বিশ্বজুড়ে

সাদিক ইভান (১৬), ঢাকা

Published: 2017-05-23 20:44:15.0 BdST Updated: 2017-05-23 20:44:15.0 BdST

কবর বা দাহ পদ্ধতির বিকল্প হিসেবে মৃতদেহ 'গলিয়ে ফেলার' নতুন সৎকার পদ্ধতি চালু করা হয়েছে।

আমেরিকা এবং কানাডায় এই বিকল্প চালু হয়েছে। কিছুদিনের মধ্যে ব্রিটেনেও চালু হবে বলে জানা গেছে।

প্রাচীনকাল থেকেই ধর্মবিশ্বাস অনুসারে ওই পদ্ধতিগুলো প্রচলিত ছিল। তবে এবার যোগ হলো এই নতুনত্ব।

বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানায়, অনেকেই একে বলছেন পরিবেশ-বান্ধব সৎকার বা 'গ্রিন ক্রিমেশন'। যাতে কবরের জন্য জায়গা খরচ হবে না। মৃতদেহ পোড়ানোর জন্য কাঠ, আগুন বা ধোঁয়া বা বিদ্যুৎ খরচের ঝামেলাও থাকবে না।

এ্যালকালাইন হাইড্রোলাইসিস নামের এই পদ্ধতিতে একটি ট্রে-তে শুইয়ে মৃতদেহটি 'এ্যালকালাইন হাইড্রোলাইসিস' মেশিনের ভেতরে ঢুকিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয়া হয়। এরপর তা উচ্চ তাপে একটি শক্তিশালী হাইড্রক্সাইড দ্রবণে ডুবিয়ে রাখা হয়। কয়েক ঘন্টার মধ্যে মাংসপেশী গলে তা একটি স্বচ্ছ বাদামি তরল পদার্থে পরিণত হয়ে যায়।

এরকম ১৪টি সৎকার কেন্দ্র এখন বিভিন্ন দেশে চালু রয়েছে বলেও বিবিসির ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

ছয় ফিট উচু, চার ফিট চওড়া এবং ১০ ফিট গভীরতা সম্পন্ন 'এ্যালকালাইন হাইড্রোলাইসিস' মেশিনটি তৈরি করেছে একটি ব্রিটিশ কোম্পানি।

যন্ত্রটির সামনের দিকে একটি গোল দরজা রয়েছে। যা অনেকটা ব্যাংকের ভল্ট বা সাবমেরিনের দরজার মতো।

রেসোমেশন নামের ব্রিটিশ কোম্পানিটি চলতি বছরের শেষ নাগাদ বার্মিংহ্যাম শহরের কাছে আরো একটি মেশিন বসাতে যাচ্ছে।

আমেরিকার মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের স্টিলওয়াটারের এমনি একটি সৎকারকেন্দ্রে কর্মরত 'জেসন ব্রাডশ'।

তিনি জানান, একটা কবরে মৃতদেহ যেভাবে প্রাকৃতিকভাবে পচে গলে মাটির সাথে মিশে যায়, এই মেশিনের ভেতরে ঠিক সেই প্রক্রিয়াটাই ঘটে। তবে তা ঘটে কৃত্রিমভাবে এবং অনেক দ্রুতগতিতে।

ব্রাশড জানান, একটি মৃতদেহের হাড় ছাড়া পুরো শরীরটা তরলে পরিণত হতে সময় লাগে মাত্র ৯০ মিনিট থেকে চার ঘন্টা পর্যন্ত। এর পর দরজা খুলে হাড়গুলো সংগ্রহ করা হয় এবং তা আরেকটি যন্ত্রের সাহায্যে ময়দার মতো চূর্ণে পরিণত করা হয়।

ডাচ গবেষক এলিজাবেথ কেইৎজার বলেন, পরিবেশগত প্রতিক্রিয়া পরীক্ষা করে দেখা গেছে কবর বা দাহের তুলনায় এর প্রতিক্রিয়া অনেক অনেক কম।

খরচের দিক থেকেও এ্যালকালাইন হাইড্রোলাইসিসের খরচ কবর বা দাহের তুলনায় অতি সামান্য বলেও জানান এই ডাচ গবেষক।

সৎকার কেন্দ্রগুলোর কর্মকর্তারা বলছেন, যারা কবর দিতে চান না, তাদের মধ্যে ৮০ শতাংশই এখন এটা পছন্দ করছেন। যা তাদের বেশ অবাক করেছে।

Print Friendly and PDF

সর্বাধিক পঠিত