অন্য চোখে

শেখ নাসির উদ্দিন (১৬), টাঙ্গাইল

Published: 2019-02-27 18:02:47.0 BdST Updated: 2019-03-06 16:18:02.0 BdST

আমাদের মাতৃভাষা আন্দোলন নিয়ে হ্যালোর সঙ্গে কথা বলেছেন ভাষা সৈনিক প্রতিভা মুৎসুদ্দি।

হ্যালোঃ কেমন আছেন?

প্রতিভা মুৎসুদ্দিঃ ভালো আছি..

হ্যালোঃ আপনার কাছে ভাষা আন্দোলনের শুরুর গল্পটা শুনতে চাই।

প্রতিভা মুৎসুদ্দিঃ পাকিস্তান সৃষ্টির পর পরই ভাষা আন্দোলনের সূচনা হয়। পশ্চিম পাকিস্তানে অনেক ভাষার লোক ছিল, কিন্তু পূর্ব পাকিস্তানে কেবল বাংলা ভাষার লোকই বেশি ছিল। শহীদুল্লাহ, ড. ধীরেন্দ্রনাথ বড় বড় লেখক যারা ছিলেন তারা পাকিস্তান সৃষ্টি হবার আগেই বাংলা ভাষার শ্রেষ্ঠত্বের কথা বলতেন। এদেশ পাকিস্তান হবার ছয় মাস পর লৌহ মানব কায়েদে আজম মুহাম্মাদ আলী জিন্নাহ ঢাকায় এসেন। ১৯৪৭ সালের ২৪ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে ঘোষণা দেন উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা। এই ঘোষণার পরে ভাষা সৈনিক আব্দুল মতিন নো নো বলে প্রতিবাদ জানায় তার সাথে আরো অনেকে প্রতিবাদ জানান। জিন্নাহ্ চলে যাওয়ার পর প্রতিটি স্কুল,কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সবাই তার বক্তব্যের সমলোচনা করে। ভাষার গুরুত্ব ও প্রতিবাদ জানাতে মাহবুবুল আলম চৌধুরী একটি বই লেখেন ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি কাদতে আসি নি। এবং তার সম্পাদিত পত্রিকা 'সীমান্ত' অনেকে বাংলা রাষ্ট্র ভাষার হবার দাবি রাখে সেই বিষয় নিয়ে লিখতেন। তারা লিখে প্রতিবাদ জানান।বাম পন্থীরা ছাত্র ইউনিয়ন,প্রুগ্রেসিভ দল সহ ভিন্ন রাজনৈতিক দল নিয়ে রাষ্ট্র ভাষা সংগ্রাম পরিষদ গড়ে তোলে। এভাবেই ভাষা আন্দোলন শুরু হয়।

হ্যালোঃ ভাষা আন্দোলনের সাথে আপনি যুক্ত হয়েছিলেন কীভাবে?

প্রতিভা মুৎসুদ্দিঃ আমি ছোটবেলা থেকেই প্রতিবাদী ছিলাম। অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী থাকা অবস্থা ভিন্ন দাবি নিয়ে মাঠে নেমেছি। একবার দ্রব্যমূল্যের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে মিছিল করেছিলাম বলে স্কুল থেকে আমাকে বের করে দেয়। বাবাকে ডেকে স্যার বলেন এইটুকু মেয়ে যায় প্রতিবাদ করতে ওকে থামান। তখন বাবা আমাকে বাড়ী এনে মেরে ছিল। তবুও থেমে যাইনি অন্য স্কুলে এসেও প্রতিবাদ করে পরিবার কে বুঝানোর চেষ্টা করেছি। আমি তো খারাপ কিছু করছি না। বরং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছি দোষের কি? একটা সময় পরিবার আমাকে বুঝে। তারপর থেকেই ভাষা আন্দোলনে জড়ানো।

Print Friendly and PDF

সর্বাধিক পঠিত