খেজুরের রসে নিপা ভাইরাসের ঝুঁকি (ভিডিওসহ)

একটু সচেতন হলেই প্রতিরোধ করা সম্ভব বাদুরবাহী এ ভাইরাস।

খেজুরের রস না খেলে শীতের আমেজ যেন অপরিপূর্ণই থেকে যায়। কিন্তু এক্ষেত্রে একটু অসতর্কতায় রয়েছে নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ১৯৯৯ সালে মালয়েশিয়ায় সর্বপ্রথম নিপা ভাইরাস শনাক্ত হয়। বাংলাদেশে আসে ২০০১ সালে। সর্বপ্রথম মালয়েশিয়ায় ভাইরাসটি শনাক্ত হলেও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে বিবেচনা করা হয় বাংলাদেশকে। নিপা ভাইরাস শনাক্ত হওয়ার অনেক বছর পেরিয়ে গেলেও তৈরি হয়নি এ রোগের কার্যকর কোনো প্রতিষেধক। বিশেষজ্ঞদের মতে এ রোগে আক্রান্ত রোগীদের মৃত্যু হার ৪০ থেকে ৯০ শতাংশ।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের আরেকটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, এ ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার প্রাথমিক লক্ষণ জ্বর। আক্রান্ত ব্যাক্তি মানসিক অস্থিরতায় ভুগতে পারেন। এক পর্যায়ে খিচুনি এমনকি মস্তিস্কে ভয়াবহ প্রদাহ দেখা দিতে পারে।

নিপা ভাইরাস মূলত বাদুরের মাধ্যমে ছড়ায়। সাধারণত ডিসেম্বর থেকে এপ্রিল মাসের মধ্যে বাংলাদেশে নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর খবর পাওয়া যায়। ঠিক সেই সময়টাতেই খেজুরের রস সংগ্রহ করে থাকেন কৃষকরা। বাদুর গাছে বাধা হাড়ি থেকে রস খাওয়ার সময় বাদুরের লালা সেই রসের সাথে মিশে যেতে পারে। অনেকসময় বাদুর রসের হাড়িতে মূত্রও ত্যাগ করে থাকে। বাদুরটি যদি নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে থাকে তবে সেই হাড়ির রস পান করলে মানুষও নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে বলে জানান বিশেষজ্ঞরা। আক্রান্ত মানুষ থেকেও মানুষে ছড়ায় এ রোগ।

গবেষকদের মতে, ৭০ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ফোটানো হলে খেজুরের রসের মাধ্যমে নিপা ভাইরাস ছড়ানোর আশঙ্কা থাকে না। তাই কাঁচা রস খাওয়া পরিহার করতে হবে। রস খাওয়ার বা সংরক্ষণের পাত্রগুলো খুব ভালোভাবে জীবাণুমুক্ত করে ব্যাবহার করার মাধ্যমেও এ ভাইরাস থেকে নিরাপদে থাকা যায়।

আক্রান্ত ব্যক্তির অসাবধানতার ফলেও ছড়াতে পারে নিপা ভাইরাস। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘন ঘন হাত ধোয়া, রোগীর পাত্র থেকে খাবার না খাওয়া, থুথু, কফ ইত্যাদি যেখানে সেখানে না ফেলা এবং আক্রান্ত ব্যাক্তি থেকে তিন ফুট দূরত্বে অবস্থান করে নিপা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধ করা যায়।

নিপা ভাইরাস ছড়ানোর সবচেয়ে বড় মাধ্যম খেজুরের রস। শীতকালে খেজুরের রস পান করে অনেকেই নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছেন। কোনো প্রতিষেধক টিকা বা ঔষধ না থাকায় জীবন বাঁচানোর জন্য নিপা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধ করতে হবে। আমরা একটু সচেতন হলেই প্রতিরোধ করা সম্ভব বাদুরবাহী এ ভাইরাস।

প্রতিবেদকের বয়স: ১৪। জেলা: জামালপুর থেকে।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.

সর্বাধিক পঠিত

No stories found.
bdnews24
bangla.bdnews24.com