অন্য চোখে

সাগরিকা ইসলাম মিনহা (১৬), ঢাকা

Published: 2020-01-19 16:38:04.0 BdST Updated: 2020-01-19 16:48:15.0 BdST

ছোটবেলা থেকেই বাংলার এতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্র ঢোল বাজিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন কামরুল হাসান নামের এক ব্যক্তি।

জানান, ক্রমেই আধুনিক বাদ্যযন্ত্রের ভীড়ে হারিয়ে যেতে বসেছে ঢোল। তিনিও বেছে নিয়েছেন অন্য পেশা।

আগের দিনের মতো এখন আর দেশীয় বাদ্যযন্ত্রের তেমন চাহিদা নেই। হাতে গোনা কিছু অনুষ্ঠান ছাড়া ঢুলিদের এখন দেখা মেলে না।

আগে বিভিন্ন জায়গায় বসত দেশীয়-লোকজ গানের আসর। বিয়ের আসর ছাড়াও বিভিন্ন প্রচার-প্রচারণার ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা হত ঢোল। যাত্রাপালা থেকে শুরু করে পূজার অনুষ্ঠানে ঢাকের ব্যবহার ছিল পুরো অনুষ্ঠান জুড়েই।

এখন পূজার সময় ঢাকের দেখা মিললেও বাকি আয়োজনগুলোতে ঢোলে উপস্থিতি বিলুপ্তির পথে।

কামরুল হাসানের দলে তিন বছর ধরে ঢোল বাজান সাইফুল ইসলাম। বাবার হাত ধরেই শিখেছেন ঢোল বাজানো।

তিনি বলেন, “বর্তমানে হইল গানের সিজন। গরমের দিনে বেশি একটা থাকে না। তখন চলার জন্য আমি ইলেকট্রিকের কাজ করি।

“শীতের সিজনে আসি ঢোল বাজাই। ব্যান্ড পার্টিতেও আমরা থাকি। কারণ ঢোলটা ছাড়া আসলে ফুটে না। একরাতে প্রোগ্রাম করলে আমাদের পনের শ থেকে দুই হাজারের মতো টাকা থাকে। টিভি প্রোগ্রাম করলে তিন-চার হাজার থাকে।”

বাংলার ঐতিহ্যবাহী এই বাদ্যযন্ত্র বাজাতে পেরেই খুশি থাকেন কামরুল হাসানের দল। তবে আধুনিক বাদ্যযন্ত্রের সঙ্গে তাল মেলাতে না পেরে ঢুলিদের মূল ব্যবসা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

ঢোল বাদক কামরুল হাসান বলেন, “ঘরে ঘরে এখন ইন্টারনেট, মানুষের হাতে হাতে এখন মোবাইল। যে কারণে আমাদের বাংলার যে ঐতিহ্যবাহী বাউল গান, এটার প্রচার একবারেই কম। গান যদি না হয় তাহলে আমাদের বাজনা তো কেউ শুনবে না। আমাদের এখানে যদি একটু মনোযোগ দিত তাহলে বাউল সংগঠনের অনেক উপকার হইত।”

Print Friendly and PDF

সর্বাধিক পঠিত