অন্য চোখে

আজমল তানজীম সাকির (১৫), ঢাকা

Published: 2018-11-13 21:10:20.0 BdST Updated: 2018-11-13 21:38:59.0 BdST

হিমু, শুভ্র, মিসির আলী- বইয়ের পাতার অতি পরিচিত এ চরিত্রগুলোর স্রষ্টা হুমায়ুন আহমেদ। বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের জন্য অতি পরিচিত এক নাম।

হুমায়ুন আহমেদকে কখনও দেখা গেছে কলম হাতে, কখনও পরিচালক বা চলচ্চিত্র নির্মাতার ভূমিকায়। তবে যে ক্ষেত্রেই হোক, হুমায়ুন আহমেদের ছোঁয়া মানেই যেন বিশেষ কিছু।

১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রোকোণার কুতুবপুর উপজেলার কেন্দুয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এ কিংবদন্তী। আজ তার ৭০তম জন্মবার্ষিকী তার বাবার নাম ফয়জুর রহমান আহাদ ও মায়ের নাম আয়েশা ফয়েজ।

এছাড়া পেশাগত জীবনে হুমায়ুন আহমেদ ছিলেন একজন শিক্ষক। বগুড়া জিলা স্কুল থেকে ম্যাট্রিক ও ঢাকা কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাশ করে রসায়ন বিষয়ে পিএইচডিও লাভ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগে তিনি দীর্ঘদিন অধ্যাপক ছিলেন।

তরুণ বয়সেই কলম হাতে তুলে নেন হুমায়ুন আহমেদ। তার প্রথম উপন্যাস ‘নন্দিত নরকে’ বেশ জনপ্রিয়। পরে এ উপন্যাসের কাহিনী অবলম্বনে চলচ্চিত্রও নির্মাণ করা হয়। তার দ্বিতীয় গ্রন্থ ‘শঙ্খনীল কারাগারে’। হুমায়ুন আহমেদের রচিত গ্রন্থের সংখ্যা দুইশ’রও বেশি। তার জনপ্রিয় কিছু লেখা ইংরেজি, জাপানিজ ও রাশিয়ান অনুদিতও হয়েছে।

কথাসাহিত্যিক হিসেবে বাংলার দুই পারেই জনপ্রিয় ছিলেন হুমায়ুন আহমেদ। আর নাট্যনির্মাতা হিসেবে হুমায়ুন আহমেদ রয়েছেন এক অনন্য উচ্চতায়। নব্বইয়ের দশকে ভিন্নধর্মী ও সুস্থধারার নাটকের অপর নাম হয়ে উঠেন হুমায়ুন আহমেদ।

আজ রবিবার, বহুব্রীহী, নক্ষত্রের রাত, এইসব দিন রাত্রি, অয়োময়, কোথাও কেউ নেইসহ অসংখ্য অসাধারণ নাটকের জন্ম দিয়েছেন হুমায়ুন আহমেদ।

চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবেও হুমায়ুন আহমেদের খ্যাতি ব্যাপক। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে তার নির্মাণ করা ‘আগুনের পরশমণি’, ‘শ্যামল ছায়া’ বেশ জনপ্রিয়। এছাড়া আমার আছে জল, নয় নম্বর বিপদ সংকেত, দারুচিনি দ্বীপ, ঘেটুপুত্র কমলা তার নির্মিত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র।

১৯৮১ সালে বাংলা একাডেমি অ্যাওয়ার্ড ও ১৯৯৪ সালে একুশে পদক পান তিনি। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও উঠেছে তার হাতে।

২০১২ সালের ১৯ জুলাই ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে পৃথিবীর মায়াজাল ছিন্ন করে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান তিনি। তবে হলুদ পাঞ্জাবির হিমু, ধাঁধার সমাধানকারী মিসির আলী কিংবা বাকের ভাই, এমন অনবদ্য চরিত্রগুলোই হুমায়ুন আহমেদকে বাঁচিয়ে রাখবে। বাঁচিয়ে রাখবে চিরকাল।
 

Print Friendly and PDF

সর্বাধিক পঠিত