বিশ্বজুড়ে

মুহাম্মাদ শরিফুজ্জামান বাপ্পি (১৬), রাজশাহী

Published: 2020-05-02 13:22:12.0 BdST Updated: 2020-05-02 13:22:12.0 BdST

নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর থেকেই বিশ্বজুড়ে ভাইরাস প্রতিরোধী মাস্কের সংকট দেখা দেয়। বাজারে নানা রকমের মাস্ক থাকলেও বিশেষ কয়েকটি মাস্ক ছাড়া বাকিগুলো ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়ার জীবাণু প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে না।

তবে ভাইরাস প্রতিরোধী মাস্ক তৈরির দাবি করেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বর্ধমান জেলার দিগন্তিকা বসু।

এই মাস্ক তৈরির জন্য জাতীয়ভাবে স্বীকৃতিও পেয়েছে বর্ধমানের বিদ্যাসাগর স্মৃতি বিদ্যামন্দির ইন্সটিটিউশনের একাদশ শ্রেণির এই শিক্ষার্থী।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য স্টেটসম্যানের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

কয়েক সপ্তাহ আগে ভারতের ন্যাশনাল ইনোভেশন ফাউন্ডেশন (এনআইএফ) করোনাভাইরাস বিষয়ক একটি প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। সেখানে অনেকে অংশগ্রহণ করে করোনাভাইরাস মোকাবিলায় তাদের উদ্ভাবনী চিন্তা তুলে ধরে। ক্ষুদে বিজ্ঞানী দিগন্তিকা তাদের মধ্যে অন্যতম একজন।

দিগন্তিকার তৈরি করা মাস্কের নাম হলো 'এয়ার প্রোভাইডিং অ্যান্ড ভাইরাস ডেস্ট্রয়িং মাস্ক'।

মাস্কটির কর্মপদ্ধতি নিয়ে দিগন্তিকার দাবি, "এটি দ্বিস্তর বিশিষ্ট মাস্ক যাতে দুটো একমুখী ভাল্ব ও ফিল্টার দুদিক দিয়ে লাগানো থাকে। বায়ু প্রথমে ফিল্টারে প্রবেশ করে। যদি সেখানে ভাইরাস থাকে তবে সেটা সঙ্গে সঙ্গে ধ্বংস হয়ে যায়। পরিশোধিত বায়ু ভাল্বের মধ্যে দিয়ে দেহে প্রবেশ করে।

"উল্টোভাবেও এটি সফল। কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত রোগীর হাঁচি-কাশিতে ভাইরাসের অস্তিত্ব থাকে। মাস্কের একমুখী ভাল্ব সেটাকে আটকে দেয় এবং লিপিড অনু ধ্বংস করার মাধ্যমে ভাইরাসের কার্যকারিতা নষ্ট হয়, সর্বোপরী ভাইরাসটি ধ্বংস হয়ে যায়। পরিশোধিত বায়ু দেহের বাইরে নির্গত হয়।

"এই মাস্ক শুধু ভাইরাস প্রতিরোধই করতে পারে না, ভাইরাস ধ্বংস করতেও পারে। মাস্কের ফিল্টারে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে ভাইরাসটি ধংস হয়ে যায়।"

দিগন্তিকা আরো জানায়, মাস্কটি বিশেষ করে চিকিৎসাকর্মী ও করোনা আক্রান্ত রোগীদের সহায়তার জন্য তৈরি করা। চিকিৎসা সেবা দিতে গিয়ে কোনো চিকিৎসাকর্মী যাতে করোনা আক্রান্ত না হয় কিংবা করোনা আক্রান্ত রোগীর দ্বারা অন্য কেউ যাতে সংক্রমিত না হয় এই চিন্তাভাবনা থেকেই মাস্কটি তৈরি।

তার বাবা সুদীপ্ত বসু বলেন, "আমি সত্যিই গর্বিত। এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আমার মেয়ের এই কাজ দেশকে তথা পুরো বিশ্বকে সাহায্য করবে।”

এর আগে ২০১৬ সালে দিগন্তিকা মৌমাছি পালনকারীদের জন্য বিশেষভাবে নকশাকৃত এক ধরণের মাস্ক তৈরি করেছিল।

২০১৭ সালে সে 'ডাস্ট কালেক্টিং অ্যাটাচমেন্ট ফর ড্রিলিং মেশিন' নামের একটা দূষণরোধী যন্ত্র তৈরি করে। অভিনব এ উদ্ভাবনের স্বীকৃতিস্বরূপ সে 'এপিজে আবুল কালাম ইগনাইট অ্যাওয়ার্ড-২০১৭' লাভ করে।

Print Friendly and PDF

সর্বাধিক পঠিত