আমার কথা

শেখ আব্দুল্লাহ ইয়াছিন (১৫), চট্টগ্রাম

Published: 2018-06-13 18:24:21.0 BdST Updated: 2018-06-13 18:41:53.0 BdST

বাবা প্রবাসী ছিলেন। তাকে ছেলেবেলায় কাছে পাইনি। আর তাই চাচার সঙ্গেই ঈদগাহে যেতাম।

ঈদের দিন আম্মু সক্কাল বেলাতেই ঘুম থেকে ডেকে দিতেন। সকালের ঠাণ্ডায় গোসল করা সম্ভব হতো না। মা গরম পানি দিলে তা দিয়ে গোসল সেরেই সেমাই দিয়ে নাস্তা। তারপর ঈদগাহের দিকে হাঁটা দিতাম।

আমার বন্ধুরা যখন বাবার হাত ধরে ঈদগাহে যেত, আমি চেয়ে চেয়ে দেখতাম। আমার সে সুযোগ ছিল না।

নামায পড়ে ঘরে এসেই দেখতাম বোনেরা আম্মুকে সালাম করছে। সবাই বেশি বেশি করে সেলামি নিয়ে নিচ্ছে তখন আমি দূরে গিয়ে দাঁড়াতাম তারপর মাকে জড়িয়ে ধরে মুখে সালাম দিতাম। মা হেসে সেলামি দিয়ে দিতেন। সেলামি হাতে নিয়ে তা কয়েকবার নিজে গুণে দেখে নিতাম তার পরে বোনদের দেখাতাম।

বছর ঘুরে আবার আসছে খুশির ঈদ। আজ শৈশবের ঈদের দিনগুলোর কথা বেশি বেশি মনে পড়ছে।

রোজার শুরু থেকেই বোনদের কেনাকাটা শুরু হতো আর শেষ রোজা পর্যন্ত তা চলত। মাকের্টে যেতে বোনদের বায়নার শেষ ছিল না। কিন্তু কেনাকাটা করার ব্যাপারটা আমায় তেমন টানত না।

মাকের্টের ভিড়ভাট্টা আমার কাছে খুব বিরক্তিকর জায়গা ছিল। তবুও মায়ের বকাবকিতে যেতেই হতো। তবে মাকের্টে গিয়ে কাপড় না কিনে খাবার কিনে দেওয়ার জন্য বায়নার কথা আজও মনে পড়ে হাসি পায়।

শেষ রোজায় সব সময় অপেক্ষায় থাকতাম চাঁদ দেখতে ছাদে যাব। কিন্তু কি কারণে মনে নাই, হয়ত দেরি হয়ে যেত তাই চাঁদ আর দেখা হতো না। কিন্তু সবার সঙ্গে গলা মিলিয়ে ঈদ মোবারক ঈদ মোবারক বলে চিৎকার শুরু করে দিতাম।

রাতে আতশবাজির শব্দে মন আর ঘরে থাকতে চাইত না। কিন্তু আম্মুর ভয়ে বের হতে পারতাম না। সেই শব্দে আর স্বপ্নে একটা কাব্য তৈরি হয়ে যেত।

মার বানানো চটপটি আমার খুব প্রিয়। বসে বসে চটপটি খেতাম আর প্ল্যান করতাম কোথায় কোথায় যাব, কত টাকা জমবে। কিন্তু আমি বুঝে উঠতে পারতাম না, আমার সাথে বৃষ্টির কি শত্রুতা।

ঈদের দিনের বৃষ্টি আমার প্ল্যান সব ধুয়ে দিত। রাগ করে বিছানায় শুয়ে থাকতাম। রাগ ভাঙাতে আব্বু আমাকে বিদেশ থেকে কল করতেন। সেই সুযোগে আব্বুকে জানিয়ে দিতাম, আমার জন্য কী আনতে হবে।

বৃষ্টি শেষ হলেই চাচাসহ অন্য প্রতিবেশিদের বাড়ি ঘুরে আসতাম। অনেক অনেক সেলামি পেতাম। কিন্তু খালার বাড়ি যেতে হতো পরদিন। বৃষ্টিকে অভিসম্পাত দিতে দিতে ঘুমিয়ে পড়াতাম পরের দিন খালার বাড়ি যাওয়ার স্বপ্ন চোখে নিয়ে।

Print Friendly and PDF

সর্বাধিক পঠিত