আমার কথা

সোহেল রানা (১৭), ঢাকা

Published: 2020-02-04 17:45:54.0 BdST Updated: 2020-02-04 17:45:54.0 BdST

আমাদের উদ্দেশ্য লাউচাপড়া পিকনিক স্পট। এটি জামালপুরে বকশিগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত। আমার গ্রাম থেকে প্রায় ৬৫ কিলোমিটার দূরে।

২০১৩ সালের মাঝামাঝি সময়ের কথা বলছি। তখন আমি পড়ি সপ্তম শ্রেণিতে। বন্ধুরা মিলে দশটি সাইকেলে ১২ জনের একটি দল গ্রাম থেকে রওনা হই। আমি সাইকেল চালাতে পারতাম না, তাই একবন্ধুর সাইকেলে আরোহী হয়ে বসি।

ঘড়িতে সময় সকাল সাড়ে সাতটা। গ্রামের আঁকাবাঁকা কাঁচাপাকা রাস্তা দিয়ে সারি বেঁধে চলছি আমরা। কখনো সবাই মিলে গান করে উদাস করে দিচ্ছি চারপাশ। যাত্রা পথে অনেকেই বলে, এতদূরে সাইকেলে যাওয়া সম্ভব না। তোমরা এখান থেকেই ফিরে যাও। কিন্তু আমরা তাতে কান দেইনি।

দুপুর সাড়ে বারোটার দিকে আমরা পাহাড়ের  প্রবেশ গেটে পৌঁছাই। টিকিট সংগ্রহ করে প্রবেশ করি। যখন পাহাড়ের ভেতর দিয়ে চলছিলাম চারদিকে উঁচু নিচু পাহাড় আর বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালা দেখতে পাই।

গারো সম্প্রদায়ের বাড়িঘর ও তাদের জীবনযাত্রার কিছু চিত্র দেখা যাচ্ছিল। মনটা ছুঁয়ে গেল, প্রকৃতি ও আদিবাসীদের সম্পর্ক কতটা নিবিড়। শুরু হলো ঝুম বৃষ্টি। আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম বৃষ্টিতে ভিজেই আনন্দ করব। দর্শনার্থীদেরও অনেকে ভিজছিল বৃষ্টিতে।

কাদা মাখা রাস্তা দিয়ে পাহাড়ের উপর উঠতে থাকি। বৃষ্টির জন্য একটু কষ্ট হলেও বেশ ভালো লাগছিল। পাহাড়ে ছোট্ট একটা পার্ক ছিল সেখানেও আমরা উল্লাস করি।

লাউচাপড়া থেকে আমরা সবাই বের হয়ে দুপুরের খাবার খেয়ে বাড়ির দিকে রওনা হই। মাঝপথে কাঁঠালবিল এলাকায় এক বন্ধুর আত্মীয়ের বাড়িতেও যাই আমরা।

ফিরতে ফিরতে আমাদের রাত দশটা বেজে যায়। অনেক ক্লান্তি নিয়ে ফিরেছিলাম সেদিন, সঙ্গে এক রাশ সজীবতা।

Print Friendly and PDF

সর্বাধিক পঠিত