অন্য চোখে

সায়েম আল মাহফুজ (১৬), ঢাকা

Published: 2019-08-21 20:08:51.0 BdST Updated: 2019-08-21 20:18:20.0 BdST

একটি পিচ থেকে আরেকটি পিচের দূরত্ব কয়েক হাত। একজন একদিক থেকে বল করছে। আরেকজন বল করছে ঠিক উল্টা দিক থেকে। ব্যাটসম্যান কে, বোলার কাকে বল ছুঁড়ছে কিছুই বোঝা যাচ্ছে না। এরই মধ্যে ব্যাটের আঘাতে সেই বল ছুটে যাচ্ছে সীমানার দিকে। খুব খেয়াল না করলে বোঝার উপায় নেই এই বল সীমানা পার করলে কারা উল্লাস করবে?

মাঠের সংকট থাকায় একই মাঠে কয়েকটি দল খেলে বলেই এমন জটলা তৈরি হয়। রাজধানীর খিলগাঁওয়ের জাগরণী মাঠে সম্প্রতি এক বিকেলে গিয়ে দেখা যায় এই চিত্র।

কেবল এই মাঠই নয়। আশপাশের অলিগলিতেও দেখা গেছে, শিশুদের এই জট।  আবার যারা মাঠ পাচ্ছে না তারা খেলছে রাস্তায়।

এ বিষয়ে সিফাত নামের এক শিশুর কাছে জানতে চাইলে সে বলে, “আমি জানি রাস্তায় খেলা অনেক ঝুঁকিপূর্ণ, কিন্তু আমি খেলি। কারণ আমাদের কোনো খেলার জায়গা নেই।”

মুহিব নামের আরেক শিশু বলে, “মাঝে মধ্যে অসুবিধা হলেও কী আর করার।”

জাগরণী মাঠে খেলতে এখানে খেলতে থাকা এক শিশু বলে, “আমাদের মাঠে অনেক ভিড় হয়, খেলতে পারি না চাপের জন্য, আশেপাশে দু-একটি মাঠ আছে যেগুলোতে নিয়মিত চর্চা করতে দেয় না। বেশিরভাগ সময়ই বন্ধ থাকে।”

রাজধানীর গোড়ান থেকে খেলতে আসা এক কিশোর বলে, “আমাদের এলাকায় যে মাঠটি আছে, সেখানে মেলা চলছে, তাই আমরা এখানে খেলতে এসেছি।”

এই পরিস্থিতিতে অভিভাবক তাদের সন্তানকে খেলতে ঘরের বাইরে পাঠান না। এই শিশুরা বন্দী হয়ে যাচ্ছেন কম্পিউটার এবং ভিডিও গেমসের চক্রে। তাদের সময় কাটে চার দেয়ালে বন্দী হয়ে।

ঘরে বসে গেম খেলে সময় কাটায় শিশু সিয়াম।  ও বলে, “আমাদের এলাকায় খেলার কোনো মাঠ নেই, রাস্তাঘাটে খেলতে পারি না গাড়ির ভয়ে।”

এ বিষয়ে জাগরণী ক্রিকেট একাডেমীর কোচ মেহেদী হাসান মহীন বলেন, “শিশুদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশের জন্য মাঠ প্রয়োজন। আমরা যারা ক্রীড়ার সাথে সম্পৃক্ত তারা এলাকাভিত্তিক  মাঠ চাই।”

Print Friendly and PDF

সর্বাধিক পঠিত