অন্য চোখে

অগ্রঃ (৯), সাতক্ষীরা

Published: 2018-12-09 20:05:55.0 BdST Updated: 2018-12-09 20:06:50.0 BdST

বহু সংগ্রাম, ত্যাগ ও রক্তক্ষয়ে ৭ ডিসেম্বর সাতক্ষীরা হানাদার মুক্ত হয়।

১৯৭১ সালের এই দিনে সাতক্ষীরার দামাল ছেলেরা থ্রি নট থ্রি আর এসএলআরের ফাঁকা গুলি ছুড়তে ছুড়তে সাতক্ষীরা শহরে প্রবেশ করে। সাতক্ষীরার বীর সন্তানরা অন্তত ৫০টি যুদ্ধে বিজয়ী হয়ে উড়িয়ে দেয় স্বাধীন বাংলার পতাকা।

সাতক্ষীরার মুক্তিযুদ্ধের প্রথম টার্নিং পয়েন্ট ছিল সাতক্ষীরা ট্রেজারি আর ন্যাশনাল ব্যাংক অপারেশন।

এখান থেকে অস্ত্র আর মুক্তিযুদ্ধের খরচাদির অর্থ সংগ্রহ করে নেয় জেলার তরুণ মুক্তিযোদ্ধারা। অষ্টম ও নবম সেক্টরের অধীনে ভারতের বিভিন্ন এলাকায় ট্রেনিং শেষে ২৭ মে সাতক্ষীরার ভোমরা সীমান্তে প্রথম সম্মুখ যুদ্ধ শুরু হয়।

এ সময় পাক সেনাদের দুই শতাধিক সৈন্য নিহত হয়। ১৭ ঘণ্টাব্যাপী এ যুদ্ধে শহীদ হন তিন জন মুক্তিযোদ্ধা। আহত হন আরো দুজন।

এরপর থেমে থেমে চলতে থাকে সাতক্ষীরার বিভিন্ন এলাকায় মুক্তিযোদ্ধাদের আক্রমন। এসব যুদ্ধের মধ্যে ভোমরার যুদ্ধ, টাউন শ্রীপুর যুদ্ধ, বৈকারী যুদ্ধ, খানজিয়া যুদ্ধ উল্লেখযোগ্য। এসব যুদ্ধে শহীদ হন ৩৩ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা।

এরই ধারাবাহিকতায় ২৮ নভেম্বর শহরের কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থিত পাওয়ার হাউজ উড়িয়ে দিয়ে মুক্তিযোদ্ধারা ভীত সন্ত্রস্ত করে ফেলে পাক হানাদারদের। বর্বর হানাদারদের ওপর রাতের আঁধারে চালানো হয় গেরিলা হামলা। পিছু হটতে শুরু করে পাক হানাদাররা।

৬ ডিসেম্বর রাতে মুক্তিযোদ্ধাদের হামলায় টিকতে না পেরে বাঁকাল, কদমতলা ও বিনেরপোতা ব্রিজ উড়িয়ে দিয়ে পাক বাহিনী সাতক্ষীরা থেকে পালিয়ে যায়।

৭ ডিসেম্বর জয়ের উন্মাদনায় জ্বলে ওঠে সাতক্ষীরাবাসী।

Print Friendly and PDF

সর্বাধিক পঠিত