আমার কথা

পৃথা প্রণোদনা (১৫), ঢাকা

Published: 2019-03-04 17:48:53.0 BdST Updated: 2019-03-07 01:01:30.0 BdST

আমাদের দেশে টেলভিশন চ্যানেলের সংখ্য ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। এখন চ্যানেলের সংখ্যা এতই বেশি যে, আমরা অনেকেই সব চ্যানেলের নামও জানি না। কিন্তু এর মধ্যে বেশিরভাগ চ্যানেলই হয়ে যাচ্ছে সংবাদভিওিক এবং এদের মধ্যে কিছু বিনোদনের। বিষয়ভিত্তিক চ্যানেলের অভাব বর্তমানে প্রকট। এর মধ্যে শিশুদের উপযুক্ত চ্যানেল নেই বললেই চলে!

বর্তমানে বড়রা যেমন তথ্যের জন্য, বিনোদনের জন্য, টেলিভিশন-ইন্টারনেটের ওপর দৃষ্টি রাখছেন, ঠিক তেমনি দৃষ্টি রাখছে ছোটরাও। অনেক সময় শিশুরা বাবা-মার থেকে তথ্য জানার চেয়ে রেডিও, টিভি ও ইন্টারনেটের ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে যাচ্ছে।

এখন তাদের অবসর কাটে নানা ধরনের ‍বিদেশি কার্টুন ও ভিডিও গেম খেলে। তাদের আচার-আচরণে ওসব মিডিয়ার প্রভাব পড়ে। এছাড়াও গেমসের সহিংস দৃশ্য দেখার মধ্যে দিয়ে শিশুদের মধ্যে একধরনের আক্রমণাত্মক ভাব কাজ করে এসব কারণে দেশপ্রেম, সততা নষ্ট হয়।

এখনো বাংলাদেশে শিক্ষণীয় ও মানসম্মত চ্যানেল নেই বললেই চলে। অথচ শুনেছি যে, শিশুর বিকাশে নাকি গণমাধ্যম অত্যন্ত গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু এটাই কি এর উদাহরণ?

গণমাধ্যমের মাধ্যমে শিশুদেরকে আগামী দিনের জন্য প্রস্তুত করা সম্ভব, শিশুদের নিজ দেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি সম্পর্কে জানানো সম্ভব, শিশুদের আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব কেননা শিশুরা অনুকরণপ্রিয়। যখন একটি শিশু দেখে যে টিভির ভেতরের কার্টুনটা বাবা-মার সাথে ভালো ব্যবহার করেছে, তখন তার মধ্যেও বাবা-মার সাথে এরকম আচরণ করার একটা আগ্রহ কাজ করে। এছাড়াও এর মাধ্যমে শিশুদেরকে স্বাবলম্বী করে তোলা সম্ভব।

যেহেতু, আপনারা জানেন যে শিশুরা টিভি-চ্যানেলসহ বিভিন্ন গণমাধ্যম দ্বারা প্রভাবিত হয়, তাহলে কেন চেষ্টা করেন না এর মাধ্যমেই শিশুকে ভালো কিছু শেখাতে? কেন চেষ্টা করেন না এর মাধ্যমেই শিশুকে একজন ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে।

বর্তমানে শিশুর হাতে একটা মোবাইল ফোন দেখলেই বাবা-মা মনে করেন যে শিশু খারাপ হয়ে যাচ্ছে, শিশু প্রযুক্তিতে আসক্ত হয়ে যাচ্ছে। এগুলোর কারণ হলো এখন পর্যন্ত গণমাধ্যমে শিশুদের গুরত্ব কম, শিশুরা পিছিয়ে। যেস্পব টিভি শো, গেইমস, অ্যাপস ইত্যাদি গড়ে উঠছে-এর বেশিরভাগই বড়দের জন্য, শিশুরা এগুলো দেখে অভ্যস্ত হয়ে যাচ্ছে। আর যখন ছোট একটি শিশু এগুলো দেখে অভ্যস্ত হয়ে যাচ্ছে, তখন বড়রা তাকে ‘ইচড়ে পাকা’ বা ‘বয়সের তুলনায় বেশি বুঝে’ ইত্যাদি কথা বলে সম্বোধন করছে।

এই বিষয়গুলো নিয়ে প্রতিনিয়ত টক-শো হচ্ছে, বিভিন্ন প্রোগ্রাম হচ্ছে এবং যতক্ষণ এসব টক-শো, প্রোগ্রাম হচ্ছে ততক্ষণ বড়দের মনে শিশুদের জন্য একধরনের সহমর্মিতা কাজ করে। কিন্তু তারপর? অনুষ্ঠান শেষে সকলে আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসছে। তাহলে কি আমি একজন শিশু হয়ে বড়দের কাছে প্রশ্ন করতে পারি যে আমাদেরকে নিয়ে কি আপনারা আসলেই ভাবেন? নাকি তা নামে মাত্র?

প্রত্যেক বুদ্ধিমান ও সচেতন মানুষ বলে থাকেন যে, ‘শিশুরা আগামী দিনের ভবিষ্যৎ’।কিন্তু আমরা যদি দেশের ভবিষ্যৎ হয়ে থাকি, তাহলে আমাদের প্রতি আপনাদের আলাদা গুরত্ব নেই কেন?

শিশুদেরকে বিকশিত হওয়ার জন্য কিছু পথ খুলে দিন। যার মাধ্যমে তারা দেশের ভবিষ্যতে পরিণত হতে পারবে। আর না হলে তাদের মনে সবসময় একটা প্রশ্নই থেকে যাবে। আর তা হলো-গণমাধ্যমের দায়িত্বপ্রাপ্ত মানুষেরা আমাদেরকে দিয়ে তাদের টিভি শো, নাচ, গান ইত্যাদি করায়। কিন্তু দিনশেষে আমরা একজন ‘শিশু’ হিসেবেই বাড়ি ফিরে আসি, যাকে নিয়ে বাংলাদেশের গণমাধ্যমগুলোর কোনো পরিকল্পনা নেই। আসলেই কি গণমাধ্যম আমাদের কথা ভাবে?

Print Friendly and PDF

সর্বাধিক পঠিত