অন্য চোখে

রাফসান নিঝুম (১৭), ঢাকা

Published: 2019-12-11 15:59:53.0 BdST Updated: 2019-12-22 16:57:43.0 BdST

মুক্তিযুদ্ধে অসীম সাহসীকতার জন্য যে সাতজন শহীদকে বাংলাদেশ সরকার বীরশ্রেষ্ঠ খেতাবে ভূষিত করেছেন তাদের মধ্যে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান একজন।

মোহাম্মদ হামিদুর রহমানের জন্ম ১৯৫৩ সালের ২ ফেব্রুয়ারি, তৎকালীন যশোর জেলার মহেশপুর উপজেলার খর্দ খালিশপুর গ্রামে৷ বাবা আব্বাস আলী মণ্ডল এবং মা মোসাম্মাৎ কায়সুন্নেসা৷

হামিদুর রহমান ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টে সিপাহী হিসাবে যোগ দেন। সেনাবাহিনীতে যোগ দেয়ার পর প্রশিক্ষণের জন্য তাকে পাঠানো হয় চট্টগ্রামের ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট সেন্টারে৷ 

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আক্রমণের মুখে তিনি গ্রামে পালিয়ে আসেন৷ বিদায়ের সময় তিনি তার মাকে বলে এসেছিলেন, “দেশকে শত্রুমুক্ত করে বাড়ি ফিরব।”

সেখান থেকে তিনি সিলেট জেলার শ্রীমঙ্গল থানার ধলই চা বাগানের পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত ধলই বর্ডার আউটপোস্টে চলে আসেন যুদ্ধে অংশ নেওয়ার জন্য৷ চার নং সেক্টরে যুদ্ধ করেন তিনি৷ সেই বছরের অক্টোবর মাসে তিনি প্রথম ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টের সি কোম্পানির হয়ে ধলই সীমান্তের ফাঁড়ি দখল করার অভিযানে অংশ নেন। 

২৮ অক্টোবর প্রথম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট ও পাকিস্তান বাহিনীর ৩০-এ ফ্রন্টিয়ার রেজিমেন্টের সাথে সংঘর্ষ সৃষ্টি হলে তিনি পাহাড়ি খালের মধ্য দিয়ে বুকে ভর দিয়ে হেঁটে গ্রেনেড নিয়ে পাক বাহিনীর মেশিনগান পোস্টে আক্রমণ শুরু করেন। ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ১২৫ জন মুক্তিযোদ্ধা এই যুদ্ধে অংশ নেয়।

তিনি গুলিবিদ্ধ হওয়ার আগে সফলভাবে দুইটি গ্রেনেড মেশিনগান পোস্টে আঘাত হানাতে সক্ষম হন। মেশিনগান পোস্টে তিনি দুইজন পাকিস্তানি সেনা সদস্যর সাথে হাতাহাতি যুদ্ধ শুরু করেন। এক আক্রমণের মাধ্যমে হামিদুর রহমান এক সময় মেশিনগান পোস্টকে (এলএমজি) অকার্যকর করে দিতে সক্ষম হন।

এই সুযোগে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে পরাস্ত করে সীমানা ফাঁড়িটি দখল করেন। কিন্তু ততক্ষণে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। ফাঁড়ি দখলের পরে মুক্তিযোদ্ধারা শহীদ হামিদুর রহমানের লাশ উদ্ধার করে। 

বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহি হামিদুর রহমানের মৃতদেহ সীমান্তের অল্প দূরে ভারতীয় ভূখণ্ডের ত্রিপুরা রাজ্যের স্থানীয় এক পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়৷ ২০০৭ সালের ১০ ডিসেম্বর বাংলাদেশের তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাংলাদেশ রাইফেলসের একটি দল ত্রিপুরা সীমান্ত দিয়ে হামিদুর রহমানের দেহাবশেষ গ্রহণ করেন। যথাযোগ্য মর্যাদার সাথে কুমিল্লার বিবিরহাট সীমান্ত দিয়ে শহীদের দেহাবশেষ বাংলাদেশে নিয়ে আসেন। ১২ ডিসেম্বর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ঢাকার বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।  

তার এ ত্যাগের প্রতি সম্মান দেখিয়ে তার নিজ গ্রাম 'খর্দ খালিশপুর' এর নাম পরিবর্তন করে 'হামিদনগর' রাখা হয়। সেখানে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে 'বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান স্মৃতি জাদুঘর ও পাঠাগার'।  এছাড়া শ্রীমঙ্গলের ধলই সীমান্তে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে 'বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান স্মৃতিসৌধ'। 

যুদ্ধে তার অসামান্য বীরত্বের জন্য তাকে ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়৷ 

Print Friendly and PDF

সর্বাধিক পঠিত