিত কিন্তু ঘরের মেয়েটিকে তারা সমান সুযোগ দিতে চায় না। অনেক সময় শিশুবিয়ের আয়োজন করতেও তারা দ্বিধা করে না।

অনেক শিক্ষিতও মানুষও এখন মনে করেন হ্যাঁ মেয়ে স্নাতক অবদি পড়ুক, শিক্ষিত হোক কিন্তু তার চাকরি করার দরকার নাই। মেয়ে মানুষ দুর্বল, পরিশ্রম করতে পারবে না ইত্যাদি নানা অজুহাত দেখিয়ে ঘরবন্দীই করে রাখা হয়।

অনেক পরিবার ছেলেকে বিয়ে করানোর সময় বেশ আন্তরিকতা নিয়ে বলে, আমাদের বউকে চাকরি করতে দিব না। শুধু বাচ্চাগুলোকে মানুষ করবে তাতেই আমরা সন্তুষ্ট।

আমি মনে করি মেয়েদের এসব কথায় পা দেওয়া উচিত নয়। নিজে কিছু করার সক্ষমতা অর্জন করতে হবে, দেশের জন্য কিছু করতে হবে। এভাবে ধীরে ধীরে পরনির্ভরশীলতা কমে যাবে। একদিন বিজয় হবে নারীদের।

Print Friendly and PDF

সর্বাধিক পঠিত