অন্য চোখে

সাহিদ ইসলাম (১৫), ঢাকা

Published: 2019-11-13 18:17:58.0 BdST Updated: 2019-11-13 18:17:58.0 BdST

হুমায়ূন আহমেদের ৭১ তম জন্মদিন বুধবার।

১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর বাবা ফয়জুর রহমান আহাদ ও মা আয়েশা ফয়েজের ঘর আলো করেন হুমায়ূন আহমেদ। নেত্রোকোণার কুতুবপুর উপজেলার কেন্দুয়া গ্রামে তার জন্ম। বাবার চাকরির সূত্রে হুমায়ূন আহমেদ জন্মের পর সিলেটে থাকেন।

১৯৬৫ সালে বগুড়া জিলা স্কুল থেকে তিনি এসএসসি পাস করেন ৷ ঢাকা কলেজ থেকে ১৯৬৭ সালে তিনি এইচএসসি পাস করেন৷ এইচএসসি পরীক্ষাতেও তিনি মেধা তালিকায় স্থান করে নেন৷ ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগে৷

১৯৭২ সালে রসায়ন বিভাগ থেকে কৃতিত্বের সাথে স্নাতকোত্তর পাশ করে তিনি একই বিভাগের প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন৷ পরবর্তীতে ১৯৮২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ডাকোটা স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে প্রফেসর যোসেফ এডওয়ার্ড গ্লাসের তত্ত্বাবধানে পলিমার কেমিস্ট্রিতে পিএইচডি ডিগ্রি নেন৷

পেশাগত জীবনে হুমায়ুন আহমেদ ছিলেন একজন শিক্ষক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগে তিনি দীর্ঘদিন অধ্যাপনা করেছেন।

হুমায়ূন আহমেদ লেখালেখিতে অধিক সময় এবং চলচ্চিত্রে নিয়মিত সময় দেবার জন্য পরবর্তীতে অধ্যাপনা ছেড়ে দেন।

তরুণ বয়সেই কলম হাতে তুলে নেন তিনি। তার প্রথম উপন্যাস ‘নন্দিত নরকে’ বেশ জনপ্রিয়। পরে এ উপন্যাসের কাহিনী অবলম্বনে চলচ্চিত্রও নির্মাণ করা হয়। তার দ্বিতীয় গ্রন্থ ‘শঙ্খনীল কারাগার’। তার রচিত গ্রন্থের সংখ্যা দুইশ’রও বেশি। তার জনপ্রিয় কিছু লেখা ইংরেজি, জাপানিজ ও রাশিয়ান ভাষায় অনুদিতও হয়েছে।

একে একে তিনি রচনা করেছেন লীলাবতী, কবি, শঙ্খনীল কারাগার, মন্দ্রসপ্তক, দূরে কোথায়, সৌরভ, ফেরা, কৃষ্ণপক্ষ, সাজঘর, বাসর, গৌরিপুর জংশন, নৃপতি, অমানুষ, বহুব্রীহি, এইসব দিনরাত্রি, দারুচিনি দ্বীপ, শুভ্র, নক্ষত্রের রাত, কোথাও কেউ নেই, আগুনের পরশমণি, শ্রাবণ মেঘের দিন, বৃষ্টি ও মেঘমালা, মেঘ বলেছে যাবো যাবো, জোছনা ও জননীর গল্প প্রভৃতির মতো উপন্যাস।

গল্প, উপন্যাসের পাশাপাশি হুমায়ুন আহমেদ নাটক এবং চলচ্চিত্রে সমান সমাদৃত হন। চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবেও হুমায়ুন আহমেদের খ্যাতি ব্যাপক। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে তার নির্মাণ করা ‘আগুনের পরশমণি’, ‘শ্যামল ছায়া’ বেশ জনপ্রিয়। এছাড়া আমার আছে জল, নয় নম্বর বিপদ সংকেত, দারুচিনি দ্বীপ, ঘেটুপুত্র কমলা তার নির্মিত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র।

১৯৮১ সালে বাংলা একাডেমি অ্যাওয়ার্ড ও ১৯৯৪ সালে একুশে পদক পান তিনি। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও উঠেছে তার হাতে।

২০১২ সালের ১৯ জুলাই ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে পৃথিবীর মায়াজাল ছিন্ন করে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান তিনি। তার জন্মদিনে তার প্রতি রইলো শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।

Print Friendly and PDF

সর্বাধিক পঠিত