আমার কথা

শাহিন আলম (১৭), সাতক্ষীরা

Published: 2019-01-29 18:08:02.0 BdST Updated: 2019-01-29 18:08:02.0 BdST

শিক্ষা জীবনের শুরু থেকে অর্থাৎ সেই প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শুরু করে কলেজ পর্যন্ত অসাধারণ কিছু শিক্ষক পেয়েছি। তাদের ছাত্র হতে পেরে আমি গর্বিত।

তবে যদি সবচেয়ে প্রিয় শিক্ষক সম্পর্কে বলতে হয় তাহলে একজন শিক্ষকের কথাই আমি বলব। যিনি আমার এই ক্ষুদ্র জীবনের চলার পথে সবচেয়ে বেশি প্রেরণা ও উৎসাহ জুগিয়েছেন। আমার সেই প্রিয় শিক্ষকের নাম কামরুল ইসলাম।

২০০৮ সাল। চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ি। সেই বছরের মাঝামাঝি সময়ে বাবা বাসায় একজন শিক্ষক নেন আমার জন্য। শিক্ষক প্রথম দিন আসলেন, আমি নম্রতার সঙ্গে তার কাছে পড়া শুরু করি। নতুন শিক্ষকের যে দিকটি আমার সবচেয়ে ভালো লাগতে শুরু হলো তা হলো গল্পের ছলে পড়ানোর কায়দাটা। তাছাড়া তার হাতের লেখার প্রেমে পড়ে যাই। কী দুর্দান্ত তার লেখার ধরণ।

২০০৯ সালে প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় আইলা আঘাত আনে দক্ষিণ অঞ্চলের মানুষের উপর। কিছু দিন পর আমার সমাপনী পরীক্ষা৷ নিজের গ্রামটাকে দেখে মনে হতো ছোট্ট একটি সমুদ্র। রাতে ঘুমাতে হতো ভাসমান খাটের উপর। সেই সময়ে রাস্তা ঘাটের কোনো অস্তিত্ব ছিল না কেথাও।

কোথাও হাঁটু আবার কোথাও গলা পর্যন্ত পানি সাঁতরে স্যার চলে আসতেন আমাদের বাসায় আমাকে পড়াতে। কখনও পুরো কাপড় ভিজে যেত আবার কখনও আধ ভেজা হয়ে চলে আসতেন বাসায়।

বিদুৎবিহীন গ্রামে হারিকেনের আলোয় পড়তে হতো আমাকে। কোনো কোনো দিন পড়াতে পড়াতে অনেক রাত হয়ে যেত। তিনি টর্চলাইট জ্বালিয়ে বাড়ি ফিরতেন।

এভাবে সংগ্রাম করে তিনি পড়িয়েছেন। কোনোদিন বিরক্তির ছাপ আমি তার মুখে দেখিনি। তার কাছে কত বার দুষ্টামির জন্য পিটানি খেয়েছি তা মনে নেই। পরক্ষণে কাছে ডেকে নিয়ে ভালোবাসা দিয়ে বুঝিয়েছেন। সব সময় কাছে টেনে নিয়েছে সব সমস্যার কথা শুনেছেন এবং তার সমাধান করে দিয়েছেন।

কষ্টের দামও আমি দিয়েছিলাম বৃত্তি পেয়ে। তারপর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা একটু স্বাভাবিক হতে স্যার আমাকে তার বাসায় নিয়ে আমাকে পড়াতে চাইলেন, বাবাও রাজি হলেন। বাসায় তার সন্তানের মতো আমাকে পড়াতে লাগলেন। সেখানেই আমার থাকা খাওয়ার ব্যবস্থাও হলো। তিনি ছিলেন আমার দ্বিতীয় অভিভাবক।

অন্য কোনো শিক্ষকের পড়ানোর কৌশল আমার ভালো লাগতো না। একমাত্র কামরুল ইসলাম স্যার যার কাছে যে কোনো বিষয় নিয়ে গিয়ে না বুঝে ফিরে আসিনি।

তিনি আমার প্রিয় শিক্ষক কামরুল ইসলাম। আমি তার দীর্ঘজীবন কামনা করি।

Print Friendly and PDF

সর্বাধিক পঠিত