অন্য চোখে

দ্বীন মোহাম্মাদ সাব্বির (১৬), সিরাজগঞ্জ

Published: 2019-09-11 19:09:55.0 BdST Updated: 2019-09-11 19:09:55.0 BdST

বেশ কিছুদিন হলো বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে দেখছি গ্রাম্য সালিশে ধর্ষককে শাস্তি হিসেবে কিছু অর্থ জরিমানা করা হচ্ছে বা তার সঙ্গেই ভুক্তভোগীর বিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

আমাদের সমাজ ভাবে ধর্ষকের সাথে বিয়ে দিয়ে দিলেই সঠিক বিচার হয়ে যাবে। কিন্তু এসব করে আসলে সমাধান হয় কি? আবার যদি ভুক্তভোগী শিশু হয়!

একটি শিশু পাশবিক নির্যাতনের শিকার হলে তাকে যদি বিয়ে দিয়ে দেওয়া হয় তাহলে এখানে অপরাধ হয় দুটো। এক নির্যাতনকারীর সঙ্গে বিয়ে আর দুই বাল্যবিয়ে। এসবের জন্য পার পেয়ে যাচ্ছে অন্যায়কারী।

বিবিসিতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের ছয়টি জাতীয় দৈনিক পত্রিকার প্রকাশিত শিশু বিষয়ক সংবাদ অনুযায়ী ২০১৮ তে পুরো বছরের তথ্য উপাত্ত পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, সে বছর শিশুদের নিয়ে ১,০৩৭টি ইতিবাচক সংবাদের বিপরীতে নেতিবাচক সংবাদ ছিলো ২,৯৭৩টি।

আরেকটি প্রতিবেদনে দেখলাম, শিশুরা বেশিরভাগ নির্যাতনের শিকার হয়েছে প্রতিবেশী, বন্ধু, শিক্ষক, আত্মীয়-স্বজন বা অপরিচিত ব্যক্তির দ্বারা। খারাপ লাগল দেখে যে শিক্ষক দ্বারা পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে ১৭ জন। শিশুরা তো কোথাও নিরাপদ না

সরকারি আইনি সহায়তার হালচাল বিশ্লেষণে নারী ও শিশু ধর্ষণের ঘটনায় বিগত ১৬ বছরে সরকারের ওয়ান–স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার চার হাজার ৫৪১টি মামলা করেছে। এর মধ্যে ৬০টি ঘটনায় দোষী ব্যক্তিদের শাস্তি হয়েছে।

তাহলে অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে, এই ৬০টি ঘটনার বিচার হলে বাকি চার হাজার ৪৮১টি মামলার কী হয়েছে?

এই মামলাগুলোর কাজ বাধাগ্রস্থ হবার পেছনে রয়েছে, সামাজিক পরিস্থিতি, ক্ষমতার অপপ্রয়োগ, হুমকি, মামলা চালানোর মতো প্রয়োজনীয় অর্থের অভাব।

প্রতিটি নারী ও শিশুর নিরাপদ ও সুন্দর জীবন নিশ্চিত করতে হলে পাশবিক নির্যাতনের মতো ঘটনাগুলোর বিচার হতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই।

দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারী। সেই নারীদের জীবনের চলার পথ যদি নিরাপদ না হয় বা একের পর এক এসব দুর্ঘটনার কারণে যদি নারীদের জীবন থমকে দাঁড়ায় তাহলে ক্ষতি আমাদের, ক্ষতি সমাজের।

কন্যা শিশু, কিশোরী ও নারীদের অনিরাপত্তার ফলে বাধাপ্রাপ্ত হবে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের টেকশই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা।

প্রতিটি অপকর্মের উপযুক্ত বিচার ও সমাজ সচেতনার মাধ্যমে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে প্রতিটি ক্ষেত্রে নারীদের সমানভাবে এগিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থাই আমাদের উন্নত জাতিতে পরিণত করতে পারে।

Print Friendly and PDF

সর্বাধিক পঠিত