আমার কথা

অশেষ লস্কর (১৫), যশোর

Published: 2019-11-05 14:35:00.0 BdST Updated: 2019-11-05 14:35:00.0 BdST

হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা গল্পের মতোই বর্তমান সময়ে শিশুরা যেন স্মার্টফোনের কাছে বশীভূত হয়ে আছে। যা হয়তো আমাদের ভবিষ্যতের জন্য একটি হুমকিও।

হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালার গল্পটি তো সবাই জানি। জার্মানের হ্যামিলন নামের একটি শহরের মানুষ ইঁদুরের উৎপাতে অতিষ্ঠ ছিল। তখন এক বাঁশিওলা তার যাদুকরী বাঁশির সাহায্যে সব ইঁদুরকে বশ করে নিয়েছিল এবং হ্যামিলন শহরকে ইঁদুর মুক্ত করে শহরে শান্তি ফিরিয়ে আনে। তবে শহরের কর্তা শর্ত না মানায় তিনি শহরের শিশুদের বাঁশি বাজিয়ে নিয়ে চলে যান।

সেই বাঁশিওয়ালার বশীকরণের দায়িত্ব যেন নিয়েছে মোবাইল ফোন।

বর্তমান যুগ বিজ্ঞানের যুগ। আর বিজ্ঞানের এই যুগে বিজ্ঞানের অন্যতম একটি উদাহরণ হচ্ছে স্মার্টফোন। যা বর্তমানে আমাদের প্রত্যেকের হাতেই রয়েছে। এমনকি শিশুদের হাতে হাতেও এই স্মার্টফোন পৌঁছে গেছে। প্রযুক্তির ব্যবহার ভালো, কিন্তু আসক্তি কি ভালো?  

শিশুরা খুবই দুরন্ত স্বভাবের হয়ে থাকে। ওদের কাজ ওদের বয়সী অন্যান্য শিশুদের সাথে খেলাধুলা করা, দুষ্টামি করা। কিন্তু কোনো কৌশলে বা কোনোভাবে যদি তারা তাদের হাতে একটি স্মার্ট ফোন পেয়ে যায় তখন তারা সেই স্মার্টফোনের উপর আসক্ত হয়ে যায়। তাই সন্তানের হাতে ফোন না দিয়ে সময় দিন।

আমার ছোট ভাই হচ্ছে এর অন্যতম একটি বড় উদাহরণ। তার নাম অহন। বয়স মাত্র আড়াই বছর। এখনো ঠিক করে কথাও বলতে শেখেনি। যার এই বয়সে বিজ্ঞান কিংবা তথ্যপ্রযুক্তি বা এসব কিছু সম্পর্কে কোনো ধারণা থাকারই কথা না সেখানে সে সুযোগ পেলেই আমার স্মার্টফোনটি ব্যবহার করছে।

এখন সব সময় অপেক্ষায় থাকে কখন আমি আমার ফোনটি রাখবো। সাথে সাথেই ফোনটি খুঁজে বের করে নিয়ে চলে আসে। তারপর টকিং টম, টেম্পেল রানসহ আরও বিভিন্ন গেইমে ঢোকে। ইউটিউবে ঢুকতে চায়, না দিলেই লঙ্কাকাণ্ড!

অহন খুবই দুরন্ত স্বভাবের কিন্তু যখন সে আমার স্মার্টফোনটি ব্যবহার করে তখন সে পুরোপুরি শান্ত, তখন তার মতো শান্ত স্বভাবের একটি ছেলে হয়তো কোথাও খুঁজে পাওয়াই সম্ভব হবে না। কিন্তু তাকে যদি ফোন না দেওয়া হয় তবে সে ভীষণভাবে কান্না শুরু করে। অনেক সময় তাকে ঘুম পাড়ানোর জন্য কিংবা তার কান্না থামানোর জন্য তাকে ফোনটি দিতে হয়।

আবার অহনের বয়সী কোনো ছোট ছেলে বা মেয়ে আসলে কারোর কাছে গেলেই আগে প্রথমে তার হাত থেকে কিংবা পকেট থেকে স্মার্টফোনটি বের করে নেয়। তারপর শুরু হয় গেইম খেলা কিংবা ইউটিউবে কার্টুন দেখা।

একদিকে আমার ছোট ভাই আমার ফোনটি ব্যবহার করে যেমন স্মার্ট হচ্ছে, এই বয়সেই মোবাইল ফোন এবং ইন্টারনেট সম্পর্কে একটি ধারণা রাখছে অন্যদিকে আজ এই ধারণাই তার খারাপ অভ্যাসে পরিণত হচ্ছে।

যা হয়তো তাদের ভবিষ্যৎ সময়ে একটি খারাপ কিংবা মারাত্মক রূপ ধারণ করতে পারে। নতুন প্রজন্ম আজ ধীরে ধীরে স্মার্টফোনের দাসত্বের শিকার হচ্ছে কি?

Print Friendly and PDF

সর্বাধিক পঠিত