অন্য চোখে

মুহাম্মাদ শরিফুজ্জামান বাপ্পি(১৫), রাজশাহী

Published: 2019-06-29 17:00:54.0 BdST Updated: 2019-06-29 17:00:54.0 BdST

ঊনবিংশ শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি ও বাংলা সাহিত্যের উজ্জ্বল নক্ষত্র মাইকেল মধুসূদন দত্ত। যাদের হাত ধরে বাংলা সাহিত্যের নবজাগরণ ঘটেছে, তারমধ্যে তিনি ছিলেন অন্যতম।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি অবিভক্ত ভারতবর্ষের বর্তমান বাংলাদেশের যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলার সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

তার বাবা রাজনারায়ণ দত্ত ছিলেন কলকাতার দেওয়ানি আদালতের একজন খ্যাতনামা উকিল এবং মা জাহ্নবী দেবী ছিলেন গৃহিণী। তিনি ছিলেন পরিবারের একমাত্র সন্তান।

মা জাহ্নবী দেবীর কাছে মধুসূদনের পড়ালেখার হাতেখড়ি হয়। স্থানীয় মসজিদের ইমামের কাছে তিনি বাংলা, আরবী ও ফার্সি শেখেন। কপোতাক্ষ নদীর তীরঘেঁষা সাগরদাঁড়িতেই মধুসূদনের শৈশব কাটে।

মধুসূদন দত্ত কলকাতার একটি স্কুল থেকে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে কলকাতার তৎকালীন হিন্দু কলেজে ভর্তি হন, যা বর্তমানে প্রেসিডেন্সি কলেজ নামে পরিচিত।

তিনি মেধাবী ছাত্র ছিলেন। মধুসূদন খুব তাড়াতাড়ি কলেজের অধ্যক্ষ ক্যাপ্টেন ডিএল রিচার্ডসনের প্রিয়পাত্র হয়ে ওঠেন। স্যার রিচার্ডসনই মধুসূদনের মনে কাব্যপ্রীতি জাগিয়ে তুলেছিলেন।

মধুসূদন মনে মনে ভাবতেন, স্বদেশীরা তার প্রতিভার মূল্যায়ন করতে পারবে না। একসময় তিনি পাশ্চাত্য সাহিত্যের দিকে ঝুঁকে পড়েন এবং বিলেত যাওয়ার ইচ্ছে পোষণ করেন।

১৮৪৩ সালে তিনি খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেন। এতে তার বাবা রাজনারায়ণ দত্ত তাকে ত্যাজ্য করেন।

খ্রিস্টধর্ম গ্রহণের পর মধুসূদন শিবপুরের বিশপ কলেজে ভর্তি হন। চারবছর পড়াশোনা করে সেখানে তিনি গ্রিক, ল্যাটিন ও সংস্কৃতি ভাষা শেখেন। কলেজ থেকে পাশ করে তিনি চেন্নাই (তৎকালীন মাদ্রাজ) চলে যান। কিন্তু সেখানে গিয়ে তিনি অর্থকষ্টে ভোগেন।

প্রথমে তিনি স্থানীয় একটি স্কুলে স্বল্প বেতনে চাকরি পান। পাশাপাশি তিনি একটি ইংরেজি পত্রিকায় লেখালেখি শুরু করেন। মাত্র পঁচিশ বছর বয়সে দারিদ্র্যের মধ্যেই তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'দ্য ক্যাপটিভ লেডি' ইংরেজি ভাষায় প্রকাশিত হয়।

মধুসূদন বেশ কয়েকবছর ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডে থেকেছেন। তখন তার আর্থিক অবস্থা খুব খারাপ ছিল। একমাত্র ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর তাকে অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করেছিলেন বলেই তিনি দেশে ফিরতে সক্ষম হন।

দেশে ফিরেই তিনি বাংলা সাহিত্যের দিকে ঝুঁকে পড়েন। ১৮৫৯ সালে তিনি রচনা করেন 'শর্মিষ্ঠা' নাটক। এটিই বাংলা সাহিত্যের প্রথম মৌলিক নাটক। তিনি বেশ কয়েকটি নাটক ও প্রহসন রচনা করেন।

১৮৬০ সালে তিনি অমিত্রাক্ষর ছন্দে 'তিলোত্তমাসম্ভব' কাব্য রচনা করেন। তার রচিত 'পদ্মাবতী' নাটকেও তিনি অমিত্রাক্ষর ছন্দ ব্যবহার করেন, যা বাংলা সাহিত্যে প্রথম। ১৮৬১ সালে প্রকাশিত 'মেঘনাদবধ' মহাকাব্য তাকে ইতিহাসে অমর করে রেখেছে।

মহাকবির শেষ জীবন চরম দুঃখ-দুর্দশার মধ্যে দিয়ে অতিবাহিত হয়। আইন ব্যবসা কিংবা সাহিত্যে, কোনোটাতেই তিনি আর্থিকভাবে সফল হতে পারেননি। কবির অমিতব্যয়ী স্বভাব তাকে ঋণগ্রস্ত করে তোলে। কবি ১৮৭৩ সালের ২৯ জুন মাত্র ৪৯ বছর বয়সে আলিপুর জেনারেল হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।

মধুসূদন দত্ত তার সৃষ্টিকর্মের মধ্য দিয়েই বেঁচে থাকবেন আজীবন। কবির ১৪৬তম মৃত্যুবার্ষিকীতে রইলো শ্রদ্ধাঞ্জলি।

Print Friendly and PDF

সর্বাধিক পঠিত