আমার কথা

সোহেল রানা (১৫), জামালপুর

Published: 2018-12-04 18:12:21.0 BdST Updated: 2018-12-04 18:12:21.0 BdST

জীবন চলার পথে কত মানুষের সাথে দেখা ও পরিচয় হয়, কত জনই ঝড়ে যায়, কেউ আবার সময়ের সাথে জুড়ে থাকে। আবার কেউ আপনজনের মতো বন্ধু হিসেবে হৃদয়ে লেগে থাকে।

বন্ধু মানেই একলা দুপুর, সুখ দুঃখের সঙ্গী, বিপদ ও আপদে এগিয়ে এসে পাশে দাঁড়ানো। তেমনি আজকে আমার এক বন্ধু আছে। ওর নাম আসাদুল্লাহ শাকিল।

সে হলো আমার জীবনের প্রথম বন্ধু। আমাদের দুইজনের বন্ধুত্ব একযুগেও বেশি সময় ধরে চলছে। এর মাঝে ছড়িয়ে আছে নানার সুখ, দুঃখ ও স্মরণীয় ঘটনা। তার সাথে আমার প্রথম পরিচয় কখন কীভাবে হয়েছিল মনে নাই কিন্তু বন্ধুত্বের শুরু ২০০৬ সালেই, তখন আমরা শিশু শ্রেণিতে পড়তাম।

সেই থেকে তিলে তিলে গড়ে উঠেছে আমার পাহাড়সম এই বন্ধুত্ব। আমরা একে অপরে হাত  ধরে ঘুরে বেড়াতাম।

আমার বাবা বা ওর বাবা কোন খাবার নিয়ে আসলে আমরা বাড়িতে না খেয়ে স্কুলে গিয়ে একসাথে বসে ভাগাভাগি করে খেতাম।

এই ভাবে যতই দিন বেড়ে যায়, ততই বন্ধুত্ব ঘনিষ্ঠ হয়। সে আমার শুধু একজন ভালো বন্ধু হয় না, সে আমার রক্তের সম্পর্কের কেউ না হয়েও আত্মীয়। তার মাও আমাকে অনেক আদর ও ভালোবাসেন।

আমাদের দুজনের মধ্যে অনেক মিল। আমরা দুজনে ঘুরে বেড়াতে ভালোবাসি, প্রকৃতি ভালোবাসি।আগে স্কুলের পড়া শেষ করে দুজনে বেড়িয়ে পড়তাম গ্রাম ঘুরতে। গ্রামের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত ছুটে বেড়াতাম দুজন।

একটি স্মরণীয় ঘটনা বলি। ২০১৬ সালে আমার কঠিন অসুখ হয়, তাকে এই কথাটা জানাতেই সে আমার বাড়িতে এসে চিকিৎসার জন্য ক্লিনিকে নিয়ে যায়। এখানে বলে নেই আমার মা ঢাকায় পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। আমি বাড়িতে দাদির কাছে থাকতাম। আমাকে হাসপাতাল থেকে বাড়ি এনে বাড়িতেও সেবা যত্ন করে।

আমাদের এই বন্ধুত্ব শুধু আমাদের মধ্যে সীমাবদ্ধতা নয়, দুই পরিবারেও ছড়িয়ে পড়েছে। আমিও যেন ওদের পরিবারেই একজন সদস্য এমন মনে হয়।

এই বন্ধুত্বে কতবার ভুল বোঝাবুঝি ঝগড়া হয়েছে, কিন্তু কেউ কাউকে ভুলে যাইনি। আমি কখনো ভালো কাজ করতে গেলে বা করলে সামনে দিকে এগিয়ে চলার জন্য আমাকে উৎসাহিত করে ও, এটা আমার অনেক ভালো লাগে।

Print Friendly and PDF

সর্বাধিক পঠিত