আমার কথা

মারিয়া সুলতানা মৌরি (১৪), নীলফামারী

Published: 2018-04-09 19:51:21.0 BdST Updated: 2018-04-09 21:00:06.0 BdST

কার পা কৈশোরে? কারা এই কিশোর বা কিশোরী? এ প্রশ্নের উত্তর, আমি নিজেই একজন কিশোরী। তাই আমার ভাবনা আর বোঝাপড়া শেয়ার করছি হ্যালোতে।

সাধারণত ১০ থেকে ১৯ বছর বয়সটাই কৈশোরকাল এরকমই বলে থাকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ইউএনও)। তাদের মতে এ বয়সসীমার মাঝের সবাই কিশোর বা কিশোরী।

এটাই প্রস্ফুটিত ও বিকশিত হবার বয়স। চোখেমুখে সজীবতার ঝিলিক। কারণে অকারণে ওরা এই বয়সে হাসে-কাঁদে।

আমি নিজে কৈশোর কাল পার করছি তাই জানি, এ সময়কাল সবকিছু ভালোলাগার। জাগে দুরন্তপনা। মনের মধ্যে উচ্চারিত হয়, ‘থাকব না কো বদ্ধ ঘরে দেখব এবার জগৎটাকে’। আবার  একই সঙ্গে দেহে ও মনে এসে ভর করে লজ্জা, দ্বিধা ও ভয়ও।   

একই সঙ্গে চঞ্চল ও শংকিত এই কিশোর-কিশোরীরা ভাবতে থাকে, কি জানি কি হয়! শারীরিক ও মানসিকভাবে ভীষণ রকম এক পরিবর্তনের মাঝে এসে দাঁড়ায়। এসে যায় শারীরিক ও মানসিক সমস্যা, আসে সামাজিক ও পারিবারিক বিধিনিষেধ। জীবনের গতি তারুণ্যের দিকে মোড় নিতে থাকে।  

এ সময় জীবনের বিকাশ কৈশোরের ছায়ায় খানিক আলোছায়ায় ঘেরা। আলো কম, ছায়া বেশি।

পরিবার থেকে তার এ মধুর কৈশোর কৌশলে ছিনিয়ে নেয়া হয়। সে হয়ে ওঠে আষ্টেপৃষ্ঠে বাঁধা বাংলাদেশের কিশোরী। আমি নিজেও কিশোরী। আর এভাবেই কৈশোর পার করছি এক পা দু পা করে।  

কিন্তু কিশোররা হতে চায় বাধা বন্ধনহীন। চায় অ্যাডভেঞ্চার, রোমাঞ্চ। তাদের স্বাধীনতা খানিক বেশি।

এ সময় কিশোর কিশোরীদের মধ্যে ভালবাসা, ঘৃণা, ঈর্ষা, রাগ, ভয়, টেনশন, বোধগুলি তীব্র হয়ে ওঠে। যার ফলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে তাদের আচরণ খানিক পালটে যায়।

এ সময় শুরুতে ভালবাসার প্রকাশ যেমন দাবানলের মত জ্বলে উঠতে পারে; রাগ প্রকাশেও চলে আসতে পারে উগ্রতা। তীব্র আনন্দ অথবা তীব্র ব্যথার বেদনায় কাতর হয়ে যেতে পারে কৈশোরে বা বয়ঃসন্ধিকালে।  

আমি জেনেছি, বয়ঃসন্ধিকাল হচ্ছে পূর্ণবয়স্ক মানুষ হয়ে ওঠার মাঝামাঝি সময়। এই সময়ে শরীর ও মনে নানা পরিবর্তন আসে। সাধারণত ছেলেদের ক্ষেত্রে পরিবর্তন আসে ৯-১৪ বছরের মধ্যে আর মেয়েদের ৮-১৩ বছর। পূর্ণতা পেতে আরও প্রায় পাঁচ বছর সময় লাগে।

Print Friendly and PDF

সর্বাধিক পঠিত
  • ফরিদপুরের শিশু পার্ক (ভিডিওসহ)

    ফরিদপুরের শেখ রাসেল শিশুপার্কটি জেলার শিশুদের একমাত্র বিনোদন কেন্দ্র।

  • অপরূপ শ্বেতপদ্ম (ভিডিওসহ)

    ধান, নদী, খালের অপরূপ সৌন্দর্যে পূর্ণ বরিশাল। ছল ছল শব্দে নদীর বয়ে চলা, চোখ জুড়ানো ধানের ক্ষেতে প্রজাপতির লুকোচুড়ি খেলা, মৃদু বাতাসে দু’একটা শিরীষ পাতা বা হিজলের লালচে ফুলের পানিতে ঢলে পড়া আবার গাঙ ফড়িং এর চঞ্চল উড়াউড়ি, তার ভেতরে পদ্মপাতায় সাপ আর ভ্রমরের খেলা কি নেই এই বরিশালে। যেখানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য কড়া নাড়ে সব বাঙালির হৃদয়ে।

  • কল্যাণপুর বস্তিতে নেই সরকারি স্কুল

    রাজধানীর কল্যাণপুর বস্তিতে সরকারি স্কুল না থাকায় অনেক শিশু শিক্ষা বঞ্চিত হচ্ছে বলে মনে করছেন অনেক বস্তিবাসী।