অন্য চোখে

আজমল তানজীম সাকির (১৫), ঢাকা

Published: 2019-03-19 16:01:34.0 BdST Updated: 2019-03-19 16:03:01.0 BdST

আমাদের দেশের শিশু-কিশোররা নানান সমস্যার বেড়াজালে বন্দী।  হয়তো আমি এখনো কিশোর বলে আমার চোখে এ সমস্যাগুলোই বেশি পড়ে।

তবে আমার মনে হয় আমরা যদি প্রত্যেকে নিজ নিজ জায়গা থেকে একটু আন্তরিক হই তবে অনেক সমস্যাই নিমিষে সমাধান হয়ে যাবে।

প্রায়ই দেখা যায় গৃহকর্মীদের প্রতি অত্যাচারের খবর। তাদের বর্ণনায় ফুটে উঠে নির্মম শিশু নির্যাতনের চিত্র।

অভিভাবকরা তাদের সন্তানের বয়সী গৃহকর্মীদের সাথে করেন নিষ্ঠুর আচরণ। কাজে ভুলের মাশুল হিসেবে কঠোর শাস্তি ভোগ করতে হয় তাদের। অথচ তারা যদি সেই নির্যাতিত গৃহকর্মীর জায়গায় নিজের সন্তানকে কল্পনা করতেন তাহলে হয়তো এত শিশুকে শৈশবে ভয়ঙ্কর সব অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে যেতে হতো না।

একই কথা শিশুশ্রমে নিয়োজিত নির্যাতিত শিশুদের কর্মক্ষেত্রের মালিকদের বেলাতে। কিছু জায়গায় শিক্ষকের হাতে পাশবিক নির্যাতনের শিকার হওয়ার ঘটনাও ঘটে। অনেক শিক্ষার্থী এ ধরণের প্রত্যক্ষ শিকার না হলেও এ খবরগুলোকে তাদের মনকে প্রভাবিত করে। যে শিক্ষককে পরম শ্রদ্ধা করে শিক্ষার্থীরা, সেই শিক্ষক হয়ে উঠেন চরম ঘৃণার পাত্র। সেই শিক্ষক কি তার নিজের সন্তানের ক্ষেত্রে এমনটা ঘটুক সেটা চাইবেন? নিশ্চয়ই না।

চলার পথে অনেক পথশিশুকে দেখা যায়। ঢাকা শহরের বিভিন্ন পার্কে, রাস্তাঘাটেই দেখা মিলে তাদের। এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে যাচ্ছে তারা। অনেকেই লেগুনার পেছনে ঝুলে ঝুলে চালকের সহায়কের ভূমিকা পালন করছে। এছাড়া করছে নানান ঝুঁকিপূর্ণ কাজ।  তাদের কথা ভাবার ফুসরত যেন কারো নেই।

এ ব্যাপারে আলোর পথের দেখা মিলছে না দীর্ঘদিন। খাদ্য, বস্ত্র, চিকিৎসা, বাসস্থান- এ সুবিধাগুলো পাচ্ছে না তারা। তাদের সুরক্ষার জন্য কেউ নেই। তাদেরকে নিয়ে সরকারের কোনো পরিকল্পনা আছে কিনা আমার জানা নেই। থাকলেও সেই পরিকল্পনার বাস্তবায়ন আমার চোখে পড়ে না। শিশুর সুরক্ষায় চাই আইনের বাস্তবায়ন। কর্মক্ষেত্রে তাদের ওপর অতিরিক্ত কাজের চাপ, অধিকার ও সুবিধা থেকে বঞ্চিত করার শাস্তি দিতে হবে।  প্রান্তিক অঞ্চলের অনেক পরিবারই শিশুদের পড়াশোনা করাতে আগ্রহী নন। বাল্যবিয়ের চল এখনো রয়েছে। সচেতনতার আলো পৌঁছাতে পারেনি অনেক দুর্গম জায়গায়।

স্বাস্থ্য সম্পর্কে অসেচতন থাকার কারণে শারীরিক ও মানসিক নানান সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে শিশু-কিশোররা।

এছাডাও রয়েছে শহুরে শিশুদের নির্মল বিনোদনের বড্ড অভাব। কবুতরের খোপের মত গড়ে উঠা স্কুলগুলোতে নেই খেলার মাঠ। আর লেখাপড়া নিয়ে চলছে অসুস্থ প্রতিযোগিতা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও এমন প্রতিযোগিতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন।

এদেশের মোট জনসংখ্যার ৪০ শতাংশেরও বেশি শিশু। উন্নয়নশীল এ দেশ কি এ শিশুদের ছাড়া উন্নয়নের পথে হাঁটতে পারবে? ডিজিটাল বাংলাদেশ বা টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের মতো লক্ষ্য পূরণ তখন দেশ ও জাতির ভবিষ্যৎ হিসেবে আখ্যায়িত শিশুদের ছাড়া সম্ভব? শিশুদের নিয়ে কাগজে কলমে অনেক কিছু দেখা গেলেও বাস্তবতায় এখনো শিশুরা অনেকটাই উপেক্ষিত।  শিশুদের সুরক্ষার প্রত্যেককেই এগিয়ে আসা উচিত নিজ নিজ জায়গা থেকে।

শিশুদের সমস্যা অনেক। দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সেই সমস্যাগুলোকে করতে হবে সমাধান।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন ১৭ মার্চ পালিত হয় জাতীয় শিশু দিবস। তিনি নিশ্চয়ই স্বপ্ন দেখেছেন এমন স্বাধীন বাংলাদেশের যেখানে শিশুরা কাটাবে এক নির্মল শৈশব। দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে এবার করতে শিশুদের জন্য অঙ্গীকার। আর চাই সেসব অঙ্গীকারের বাস্তবায়ন।

 

Print Friendly and PDF

সর্বাধিক পঠিত