অন্য চোখে

পৃথা প্রণোদনা (১৬), ঢাকা

Published: 2019-06-12 18:58:24.0 BdST Updated: 2019-06-13 15:36:00.0 BdST

‘শিশুশ্রম নয়, শিশুর জীবন হোক স্বপ্নময়’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে বিশ্ব জুড়ে পালিত হচ্ছে বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস।

১৯৮৯ সালের ২০ নভেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ‘জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদ’অনুমোদিত হয়। ১৯৯২ সালে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) শিশুশ্রম বন্ধ করতে কর্মসূচি হাতে নেয় এবং ২০০২ সালের ১২ জুন থেকে আন্তর্জাতিক শিশুশ্রম সংস্থা (আইএলও) বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণের মাধ্যমে দিবসটি ‘বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস’হিসেবে পালন করে আসছে।

১৮ শতকের শেষভাগে গ্রেট ব্রিটেনে শিল্প-কারখানা চালু হলে সর্বপ্রথম শিশুশ্রম চিহ্নিত হয় একটি সামাজিক সমস্যা হিসেবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চল ও মধ্য পশ্চিমাঞ্চলে গৃহযুদ্ধের পর এবং দক্ষিণে ১৯১০ সালের পর শিশুশ্রম দেখা দেয় একটি স্বীকৃত সমস্যা হিসেবে। তখন শিশুরা কাজ করত কারখানায় শিক্ষনবিশ অথবা গৃহ পরিচারক হিসেবে কিন্তু তা ক্রমেই শোষণের ভয়ানক রূপ ধারণ করে। শুরু হয় দাস প্রথার ভিন্ন আরেক চেহারা।

ব্রিটেনে ১৮০২ সালে এবং পরবর্তী বছরগুলোতে সংসদে গৃহীত আইন করে বন্ধ করা হয় এ শিশুশ্রম। ইউরোপের অন্যান্য দেশেও অনুসরণ করা হয় এমন আইন।

১৯৪০ সালে বেশিরভাগ ইউরোপীয় দেশে শিশুশ্রম বন্ধের আইন প্রণীত হলেও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় উৎপাদন বৃদ্ধির আবশ্যকতা আবার পেছন ফেরায়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ১৯১৮ এবং ১৯২২ সালে মার্কিন কংগ্রেস কর্তৃক প্রণীত শিশুশ্রম আইন সেদেশের সুপ্রীম কোর্ট নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।

১৯২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে একটি সংবিধান সংশোধনী পাশ করা হলেও অনুমোদন পায়নি অনেক অঙ্গরাজ্যে। ১৯৩৮ সালে প্রণীত প্রথম লেবার স্ট্যান্ডার্ড অ্যাক্টস ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত পেশার জন্য বয়স ধার্য করে ন্যূনতম ১৮ বছর এবং সাধারণ নিয়োগের জন্য ১৬ বছর।

বর্তমানে বাংলাদেশসহ ৮০টি দেশ এ দিবসটি পালন করছে।

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা আইএলও-র সর্বশেষ এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বের প্রতি ছয় জন শিশুর মধ্যে একজন মজুর এবং প্রতি তিন জন শিশুশ্রমিকের মধ্যে দুজনই গৃহকর্মে যুক্ত। বিশ্বের বেশির ভাগ দেশই গৃহকর্মী শিশুদের সুরক্ষায় তেমন কোনো ব্যবস্থা নেই। আইএলও-র হিসাবে বিশ্বে প্রায় ২৪ কোটি ৬০ লাখ শিশু নানাভাবে শ্রম বিক্রি করছে। তার মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করছে ১৮ কোটি।

শিশুশ্রমের মূল কারণ দারিদ্র। এ ছাড়াও রয়েছে অশিক্ষা, অনিশ্চয়তা ও সচেতনতার অভাব। আমাদের দেশে কেবল কলকারখানা ও হোটেলে শিশুশ্রম দেখা যায় না। এর পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও অফিস-আদালতেও এর প্রসার রয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আবাসিক ঘর থেকে শুরু করে ক্যান্টিন, ডাইনিং, চায়ের দোকান, রিকশা চালনাসহ প্রতিটি পেশায় শিশুদের ব্যবহার দেখা যায়।

শিশুশ্রম বন্ধের ব্যাপারে সকলকে সচেতন করার মধ্যে দিয়ে একটি সুন্দর সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।

Print Friendly and PDF

সর্বাধিক পঠিত