অন্য চোখে

মেহেদী হাসান (১৬), বরিশাল  

Published: 2017-08-19 22:04:11.0 BdST Updated: 2017-08-19 22:05:59.0 BdST

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদারদের নৃশংস গণহত্যার ছবি নিয়ে ‘স্টপ জেনোসাইড’ নামে মুক্তিযুদ্ধের প্রথম প্রামাণ্য চলচিত্র তৈরি করেন জহির রায়হান।

১৯৫৬ সালে জাগো হুয়া সাবেরা (পদ্মা নদীর মাঝি উপন্যাসের উর্দু সংস্করণ) ছবিতে সহকারী পরিচালক হিসেবে চলচ্চিত্রের জগতে পা রাখেন।

‘হাজার বছর ধরে’ ‘বরফ গলা নদী’ ‘আরেক ফাল্গুন’-এর মতো কালজয়ী উপন্যাসের রচয়িতাও তিনি।

একাধারে ঔপন্যাসিক ও চিত্র পরিচালক এই সৃষ্টিশীল মানুষটি ১৯৩৫ সালের ১৯ অগাস্ট জন্ম নেন।

তারপর ১৯৬১ সালে ‘কখনও আসেনি’ এরপর ‘সোনার কাজল’, ‘কাচের দেয়াল’, ‘বেহুলা’, ‘জীবন থেকে নেয়া’, ‘আনোয়ারা’, ‘সঙ্গম’ ও ‘বাহানার’ মত বহু সিনেমা পরিচালনা করেন।

লেখালেখির শুরু ছাত্রজীবনেই। ‘সূর্য সংগ্রাম’, ‘তৃষ্ণা’, ‘শেষ বিকেলের মেয়ে’, ‘হাজার বছর ধরে’, ‘আরেক ফাল্গুন’, ‘বরফ গলা নদী’, ‘কতগুলো মৃত্যু’ এবং ‘আর কত দিন’-এর মত বিখ্যাত সব  লেখার স্রষ্টা জহির রায়হান।

চলচ্চিত্রকার ও লেখক ছাড়াও জহির রায়হান একজন ভাষাসৈনিক।

১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি প্রথম যে ১০ জন ১৪৪ ধারা ভেঙেছিলেন তিনিও তাদের মধ্যে একজন। ১৯৬৯ এর গণঅভ্যুত্থানের সাথেও তিনি যুক্ত ছিলেন। আর এ কারণে তাকে কারাবরণও করতে হয়।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ যখন স্বাধীনতা সংগ্রামে অস্ত্র হাতে যুদ্ধ না করলেও ক্যামেরা নিয়ে তার কাজ করেছেন।

তার পুরো নাম ছিল মোহাম্মদ জহিরউল্লাহ। পিতার চাকরিসূত্রে তার স্কুলজীবনের বেশিরভাগ সময় কলকাতায় কাটলেও ১৯৫০ সালে আমিরাবাদ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রিক ও ঢাকা কলেজ থেকে আইএসসি পাশ করেন।  

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে বাংলায় স্নাতক (সম্মান) ডিগ্রি লাভ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় জড়িয়ে পড়েন বামপন্থী রাজনীতি ও সাংবাদিকতায়।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী জহির রায়হানের বড় ভাই লেখক শহীদুল্লা কায়সার অপহৃত হন। ঘটনাক্রমে তাকে খুঁজতে গিয়ে, ১৯৭২ সালের ৩০ জানুয়ারি থেকে জহির রায়হান নিজেই নিখোঁজ হন। 

সাহিত্য সাধনার স্বীকৃতি হিসেবে আদমজী সাহিত্য পুরস্কার, বাংলা একাডেমী পুরস্কার (মরণোত্তর), একুশে পদক (মরণোত্তর), স্বাধীনতা দিবস পুরস্কারসহ (মরণোত্তর) বিভিন্ন পুরস্কার পান।

Print Friendly and PDF

সর্বাধিক পঠিত