অন্য চোখে

আজমল তানজীম সাকির (১৫), ঢাকা

Published: 2018-07-25 19:52:04.0 BdST Updated: 2018-07-25 22:45:17.0 BdST

` আলোকিত মানুষ' গড়ার স্বপ্ন নিয়ে কাজ করে যাওয়া আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের ৭৯ বছর পূর্ণ হয়েছে বুধবার।

১৯৩৯ সালের ২৫ জুলাই কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ। তার পৈতৃক নিবাস ছিল বাগেরহাটে। এরপর বাংলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন তিনি। তার বাবা ছিলেন একজন শিক্ষক। কর্মজীবনে তিনিও পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন শিক্ষকতাকে।

১৯৬১ সালে মুন্সীগঞ্জের একটি কলেজে শিক্ষকতা করেন তিনি। এরপর শিক্ষকতা করেন রাজশাহী সরকারি কলেজে। ১৯৬১ সালে সরকারি বিজ্ঞান কলেজে শিক্ষকতা করার পর তিনি যোগদান করেন ঢাকা কলেজে। ঢাকা কলেজে দীর্ঘদিন শিক্ষকতা করেছেন তিনি।

 শিক্ষক হিসেবেও তিনি ছিলেন ব্যতিক্রম। ক্লাসে কখনোই নাম ডাকতেন না। যে ক্লাস করতে অনিচ্ছুক তাকে জোর করতেন না। জোর করে পড়ানো নয়, পড়ার প্রতি সবার ইচ্ছা জাগিয়ে তোলাই ছিল তার কাজ। এছাড়া একটি সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদনার দায়িত্বেও ছিলেন তিনি। দেখা গিয়েছে বাংলাদেশ টেলিভিশনে উপস্থাপকের ভূমিকাতেও। লিখেছেন অনেক বই। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, ‘স্বপ্নের সমান বড়’, ‘আমার বোকা শৈশব’, ‘আমার উপস্থাপক জীবন’, ‘কিশোর সংগ্রহ’, ‘বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র ও আমি, ‘রোদনরূপসী’, ‘গল্পসল্প’ প্রভৃতি।

১৯৭৮ সালে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। এর প্রধান কার্যালয় রাজধানীর বাংলামটরে। স্কুল-কলেজ শিক্ষার্থীদের বইয়ের প্রতি উৎসাহী করে তুলতেই এ উদ্যোগ নেন তিনি। বইয়ের প্রতি শিশু-কিশোরদের ভালোবাসা তৈরি করতে নানান ধরণের কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।

এ মহৎ উদ্যোগের জন্য আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ ২০০৪ সালে রোমেন ম্যাগসেসে পুরস্কার পান।

‘আলোকিত মানুষ চাই’ এ স্লোগান নিয়ে কাজ করে চলেছে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র। স্কুল-কলেজে নানান ক্যাম্পেইনের পাশাপাশি এর রয়েছে ৫৬ টি ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি। এরা বিভিন্ন জায়গায় সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে বই ভর্তি গাড়ি নিয়ে হাজির হয়।

আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বিশ্বাস করেন প্রতিটি মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়। মানুষকে স্বপ্ন পূরণের অনুপ্রেরণা জুগিয়ে যান প্রতিনিয়ত। জ্ঞানের আলো দিয়ে কুসংস্কার আর মূর্খতার অন্ধকার কাটাতে চান তিনি। সবার মধ্যে জাগ্রত করে তুলতে চান মানবিক মূল্যবোধ। তিনি যেন এক মশাল বাহক। তার মশাল হলো বই। জন্মদিনে তার প্রতি অশেষ শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।

Print Friendly and PDF

সর্বাধিক পঠিত