ঠাকুরগাঁওয়ে শত বছরের 'জ্বীনের মসজিদ' (ভিডিওসহ) - hello
অন্য চোখে

শেখ নাসির উদ্দিন (১৭), টাঙ্গাইল

Published: 2021-02-21 22:05:38.0 BdST Updated: 2021-02-21 22:05:38.0 BdST

ঠাকুরগাঁওয়ে 'জ্বীনের মসজিদ' নামে পরিচিতি পাওয়া ধর্মীয় স্থাপনাটি দেখতে আসেন অনেকে।

এই মসজিদটি নিয়ে কথিত আছে, কোনো এক অমাবস্যার রাতে জ্বীন-পরীরা এলাকার ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়ার সময় এলাকাটিকে পছন্দ করে। তারপর মাটিতে নেমে এসে মসজিদ নির্মাণের কাজ শুরু করে, কিন্তু গম্বুজ তৈরির আগেই ভোর হয়ে যাওয়াতে কাজ অসমাপ্ত রেখে চলে যায়। ফলে গম্বুজ ছাড়া দাঁড়িয়ে থাকে মসজিদটি। স্থানীয়দের এমন বিশ্বাসের কারণে মসজিদটি সবার কাছে জ্বীনের মসজিদ নামে পরিচিত। 

জেলা সদর থেকে উত্তর-পূর্ব দিকে ২৩ কিলোমিটার দূরে পঞ্চগড়ের বোদায় যাওয়ার পাঁকা রাস্তা থেকে খোলা মাঠে চোখ রাখলে একটু দূরে লাল ইটের তৈরি বিশাল গম্বুজের মসজিদে চোখ আটকে যাবে। আর এটিই শত বছরের 'জ্বীনের মসজিদ'। যার আসল নাম ছোট বালিয়া জামে মসজিদ।

মসজিদ নির্মাণের সঠিক সাল নিয়ে মতবিরোধ থাকলেও এর গায়ে ১৩১৭ বঙ্গাব্দ মানে ১৯১০ খ্রিষ্টাব্দ লেখা। তবে স্থানীয় ও মেহের বকসের আত্মীয়-স্বজনদের মতে উনবিংশ শতাব্দীর শেষ দিকে বালিয়া মসজিদের নির্মাণ কাজ শুরু হয় এবং মেহের বকসের মৃত্যুর সময়েই মসজিদটির বেশির ভাগ কাজ শেষ হয়।

মেহের বকস চৌধুরীর ষষ্ঠ প্রজন্মের বংশধর আফগান চৌধুরী বলেন, "আমাদের প্রথম পুরুষ নির্মাণ কাজ শুরু করলেও তিনি কাজ শেষ করতে পারেনি। এরপর ১৪০ বছর পরিত্যাক্ত অবস্থায় মসজিদটি পড়ে থাকে। এজন্য লোকে জ্বীনের মসজিদ বলে, যা তথ্যটি সঠিক নয়।"

জানা যায়, জমিদার মেহের বকস চৌধুরী উনবিংশ শতাব্দী শেষ ভাগে বালিয়াতে এক মসজিদ তৈরির পরিকল্পনা করেন। এজন্য দিল্লির আগ্রা মতান্তরে মুর্শিদাবাদ থেকে স্থপতি আনা হয়। মুঘল স্থাপত্যের রীতির নকশায় মসজিদ তৈরি করাটা ছিল অনেক জটিল ও অনেক সময়ের ব্যাপার। হঠাৎ প্রধান স্থপতির মৃত্যুর ফলে মসজিদ নির্মাণের কাজ থেমে যায়।

মেহের বকস স্থানীয় কারিগরদের সহায়তায় আবার মসজিদ নির্মাণের কাজ শুরু করেন। কিন্তু স্থানীয় কারিগরগণ মসজিদের গম্বুজ নির্মাণে ব্যর্থ হন। ১৯১০ সালে মেহের বকস চৌধুরী মৃত্যুবরণ করেন। এরপর তার ছোট ভাই কয়েক বছর পর মসজিদটি নির্মাণের জন্য আবারও উদ্যোগ নেন।

চুন সুরকির লাল ইটের নান্দনিক এই মসজিদটি দেখতে প্রতিদিন ভিড় করে অনেক মানুষ।

হাবিবুর রহমান নামে একজন দর্শনার্থী হ্যালোকে বলেন, "আমি পাশের জেলা পঞ্চগড় থেকে এসেছি মসজিদটি দেখতে। মুসলিমের ইতিহাস কতটা সমৃদ্ধ ছিল তা এই মসজিদ দেখল বুঝা যায়। খুব ভালো লেগেছে।"

আজিজুল হক নামে আরেকজন দর্শনার্থী বলেন, "অনেকের কাছে শুনেছি পুরাতন মসজিদটির ব্যাপারে। আসব আসব বলে আসা হচ্ছিল না ফাইনালি আজ এসে খুব ভালো লাগছে। পাঁকা রাস্তা থেকে মসজিদের আসার রাস্তাটাও পাঁকা করা উচিত।"

এই মসজিদের ইমাম হ্যালোকে বলেন, "১১ বছর ধরে এখানে ইমামতি করছি। প্রতিদিন অনেক মানুষ আসে এবং তারা জানতে চায়। এটা আসলেই জ্বীনের মসজিদ কি না। এটি কোন জ্বীনের নয় এটা মানুষের ভ্রান্ত ধারণা।"

Print Friendly and PDF

সর্বাধিক পঠিত