শিশুশ্রম আর নয়

একটি দেশের উন্নয়ন নির্ভর করে সে দেশের জনশক্তি কতটুকু কর্মঠ ও দক্ষ তার ওপর।
শিশুশ্রম আর নয়

যে দেশের জনশক্তি কর্মঠ হয় সে দেশ অধিক উন্নত হয়। কিন্তু তার জন্য শিশুদের কোনোভাবেই কাজে নিয়োগ করা যাবে না।

১৯৮৯ সালে জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদে শিশুশ্রম সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার করা হয়েছে। বাংলাদেশ এই সনদে ১৯৯০ সালে সাক্ষর করেছে। এই সনদ অনুযায়ী, স্থানীয় পরিস্থিতি বিবেচনা করে সদস্য রাষ্ট্রগুলো শিশুশ্রমের জন্য বয়স, বিশেষ কর্মঘণ্টা ও নিয়োগে যথার্থ শর্তাবলী নির্ধারণ করবে।এছাড়াও শিশুর সুরক্ষা, বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা ইত্যাদি বিষয়ে অঙ্গীকার করা হয়েছে যা পরোক্ষভাবে শিশুশ্রম নিরসনে সহায়তা করবে।

২০২২ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, শিশুদের কাজে যোগ দেওয়ার বয়স ‘বিশেষ বিবেচনায়’ শিথিল করে সর্বনিম্ন ১৪ বছর নির্ধারণ করা শিশুশ্রম বিষয়ক আইএলও সনদের অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

প্রতিবেদনটিতে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলামের বক্তব্য তুলে ধরা হয়। যেখানে শিশুশ্রমের ন্যূনতম বয়স সংক্রান্ত শর্তগুলো তুলে ধরেন।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, “এখানে তিনটা জিনিস আছে। একটা হল জেনারেল ভিউটা হল, যেহেতু বেসিক এডুকেশন করতে ১৫ বছর লাগে সুতরাং ১৫ বছরের কম কোনো বাচ্চাকে কাজে লাগানো যাবে না।

“দুই নম্বরে আরেকটু রিল্যাক্স করেছে, তবে কোনো দেশের যদি আর্থ সামাজিক অবস্থা বিশেষ বিবেচনার পরিপ্রেক্ষিতে তারা কমাতে চায় তাহলে ১৪ বছর পর্যন্ত কমানো যাবে, এর উপর না।

“তিন নম্বরে বলেছে, এই যে ১৪ হোক বা ১৫ই হোক এই শিশুদের কোনো অবস্থাতেই কোনো ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োগ করা যাবে না।”

নবম-দশম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় বইতে উল্লেখ আছে, বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬-এ শিশুদের ন্যূনতম বয়স ১৪ আর কিশোরদের  বয়স ১৪-১৮ নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে ১৪ বছরের কম বয়সীদের কাজে নিয়োগ করা যাবে না। শিশুর অভিভাবক কাজ করানোর জন্য কারো সাথে কোনো প্রকার চুক্তি করতে পারবে না।

শ্রমে জড়িয়ে পড়লে শিশুর মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি হয় এবং পড়াশোনা থেকে দূরে সরে যেতে বাধ্য হয় একটি শিশু। যা আমাদের দেশের ভবিষ্যৎকে হুমকিতে ফেলবে।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.

সর্বাধিক পঠিত

No stories found.
bdnews24
bangla.bdnews24.com