বিশ্বজুড়ে

মুহাম্মাদ শরিফুজ্জামান বাপ্পি (১৫), রাজশাহী

Published: 2019-06-27 16:41:52.0 BdST Updated: 2019-06-27 16:41:52.0 BdST

দৃষ্টি, শ্রবণ ও বাক প্রতিবন্ধী হেলেন কেলার আজন্ম লড়াই করে গেছেন। কখনো নিজের জন্য, কখনও বা প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য।

হেলার কেলার একজন মার্কিন লেখিকা ও সমাজসেবী। তার পুরো নাম হেলেন অ্যাডামস কেলার। সমাজতান্ত্রিক রাজনীতির সঙ্গেও তিনি জড়িত ছিলেন।

তিনি ১৮৮০ সালের ২৭ জুন যুক্তরাষ্ট্রের আলবামায় জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম আর্থার কেলার এবং মায়ের নাম কেইট অ্যাডামস।

মাত্র ১৯ মাস বয়সে হেলেন কেলার গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। অনেক চিকিৎসার মাধ্যমে হেলেনকে বাঁচানো গেলেও তিনি তার বাক, শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তি চিরদিনের জন্য হারিয়ে ফেলেন।

ছোটবেলা থেকেই হেলেন কেলার প্রতিবন্ধীত্ব নিয়ে বড় হতে থাকেন। যদিও তিনি এই প্রতিবন্ধীত্বকে অভিশাপ হিসেবে দেখেননি। হেলেন কেলার ছোটবেলা থেকেই তীক্ষ্ণ বুদ্ধিসম্পন্ন ছিলেন।

আট বছর বয়সে এনি সুলিভান নামের এক গৃহশিক্ষকের কাছে হেলেন কেলারের পড়াশোনার হাতেখড়ি হয়। তার গৃহশিক্ষক নিজেও একজন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ছিলেন। 

এনি সুলিভান হেলেনের হাতে আঙুল দিয়ে চিহ্ন এঁকে এবং বর্ণমালা কার্ড দিয়ে বর্ণমালা শেখান। এরপর হেলেন ব্রেইল পদ্ধতিতে পড়াশোনা করেন। নরওয়েতে উদ্ভাবিত পদ্ধতি অনুসরণ করে হেলেন কথা বলা শেখেন।

১৯০০ সালে হেলেন রেডক্লিফ কলেজে ভর্তি হন। সেখানে তিনি বিখ্যাত লেখক মার্ক টোয়েনের সঙ্গে পরিচিত হন। তিনি ১৯০৪ সালে মাত্র ২৪ বছর বয়সে প্রথম দৃষ্টি প্রতিবন্ধী হিসেবে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।

স্নাতক ডিগ্রি লাভের আগেই তার প্রথম বই 'দ্য স্টোরি অব মাই লাইফ' প্রকাশিত হলে তিনি রাতারাতি জনপ্রিয় হয়ে যান।

তিনি আজন্ম সমাজের প্রতিবন্ধী শিশুদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে কাজ করে গেছেন। এতে তিনি বেশ সফলতা অর্জন করেন। তিনি বিখ্যাত অনেক ব্যক্তিদের অকুণ্ঠ সমর্থন পেয়েছেন।

প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য তিনি ১৯১৫ সালে জর্জ কেসলার নামের এক ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে 'হেলেন কেলার ইন্টারন্যাশনাল' নামে এক আন্তর্জাতিক সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন। সংস্থাটি সৃষ্টি লগ্ন থেকেই প্রতিবন্ধী শিশুদের নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি সমাজতান্ত্রিক রাজনীতিতে বিশ্বাসী ছিলেন। তিনি সবসময় আয়ের সুষম বণ্টন দেখতে চাইতেন। তাই ধনতান্ত্রিক রাজনীতি তিনি একেবারেই পছন্দ করতেন না।

তার প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা ১২টি। তারমধ্যে 'দ্য স্টোরি অব মাই লাইফ', 'লেট আস হ্যাভ ফেইথ', 'ওপেন দ্য ডোর' ইত্যাদি বেশ জনপ্রিয়। হেলেন কেলার তার জীবদ্দশায় অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।

১৯৬৮ সালের পহেলা জুলাই ৮৮ বছর বয়সে অদম্য এই নারী পরলোকগমন করেন। প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য তিনি যা করে গেছেন, সেটা তাকে ইতিহাসের পাতায় অমর করে রেখেছে।

Print Friendly and PDF

সর্বাধিক পঠিত