অন্য চোখে

মেহেদী হাসান (১৬), বরিশাল

Published: 2018-07-07 17:13:56.0 BdST Updated: 2018-07-08 13:40:00.0 BdST

একজন বিজ্ঞানী যাকে একনামে চেনে পুরো বিজ্ঞানবিশ্ব, যার প্রতিভায় সমৃদ্ধ হয়েছে আমাদের বিজ্ঞানজগৎ, তিনি নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রথম নারী, মেরি কুরি। তেজস্ক্রিয় মৌল ইউরেনিয়াম এবং পোলোনিয়ামের আবিষ্কার করেন তিনি। কিন্তু শুধু নারী বলে তাকে নিজ দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি নেওয়া হয়নি।

প্রায় দেড়শ বছর আগে মেরি ১৮৬৭ সালের ৭ নভেম্বর পোল্যান্ডের রাজধানী ওয়ারশতে জন্ম নেন। পদার্থবিদ্যা ও গণিতের অধ্যাপক বাবা ভাদিসভ স্কদভস্কি আর পিয়ানোবাদক ও গায়িকা স্কুল-টিচার মা ব্রনিসভার পাঁচটি সন্তান জোসিয়া, জোজেফ, ব্রোনিয়া, হেলা ও মেরি। এদের মধ্যে মেরি ছিলেন সবচেয়ে ছোট।  

শৈশবেই কুরি তার বাবাকে গণিত এবং পদার্থবিজ্ঞান প্রশিক্ষক হিসেবে পেয়েছিলেন। কিন্তু দশ বছর বয়সেই জীবন থেকে মা চিরবিদায় নেন। ধীরে ধীরে তিনি মাধ্যমিক পর্যায়ের একজন মেধাবী ও শীর্ষস্থানীয় শিক্ষার্থী হয়ে ওঠেন। কিন্তু শুধু নারী হওয়ার কারণে ওয়ারশ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে পারেননি। ফলে খুব গোপনে একটি ভাসমান বিশ্ববিদ্যালয়ে তার পড়াশোনা অব্যাহত রাখেন। সেখানে ক্লাসগুলি লুকিয়ে পরিচালনা করা হতো। মেরি এবং তার বোন ব্রনিয়া দুজনই স্বপ্ন দেখতেন, পড়াশোনা করতে বিদেশ যাবেন কিন্তু অভাব সে আশা পূরণ করতে দেয়নি।

অবশেষে, মেরি তার বোনের সঙ্গে একটি চুক্তি করলেন। ব্রনিয়া যখন স্কুলে যাবে তখন মেরি কাজ করবে এবং পড়া শেষ করার সময় ব্রনিয়া তার হয়ে কাজ করবে। এভাবে চলে পাঁচ বছর।

শিক্ষক ও গৃহশিক্ষক হিসেবেও মেরি কাজ করতে শুরু করেন। আর অতিরিক্ত সময় তিনি পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন এবং গণিত অধ্যয়ন করতেন। অবশেষে প্যারিসের সরবন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারেন ১৮৯১ সালে।

অভাব তাকে পেট পুরে খেতেও দেয়নি। শুধু রুটি ও মাখন ছাড়া আর কিছু কেনার সামর্থ্য ছিল না তার। ফলে দুর্বল স্বাস্থ্য নিয়ে তাকে ভুগতেও হতো। শেষমেষ ১৮৯৩ সালে সরবন বিশ্ববিদ্যালয়ে থেকে পদার্থবিজ্ঞানে মাস্টার্স ডিগ্রি সম্পন্ন করেন এবং পরের বছর গণিতশাস্ত্রে ডিগ্রি অর্জন করেন।  

সরবন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি পাওয়ার পর ইস্পাতের চৌম্বকীয় ধর্মের উপর অনুসন্ধান করা নিয়ে প্যারিসে শুরু হয় মেরির বৈজ্ঞানিক জীবন। সহকর্মী পোলিশ পদার্থবিদ জোসেফ কোয়ালস্কি জানতে পারেন, মেরি বড় একটি গবেষণাগার খুঁজছেন। তিনি মেরিকে সাহায্য করতে চাইলেন। চিন্তা করলেন, স্কুল অফ ফিজিক্স অ্যান্ড কেমিস্ট্রির ইন্সট্রাক্টর পিয়েরে কুরি নামে একজনের অধীনে এ ধরণের বৈজ্ঞানিক গবেষণাগার থাকতে পারে।  

সহকর্মী জোসেফের মাধ্যমেই মেরির পরিচয় হয় ফরাসি পদার্থবিজ্ঞানী পিয়েরে কুরির সাথে। এবং অচিরেই তারা একে অপরের প্রতি অনুরক্ত হয়ে পড়েন ও ১৮৯৫ সালের ২৬ জুলাই বিয়ে করেন।

এরপর যৌথভাবে গবেষণা শুরু করলেন। মেরি হলেন মেরি কুরি। থিসিসের জন্য টপিক হিসেবে ইউরেনিয়ামের রশ্মিকে বেছে নেন মেরি। তারা আকরিক কৃষ্ণবর্ণ উজ্জ্বল পদার্থ পিচব্লেন্ড নিয়ে কাজ করেন ও ১৮৯৮ সালে একটি নতুন তেজস্ক্রিয় উপাদান আবিষ্কার করেন। মেরির জন্মভূমি পোল্যান্ডের সাথে মিলিয়ে এই উপাদানটির তিনি নাম দেন পোলোনিয়াম।

এছাড়াও তারা রেডিয়াম নামে আরেকটি তেজস্ক্রিয় পদার্থের উপস্থিতি শনাক্ত করেন। ১৯০২ সালে, কুরিরা ঘোষণা দেন যে তারা এক ডেসিগ্রাম বিশুদ্ধ রেডিয়াম তৈরি করেছেন। এটি একটি মৌলিক রাসায়নিক উপাদান হিসেবে তার অস্তিত্ব প্রদর্শন করছে।  

এই আবিষ্কার তাদের খ্যাতির চূড়ায় এনে দেয়। ১৯০৩ সালে পদার্থবিদ্যায় তেজস্ক্রিয়তা বা রেডিওইলেকট্রিভিটি নিয়ে কাজ করার জন্য পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পান।

এই জয় কুরিদেরকে তাদের বৈজ্ঞানিক প্রচেষ্টার জন্য আন্তর্জাতিক খ্যাতি এনে দেয় এবং তারা তাদের গবেষণা চালিয়ে যাওয়ার জন্য তাদের পুরস্কার থেকে প্রাপ্ত অর্থ ব্যবহার করেন।  

১৯৩৪ সালের ৪ জুলাই মারা যান এই নারী। ধারণা করা হয় দীর্ঘদিন তেজস্ক্রিয় পদার্থ নিয়ে কাজ করাই তার মৃত্যুর কারণ।

বিজ্ঞানের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিত্ব এবং নারীদের জন্য তিনি একজন মডেল হিসেবে চিরস্মরণীয়।

Print Friendly and PDF

সর্বাধিক পঠিত
  • অপরূপ শ্বেতপদ্ম (ভিডিওসহ)

    ধান, নদী, খালের অপরূপ সৌন্দর্যে পূর্ণ বরিশাল। ছল ছল শব্দে নদীর বয়ে চলা, চোখ জুড়ানো ধানের ক্ষেতে প্রজাপতির লুকোচুড়ি খেলা, মৃদু বাতাসে দু’একটা শিরীষ পাতা বা হিজলের লালচে ফুলের পানিতে ঢলে পড়া আবার গাঙ ফড়িং এর চঞ্চল উড়াউড়ি, তার ভেতরে পদ্মপাতায় সাপ আর ভ্রমরের খেলা কি নেই এই বরিশালে। যেখানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য কড়া নাড়ে সব বাঙালির হৃদয়ে।

  • ফরিদপুরের শিশু পার্ক (ভিডিওসহ)

    ফরিদপুরের শেখ রাসেল শিশুপার্কটি জেলার শিশুদের একমাত্র বিনোদন কেন্দ্র।

  • মহাস্থান গড়ের সবজি (ভিডিওসহ)

    ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে কাঁধে অথবা ভ্যানে করে বগুড়া সদর, শিবগঞ্জ ও এর আশেপাশের এলাকা হতে চাষিরা সবজি নিয়ে হাজির হন মহাস্থান বাজারে।