অন্য চোখে

মো. আলাউদ্দীন (১৭), বরিশাল

Published: 2018-12-16 12:34:44.0 BdST Updated: 2018-12-16 12:34:44.0 BdST

স্বাধীনতা বাংলা ও বাঙালির গর্ব। ১৯৭১ সালের দীর্ঘ নয় মাসের রক্তাক্ষয়ী মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ অর্জন করেছে এই মহান স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব। ৭১’র মুক্তিযুদ্ধে বড়রা যেমন অবদান রেখেছেন, তেমনি অনেক শিশু-কিশোরও একাত্তরের রণাঙ্গনে জীবন বাজি রেখে স্বাধীনতার সূর্য ছিনিয়ে আনতে প্রাণ দিয়েছেন।

মুক্তিযুদ্ধে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যেও শিশু সংখ্যা কম নয়। যে নারীরা সম্ভ্রম হারিয়েছেন তাদের মধ্যেও রয়েছে হাজারো কিশোরী।

মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ স্বাধীন করতে বড়দের সঙ্গে মাঠে নেমেছিল শিশুরাও। বড়দের মুখে শুনেছি রাতের আঁধারে অথবা প্রয়োজনীয় যে কোনো মুহূর্তে এক ক্যাম্পের খবর অন্য ক্যাম্পে পৌঁছে দিয়েছে শিশুরা। গ্রামের বিভিন্ন বাড়ি থেকে খাবার সংগ্রহ করে মুক্তিযোদ্ধাদের খাইয়েছে। বিভিন্ন সময়ে মুক্তিযোদ্ধাদের গুপ্তচর হয়ে শিশু-কিশোররা পাকিস্তানি শিবিরে ঢুকে সংবাদ বা যে কোনো প্রয়োজনীয় তথ্য মুক্তিযোদ্ধাদের জানিয়েছে। এ কাজ করতে গিয়ে কখনো ফিরে আসতে পেরেছিল আবার কখনো মৃত্যু বরণ করতে হয়েছে। এই শিশু-কিশোরদের লাশ পরিবার কখনো ফিরে পায়নি।

এরা পাকিস্তানি হানাদারদের ভুল রাস্তা দেখিয়েছে। এছাড়া মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্প থেকে অস্ত্র ও গোলাবারুদের তত্ত্বাবধান করা, মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে থেকে গোলাবারুদ ও অস্ত্র সরবরাহ করাসহ যুদ্ধক্ষেত্রে নিজের সঙ্গে অস্ত্র নিয়ে বেড়ানোসহ মুক্তিযোদ্ধাদের অন্যান্য ছোট খাটো কাজ করেছে শিশু-কিশোররা। শুধু তাই নয়, প্রয়োজনে যুদ্ধের জন্য অস্ত্রও ধরেছে। যুদ্ধ শেষে স্বাধীনতার আনন্দ মিছিল ও উৎসবেও ছিল বাংলার শিশুদের অভূতপূর্ব অংশগ্রহণ।

মুক্তিযুদ্ধ বিয়ষক বিভিন্ন আলোকচিত্র, চলচ্চিত্র ও প্রামাণ্যচিত্রে শিশুদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের চিত্র ফুটে উঠেছে। চাষী নজরুল ইসলাম পরিচালিত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘ওরা ১১ জন’, তারেক মাসুদ পরিচালিত ‘মুক্তির গান’ এবং মোরশেদুল ইসলাম পরিচালিত ‘আমার বন্ধু রাশেদ’ চলচ্চিত্রে দেখেছি মুক্তিযুদ্ধে শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণের চিত্র।

এছাড়া মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বিভিন্ন গল্প, উপন্যাসের মাধ্যমে খুব সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে মুক্তিযুদ্ধে শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণের কথা। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের উপর নির্মিত একটি প্রামাণ্য চলচ্চিত্র ইংরেজি "স্টপ জেনোসাইড"  তথ্যচিত্রটিতে শহীদ বুদ্ধিজীবি ও বিশিষ্ট চলচ্চিত্রকার জহির রায়হান তুলে ধরেন বাঙালিদের দুঃখ-দুর্দশা। এই ফুটেজে শিশু-কিশোরদের করুণ অবস্থা দেখলে  চোখের জল ধরে রাখা যায় না।

মুক্তির জন্য সব দেশ প্রেমিকের ত্যাগের বিনিময়ে জন্ম হয় একটি নতুন মানচিত্রের। যার নাম হয় বাংলাদেশ। যে মাটিতে দম্ভ ভরে হাঁটি, যে বাতাস বুক ভরে নিই সে বাতাসে সেই মাটিতে লাখো মুক্তিযোদ্ধার সঙ্গে মিশে আছে আমার বয়সী কোনো শিশুর রক্ত। বিজয়ের এই ৪৭ বছরে সমস্ত মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে শিশু মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি রইলো বিনম্র শ্রদ্ধা।

Print Friendly and PDF

সর্বাধিক পঠিত