আমার কথা

সুদীপ বিশ্বাস (১৫), গোপালগঞ্জ

Published: 2017-04-08 20:35:44.0 BdST Updated: 2017-04-08 20:35:44.0 BdST

আনা ফ্রাঙ্কের ডায়েরি পড়েছি, জাহানারা ইমামের একাত্তরের দিনগুলো পড়েছি।  এই বইগুলো আমার প্রিয়। তবে আমার মায়ের লেখা দিনলিপি আমার কাছে সবচেয়ে প্রিয়।

ছোটবেলা থেকে দেখে আসছি মা মোটা একটা কর্ণফুলী কাগজে বানানো খাতায় দিনলিপি লেখেন।

তবে কখনও আমার মা তার ডায়েরিটি আমাকে পড়তে দেননি।

মা বলেন, ‘অন্যের ডায়েরি কখনও পড়তে হয় না, বাবা। আমি যখন আকাশের তারা হয়ে যাব তখন পড়িস।’

তবে কদিন আগে আমি আর লোভ সামলাতে পারিনি। সময় পেয়ে একদিন আমি মায়ের ডায়েরি পড়ে ফেলি। জানি কাজটা খুব খারাপ করেছি। এজন্য আমি অনুতপ্তও বটে।

মা যখন কলেজে পড়তেন তখন থেকেই ডায়েরি লেখেন। সেই ১৯৮৬ সালের কথা।

আমার মা স্কুল শিক্ষক। রোজ স্কুল থেকে ফিরে বাড়ির সব কাজ করে প্রতিদিন রাতে মা তার ডায়েরি লেখেন।

বেগম রোকেয়া বলেছেন, মেয়েরা লিখতে বসলে ছেঁড়া চটি থেকে সুতো, কিছুই বাদ যায় না।

ঠিক সেভাবেই আমার মায়ের ডায়েরিতেও সবার কথা আছে।  আমি যখন ছোট ছিলাম মাকে শুধু প্রশ্ন করে বিরক্ত করতাম। মা সে কথাও ডায়েরিতে লিখে রেখেছেন। আমি, বাবা এবং দিদি অসুস্থ হয়ে পড়লে মা যেসব কথা চিন্তা করতেন আমাদের জন্য তা বুঝতে দিতেন না।  কিন্ত ঠিক তার কষ্টের কথা, দুঃখের কথাও লিখে রেখেছেন।

আমার ক্লাসে প্রথম হওয়ার কথা, বৃত্তি পাওয়ার কথা সব। হ্যালোতে লিখছি, সাংবাদিকতা করছি মা তাও লিখে রেখেছেন।

মাকে আমি খুবই ভালোবাসি। মা আমার সবচেয়ে বড় শিক্ষক, সবচেয়ে বড় বন্ধুও।

মায়ের সাথে সময় কাটাতে আমার খুব ভালো লাগে। আমরা প্রায়ই ‘শব্দার্থ বলো’ খেলা খেলি। বই থেকে কঠিন অপ্রচলিত একটা শব্দ নিয়ে মাকে জিজ্ঞাসা করি, সাথে সাথে মা উত্তর দিয়ে দেন। আমি অবাক হলে মাও আমাকে পাল্টা প্রশ্ন করেন।

আমিও ডায়েরি লিখি। প্রতিদিনের গল্প, নানা ঘটনা লিখে রাখি। যেদিন বড় হব সেদিন এই ডায়েরি খুলে হাত ছোঁয়াব এই মধুর শৈশব ও কৈশোরে।

Print Friendly and PDF

সর্বাধিক পঠিত
  • আনুমানিক দুইশ বছরের পুরনো আমগাছ

    ঠাকুরগাঁও জেলায় প্রায় দুই বিঘা জুড়ে আছে একটি আমগাছ। দেখলে মনে হয় বিরাট এক আম বাগান। কিন্তু অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, এই মহীরূহের বয়স আনুমানিক দুইশ বছরের কম নয়।

  • ধিক্কার: বঙ্গবন্ধু হত্যার খবরকে অবহেলা করেছিল যারা

    শুধু রাজনীতি নয়, সংবাদপত্রের কাজের সঙ্গেও বঙ্গবন্ধুর সম্পৃক্ততা ছিলো। জীবনের কর্মযজ্ঞে কখনও পত্রিকার মালিক, কখনও সাংবাদিক, কখনও পূর্ব পাকিস্তান প্রতিনিধি, কখনও বা পরিবেশক ছিলেন তিনি। দরকারে হকারিও করেছেন।

  • দৃষ্টিহীনতা দমাতে পারেনি রফিকুলকে

    কুড়িগ্রামের রফিকুল ইসলাম দৃষ্টি প্রতিবন্ধী হয়েও তার ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর আবর্জনা রিসাইকেল করে তিনি নিত্য ব্যবহারের জিনিস তৈরি করে বাজারজাত করছেন।