অন্য চোখে

তাসনুভা মেহ্জাবীন(১৩), খুলনা

Published: 2018-01-17 20:14:22.0 BdST Updated: 2018-01-17 20:14:22.0 BdST

অকৃত্রিম বন্ধুত্বের খোঁজ পাওয়া বড় কঠিন। চারপাশে কেবলই হানাহানি, শত্রুতা আর অস্থির পরিস্থিতি। কথার কথায় অনেকেই বলেই ফেলেন, বর্তমানটা নাকি স্বার্থপরের দুনিয়া। তবে কেউ কেউ আছেন ব্যতিক্রম। যারা খাঁটি বন্ধুত্বের পরিচয়েই বিশ্বব্যাপী পরিচিত।

হ্যালোর সঙ্গে কথা হয়েছে এমন দুই বন্ধুর। তারা হলেন ফজলে হুদা বাচ্চু এবং অ্যাডভোকেট আব্দুল আহসান বাচ্চু। দুজনের নামের মধ্যেই রয়েছে অসাধারণ মিল। দুজনের নামই বাচ্চু। তাদের বন্ধুত্বের বয়স এখন প্রায় ৫৩ বছর।

১৯৬৫ সালে কলেজ জীবনে তাদের পরিচয়। দুজনেই ভর্তি হয়েছিলেন খুলনা বিএল কলেজে। এরপরই গড়ে ওঠে বন্ধুত্ব।

ফজলে হুদা বাচ্চু বলেন, ‘সেই বন্ধুত্ব আমরা অটুট রেখেছি এবং তা স্মরণের জন্য ২০১৫ সালের ২৭ মার্চ বন্ধুত্বের ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন করেছি। আমাদের এই উদযাপন ইত্যাদিতে প্রচার করা হয়। প্রথম সারির একটি জাতীয় দৈনিকেও প্রকাশিত হয়েছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে অনেক পরিবার ভেঙে যাচ্ছে। এরকম একটা কঠিন সময়ে আমাদের বন্ধুত্বের বিষয়টি আমরা চারপাশে ছড়িয়ে দিয়েছি। সারাদেশেই আমাদের বিষয়টি বেশ আলোচিত হয়। মানুষ মানুষকে ভালোবাসুক আমরা এটাই প্রত্যাশা করি।’

অ্যাডভোকেট আব্দুল আহসান বাচ্চু হ্যালোকে বলেন, ‘একটি বিষয়ে আমাদের দুজনের মিল আছে। আমরা শৈশব থেকেই বাবা হারা। দুজন দুজনের প্রতি এই কারণেই সহমর্মি ছিলাম। দুজনেই ক্লাস সেভেন থেকে নিজেদের চাচার কাছে মানুষ হয়েছি।

‘তখন থেকেই মানুষের দুঃখ বেদনার বিষয়ে অনুভব করার একটা সুযোগ আমাদের হয়। যেহেতু আমরা নিজেরাই দুঃখে কষ্টে বড় হয়েছি তাই সাধারণ মানুষের জন্য কিছু করার তাগিদ অনুভব করি। আমরা এখনও কিন্তু তা চালিয়ে যাচ্ছি।’

কথায় কথায় আরো জানান, তার বন্ধু ফজলে হুদা বাচ্চু একটি সাংস্কৃতিক সংস্থা পরিচালনা করছে। যেখানে ছোট বড় সবাইকে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক বিভিন্ন বিষয়ে জানানো হয়। একইভাবে তিনি নিজেও বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে কল্যাণমূলক কাজে জড়িত। ছিন্নমূল, বঞ্চিত এবং গরীব মানুষকে সাহায্য করা তার লক্ষ্য।

তাদের কাছে বন্ধুত্বের সংজ্ঞা, শুধু বিপদে পাশে থাকাই নয়।

তারা বলেন, “আমরা এমনভাবে পাশে থাকার চেষ্টা করি যেন আমার বন্ধু কোনো বিপদেই না পড়ে। আর আমরা এখনও ঘুরে বেড়াই। একদম তোমাদের মতোই।”

Print Friendly and PDF

সর্বাধিক পঠিত