অন্য চোখে

রাফসান নিঝুম (১৭), ঢাকা

Published: 2019-10-14 16:54:30.0 BdST Updated: 2019-10-14 17:02:16.0 BdST

প্রতিবছর ১০ অক্টোবর ‘বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস’ পালন করা হয়। এবারের প্রতিপাদ্য ‘মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নয়ন ও আত্মহত্যা প্রতিরোধ’। 

মানসিক স্বাস্থ্যের এই বিষয়টা নিয়ে আমরা কথা বলতে চাই না। শারীরিক আঘাত বা সমস্যার চিকিৎসা করালেও আমরা কেন যেন এই মানসিক স্বাস্থ্যর চিকিৎসা করাতে একটু দ্বিধা করি।

‘ডিপ্রেশন’ বা ‘বিষণ্নতা’ নামক শব্দটির সঙ্গে আমরা সবাই কমবেশি পরিচিত। এই ভয়াবহ ডিপ্রেশন বা বিষণ্নতার সময় কোন কিছুই যেন ভালো লাগে না, কাউকে ভালো লাগে না। একা থাকতে ইচ্ছা করে। 

কিছু মানুষ হয়তো নিছক মজার ছলেই বলে ডিপ্রেশন বা বিষণ্নতায় ভুগছেন তিনি। তবে এমন অনেক মানুষও আছে যারা আসলেই খুব মারাত্মকভাবে এ সমস্যায় আছে। 

পরীক্ষায় ভালো ফলাফল না পাওয়া, চাকরি না পাওয়া, পছন্দমতো কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি না হতে পারা, বাবা-মার বিচ্ছেদ বা ঝগড়া, এমনকি প্রেম-ভালবাসায় বিচ্ছেদ, এই রকম নানা কারণে অনেকেই ডিপ্রেশন বা বিষণ্নতায় ভুগতে পারে।

আমার মনে হয় বিষণ্নতার সময় মানুষ অনেক কথাই বলতে চায়, সে চায় তার নিজের কথা কেউ শুনুক, তার পছন্দ অপছন্দকে দাম দিক, তাকে নিয়েই কেউ একটু ভাবুক। সেটা হতে পারে তার বাবা মা, বন্ধু-বান্ধব, শিক্ষক, পাড়ার বড় ভাই বা বোন। 

অনেক সময় অনেকেই তাদের এসব কথা আবার লুকিয়েও রাখতে চায়। কেউ যদি মিথ্যে কথা ভাবে, এই ভয়ে।

আমি আমার নিজের অনেক বন্ধুকেই দেখেছি বিষণ্নতায় ভুগতে। অনেকেই ভুগে ভুগে জড়িয়ে পড়ছে মাদকের সাথে। আবার অনেকেই এই একাকীত্ব বিষণ্নতাকে সহ্য করতে না পেরে শেষ করে দিচ্ছে নিজের জীবনকে। আত্মহত্যা করছে!  

আমার মনে হয়, আমাদের উচিত শরীরের যত্নের পাশাপাশি আমাদেরকে আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যের দিকেও নজর দেওয়া।

এই ভয়াবহ রোগের জন্য আমাদের মন খুলে বাবা-মা, বন্ধু বান্ধব, শিক্ষক বা বড়দের সাথে কথা বলা প্রয়োজন। প্রয়োজনে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া, চিকিৎসা নেওয়া। আমাদের বোঝা উচিত, বিষণ্ণতাও একটা রোগ।

Print Friendly and PDF

সর্বাধিক পঠিত