অন্য চোখে

আজমল তানজীম সাকির (১২), ঢাকা

Published: 2015-07-31 16:01:29.0 BdST Updated: 2020-05-21 11:47:22.0 BdST

বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁষা বাংলাদেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কথা বলতে গেলে প্রথম দিকেই থাকে ঘূর্ণিঝড়।

প্রলয়ঙ্কারী ঘূর্ণিঝড়গুলোর আঘাতে বহুবার ক্ষত বিক্ষত হয়েছে বাংলার সবুজ বুক। ঘূর্ণিঝড়ে কেউ হারিয়েছে প্রাণ, কেউ হারিয়েছে ঘর-বাড়ি, সহায়-সম্বল। 

এমন ঘূর্ণিঝড়গুলোর মধ্যে ১৯৭০ সালের 'ভোলা ঘূর্ণিঝড়'-এর নাম উপরের দিকেই থাকবে। এই ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়তে হয় প্রায় ৩৬ লক্ষ মানুষকে। বিধ্বংসী এ ঘূর্ণিঝড়ে প্রাণ হারান প্রায় পাঁচ লক্ষ মানুষ। চার লক্ষাধিক ঘর-বাড়ি বিধ্বস্ত হয় এ ঝড়ে। ঘূর্ণিঝড়ের সময় বয়ে যাওয়া ঝড়ো হাওয়ার সর্বোচ্চ বেগ ছিল ঘণ্টায় ২২২ কিলোমিটার। শিক্ষাখাতেও বেশ প্রভাব ফেলে এই ঘূর্ণিঝড়। ক্ষতি হয় সাড়ে তিন হাজারের বেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের।

১৯৮৫ সালের মে মাসে ঘূর্ণিঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয় সন্দ্বীপ, হাতিয়া ও উড়িরচর এলাকা; সেই ঝড়ে প্রাণ হারান ঊপকূলের ১১ হাজার ৬৯ জন বাসিন্দা।

১৯৮৮ সালের নভেম্বরে ঘূর্ণিঝড় লণ্ডভণ্ড করে দিয়ে যায় যশোর, কুষ্টিয়া, ফরিদপুর এবং বরিশাল ও খুলনা অঞ্চলের উপকূলীয় এলাকায়। বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৬২ কিলোমিটার। সেই ঘূর্ণিঝড়ে ৫ হাজার ৭০৮ জনের মৃত্যু হয়।

এরপর ১৯৯১ সালের ৩০ এপ্রিল বাংলাদেশ দেখে ঘূর্ণিঝড়ের ভয়ঙ্কর রূপ। এর মাঝে কিছু ঘূর্ণিঝড় হলেও, কোনোটি এটির মতো ধ্বংসাত্মক ছিল না। এ ঘূর্ণিঝড় নিয়ে এনডিটিভির করা এক বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয় এই বছরের মে মাসে। ওই প্রতিবেদনে সেই সময়ে করা একটি ভিডিও দেখানো হয়।

সেখানে একজন ভুক্তভোগী ঘূর্ণিঝড়ের ভয়াবহতা বোঝাতে গিয়ে বলেন, “প্রথমে খুব জোরে বাতাস বইছিল। তারপর টাইফুন শুরু হয়। আমরা কোনোমতে জীবন বাঁচিয়ে আশ্রয় নিই। ফিরে এসে ঘর-বাড়ি বা কোনো খাবার কিছুই পাইনি। সবই বিলীন হয়ে গিয়েছে।"

আরেকজন বলেন, “এখানে অনেকগুলো মৃতদেহ ছিল। কিছু ছিল মানুষের আর কিছু গরু-ছাগলের।"

প্রতিবেদনে বলা হয় এক লক্ষ ৩৫ হাজার থেকে দেড় লাখের মতো মানুষের প্রাণ কেড়ে নেয় এ ঘূর্ণিঝড়।

২০০৭ সালে আবারো ঘূর্ণিঝড়ের নিষ্ঠুরতার সাক্ষী হয় বাংলাদেশ। ইউএসএইডের তথ্য অনুসারে তিন হাজার ৩৪৭ জন প্রাণ হারান এ ঘূর্ণিঝড়ে।

রিলিফ ওয়েবের প্রতিবেদন বলে, ১০০১ জন মানুষের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। আমাদের দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চল 'সিডর' নামের এ ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বাংলাদেশে বাতাসে এর সর্বোচ্চ গতি ছিল ঘণ্টায় ২১৫ কিলোমিটার।

এর দুই বছর পর আঘাত হানে 'বিজলী' ও 'আইলা' নামের দুইটি ঘূর্ণিঝড়। তবে তুলনামূলকভাবে বিজলীর চেয়ে আইলা বেশি ভয়ানক ছিল।

২০০৯ সালের ২৫ মে আইলা আমাদের দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে আঘাত হানে। এ ঘূর্ণিঝড়ে ১৯০ জন মানুষ প্রাণ হারান। আর আইলার কারণে ক্ষতি হয় প্রায় ছয় হাজার কিলোমিটার রাস্তার।

এছাড়া কোমেন, হুদহুদ, মহাসেন, ফণি, বুলবুলের মতো আরো কিছু ঘূর্ণিঝড় রয়েছে যা আঘাত হানলেও এক সময় দুর্বল হয়ে যাওয়ায় বড় কোনো ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। 

Print Friendly and PDF

সর্বাধিক পঠিত