অন্য চোখে

মুহাম্মাদ শরিফুজ্জামান বাপ্পি (১৫), রাজশাহী

Published: 2019-06-27 15:39:49.0 BdST Updated: 2019-06-27 18:20:11.0 BdST

একাত্তরের যুদ্ধে জাহানারা ইমামের বড় ছেলে শফি ইমাম রুমী অংশ গ্রহণ করেন। বেশ কয়েকটা সফল গেরিলা যুদ্ধের পর যুদ্ধের একেবারে শেষ সময়ে রুমী পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হাতে ধরা পড়েন।

পাশবিক নির্যাতনের মাধ্যমে বিনা বিচারে রুমীকে হত্যা করে হানাদারেরা। এরপরেই রুমীর সহযোদ্ধারা জাহানারা ইমামকে সকল মুক্তিযোদ্ধার মা হিসেবে গ্রহণ করেন, তিনি হয়ে ওঠেন শহীদ জননী! 

মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয় দান, খাদ্য সরবরাহ এবং বিভিন্ন খবরাখবর পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে জাহানারা ইমাম পরোক্ষভাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।

১৯৯২ খ্রিস্টাব্দের ১৯ জানুয়ারি জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে গঠিত হয় 'ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি'। এই কমিটি একাত্তরের রাজাকার-আলবদরদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি নিয়ে গঠিত হয়।

জাহানারা ইমাম আমৃত্যু একাত্তরের রাজাকার-আলবদরদের শাস্তির জন্য আন্দোলন করে গেছেন।

তিনি ১৯২৯ সালের ৩ মে অবিভক্ত ভারতবর্ষের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদে জন্মগ্রহণ করেন। তার ডাকনাম ছিল জুড়ু। জাহানারা ইমামের বাবা সৈয়দ আব্দুল আলী ছিলেন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ও মা সৈয়দা হামিদা বেগম ছিলেন গৃহিণী।

দেশভাগের বেশ কিছু বছর আগেই জাহানারা ইমামের পরিবার পূর্ববাংলায় চলে আসে। ১৯৪২ সালে স্থানীয় স্কুল থেকে মাধ্যমিক পাশ করার পর তিনি রংপুরের কারমাইকেল কলেজে ভর্তি হন।

১৯৪৪ সালে উক্ত কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করার পর ১৯৪৫ সালে কলকাতার লেডি ব্রেবোর্ন কলেজে ভর্তি হন। ১৯৪৭ এ লেডি ব্রেবোর্ন কলেজ থেকে বিএ পাশ করে ১৯৬০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএড ডিগ্রি অর্জন করেন।

১৯৬৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র থেকে 'সার্টিফিকেট ইন এডুকেশন' ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে তিনি ১৯৬৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় এমএ পাশ করেন। ময়মনসিংহের বিদ্যাময়ী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে তার কর্মজীবন শুরু হয়। সেখানে তিনি প্রায় দুই বছর শিক্ষকতা করেন।

ঢাকার সিদ্ধেশ্বরী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে আট বছর, বুলবুল একাডেমি কিন্ডারগার্টেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক হিসেবে চার বছর ও ঢাকা টিচার্স ট্রেনিং কলেজের প্রভাষক হিসেবে দুই বছর তার কর্মজীবন অতিবাহিত হয়।

জাহানারা ইমামের প্রায় ২০টি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। তারমধ্যে ১৯৮৬ সালে প্রকাশিত 'একাত্তরের দিনগুলি' বইটি সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়। বইটি মুক্তিযুদ্ধের অন্ধকার দিনগুলোর সাক্ষ্য বহন করে।

জাহানারা ইমাম বাংলা একাডেমি পুরস্কার, স্বাধীনতা পদক, রোকেয়া পদকসহ অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হন। জাহানারা ইমাম ১৯৮২ সালে মুখের ক্যান্সারে আক্রান্ত হন। একারণে প্রতি বছরই তাকে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে হতো। ১৯৯৪ সালের ২৬ জুন তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সাইনাই হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

৪ জুলাই তাকে দেশে আনা হয়। মুক্তিযুদ্ধের আটজন সেক্টর কমান্ডার শহীদ জননীকে 'গার্ড অব অনার' প্রদান করেন। জানাযা শেষে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী ও মুক্তিযোদ্ধা কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। 

শহীদ জননী জাহানারা ইমামের ২৫ তম প্রয়াণ দিবসে রইলো শ্রদ্ধাঞ্জলি ।

Print Friendly and PDF

সর্বাধিক পঠিত