বিশ্বজুড়ে

জারিফ সিনদিদ (১৪), ঢাকা

Published: 2018-04-01 21:12:18.0 BdST Updated: 2018-04-01 21:12:18.0 BdST

বাল্যবিয়ে হলো আইন অনুসারে নির্দিষ্ট বয়স সীমায় পৌঁছানোর আগেই বিয়ে দেওয়া হলে। সাধারণত এ বয়স সীমা মেয়েদের ক্ষেত্রে ১৮ ও ছেলেদের ২১ বছর।

বর্তমানে জাতিসংঘের শিশু সংস্থার মতে বিশ্বব্যাপী উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে বাল্যবিয়ের সংখ্যা।

সম্প্রতি এক জরিপে ইউনিসেফ দাবি করেছে, বিগত একদশকে প্রায় ২৫ মিলিয়ন বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে চোখে পড়ার মতো উন্নতি হয়েছে দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর মধ্যে।

ইউনিসেফের জরিপ অনুযায়ী, বিগত দশক থেকে বাল্যবিয়ে কমেছে শতকরা ১৫ শতাংশ। আগে চার জন কিশোরীর মধ্যে একজন কিশোরীর বাল্যবিয়ে হতো। বর্তমানে তা পাঁচ জন কিশোরীর মধ্যথেকে ১ জন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে এ সংখ্যাটি শূন্যতে নিয়ে যাবার কথা বলেছে ইউনিসেফ।

ইউনিসেফের প্রিন্সিপাল জেন্ডার অ্যাডভাইজার অঞ্জন মালহোত্রার ভাষ্যমতে, “শৈশবেই যখন কোনো মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার জন্য বাধ্য করা হয়, মেয়েটি বহুমূখী প্রতিকূলতার সম্মুখীন হয় যা তাকে সারা জীবন বয়ে নিতে হয়।”

তিনি বলে, “তার স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। সে সন্তান ধারণ করে ফেলে। এক্ষেত্রে সামাজিকভাবে দারিদ্র্যও বৃদ্ধি পায়।

“প্রতিটি বাল্যবিয়ে রোধের মাধ্যমে একটি মেয়ে তার স্বপ্ন পূরণের সুযোগ পায়, মেয়েটি নতুন করে বাঁচে।”

ইউনিসেফের নতুন তথ্যানুসারে, বর্তমান বিশ্বে মেয়েদের ক্ষেত্রে প্রতিবছর প্রায় ১২ মিলিয়ন মেয়েদের বয়সের আগেই বিয়ে দেওয়া হয়, যা পূর্বের তুলনায় তিন মিলিয়ন কম। তবে ২০৩০ সালের মধ্যে বাল্যবিয়ের সংখ্যা শূন্যে নিয়ে আসতে পারলে জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যের অন্যান্য লক্ষ্যমাত্রা ত্বরান্বিত হবে। যদি বাল্যবিয়ের অবসান না ঘটে তাহলে জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যের ১৭টির মধ্যে আটটি লক্ষ্যই অপূরণীয় থেকে যাবে।

কিন্তু পুরো বিশ্বজুড়ে বাল্যবিয়ের মাত্রা কমলেও আফ্রিকা মহাদেশে এর মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে৷ বিশেষত সাহারা অঞ্চলে।

আগে এ অঞ্চলে প্রতি পাঁচজন কিশোরীর মধ্যে একজন বাল্যবিয়ের শিকার হলেও বর্তমানে তা প্রতি তিন জন কিশোরীর মধ্য থেকে একজনে দাঁড়িয়েছে। যা কিনা উদ্বেগের বিষয়।

বাল্যবিয়ে মেয়ে এবং ছেলে উভয়ের জীবনেই নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বিশেষত মেয়েদের জীবনে বেশি প্রভাব ফেলে। বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ ও সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে।

Print Friendly and PDF

সর্বাধিক পঠিত
  • ইংরেজির বড়াই

    ‘আগে চাই বাংলা ভাষার গাঁথুনি, তারপর ইংরেজি ভাষার পত্তন’ বলেছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। প্রত্যেক দেশের মানুষেরেই একটি নির্দিষ্ট ভাষা রয়েছে, নির্দিষ্ট সংস্কৃতি রয়েছে। তবে আজ আমরা অনেকেই আমাদের ভাষা, সংস্কৃতিকে ভুলতে বসেছি। বর্তমানে নিজ দেশের সংস্কৃতি ও ভাষার তুলনায় আমরা অন্য দেশের ভাষা ও সংস্কৃতি মেনে চলতে বেশি ভালোবাসি, স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি!

  • মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে নাই যুদ্ধ সরঞ্জাম (ভিডিওসহ)

    চার বছর আগে টাঙ্গাইলে যুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণ করতে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স তৈরি করা হলেও সেখানে এখনও ঠাই পায়নি কোনো স্মৃতি বা যুদ্ধ সরঞ্জাম।

  • ফুটবল নিয়ে কুরুক্ষেত্র 

    খেলা বিনোদনের সেরা মাধ্যম। আমরা চার বছর অন্তর অন্তর ফিফার বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখার জন্য অপেক্ষায় থাকি।