অন্য চোখে

সাদিক ইভান (১৭), ঢাকা

Published: 2017-11-30 19:39:57.0 BdST Updated: 2017-11-30 19:39:57.0 BdST

আসছে বিজয়ের মাস। এ মাসে সব জায়গাতেই জাতীয় পতাকা উত্তোলন করতে দেখা যায়। বিজয়ের উচ্ছ্বাস প্রকাশের সেরা প্রতীকই যে এটি। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ এ প্রতীক ব্যবহারের বিধি সম্পর্কে অনেকেই জানেন না কিংবা জেনেও মানেন না। যা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

বাংলাদেশের মানুষের আবেগের সঙ্গে জড়িয়ে আছে লাল-সবুজের পতাকা। যা বাংলাদেশের অস্তিত্ব ও বিজয়ের কথা বলে। সুস্পষ্ট বিধিমালা থাকলেও অনেকেই জাতীয় পতাকা অবমাননা করে ফেলেন।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার জাতীয় পতাকার মর্যাদা রক্ষার্থে বিধি-বিধান প্রণয়ন করেছেন। জাতীয় পতাকা বিধিমালা ১৯৭২ (সংশোধিত, ২০১০) অনুযায়ী জাতীয়ভাবে অনুমোদিত রং ও সঠিক মাপে জাতীয় পতাকা তৈরি করতে হবে।

ঈদ এ মিলাদুন্নবী, স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস ও সরকার প্রজ্ঞাপিত অন্য যেকোনো দিবসে বাংলাদেশের সরকারি, বেসরকারি ভবন ও বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশন প্রাঙ্গণে ও কনসুলার কেন্দ্রগুলোয় জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা বাধ্যতামূলক।

ইচ্ছে করলেই যে কেউ গাড়িতে পতাকা ব্যবহার করতে পারবেন না। আইনে বলা হয়েছে, কোনো অবস্থায়ই গাড়ি কিংবা কোনো যান, রেল কিংবা নৌকার খোলে, ওপরিভাগে বা পেছনে পতাকা ওড়ানো যাবে না।

তবে যারা আইন অনুযায়ী গাড়িতে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের অধিকারী তাদেরও কিছু শর্ত মেনে চলতে হবে। মোটরযানে পতাকা ওড়ানোর ক্ষেত্রে এর সামনে থাকা দণ্ডায়মান রেডিয়েটর ক্যাপে বেঁধে ওড়াতে হবে। কোনো অবস্থাতেই জাতীয় পতাকা পরিবহনের পিছনে উত্তোলন করা যাবে না।

মিছিলের ক্ষেত্রে জাতীয় পতাকা সামনের সারিতে ডানে বা মাঝখানে রাখতে হবে। বাম পাশে নয়। কোনো অবস্থাতেই জাতীয় পতাকা মাটিতে, পানিতে বা অন্য কোনো জায়গায় অবজ্ঞা করে ফেলা যাবে না। জাতীয় পতাকার ওপর কিছু লেখা অথবা মুদ্রণ করা যাবে না। এমনকি কোনো অনুষ্ঠান উপলক্ষে কিছু আঁকাও যাবে না।

মোটরগাড়ি, নৌযান, উড়োজাহাজ ও বিশেষ অনুষ্ঠান ব্যতীত অন্য সময় পতাকা সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত উত্তোলিত থাকবে এবং সূর্যাস্তের পর কোনো মতেই পতাকা উড্ডীয়ন অবস্থায় থাকবে না।

শোক দিবস সমূহে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখতে হবে। এক্ষেত্রে প্রথমে জাতীয় পতাকা পুরোপুরি উত্তোলন করে তারপর অর্ধনমিত অবস্থায় নামিয়ে আনতে হবে। আর দিনের শেষে জাতীয় পতাকা নামানোর সময় প্রথমে অর্ধনমিত অবস্থা থেকে পুরোটা উত্তোলন করে তারপর নামিয়ে আনতে হবে।

বাংলাদেশের পতাকার ঊর্ধ্বে অন্য কোনো পতাকা বা রঙিন পতাকা উত্তোলন করা যাবে না। যেকোনো স্থানে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের সময় দাঁড়িয়ে সম্মান প্রদর্শন করতে হবে।

জাতীয় পতাকাকে পোশাক হিসেবেও ব্যবহার করা যাবে না এবং গায়ে জড়িয়ে রাখা যাবে না। তবে পূর্ণ সামরিক মর্যাদা বা পূর্ণ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ব্যক্তিকে সমাধিস্থ করা হলে তার শবযাত্রায় জাতীয় পতাকা আচ্ছাদন হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।

অনুমতি ছাড়া ব্যবসা-বাণিজ্য বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে জাতীয় পতাকাকে ট্রেডমার্ক, ডিজাইন বা পেটেন্ট হিসেবে ব্যবহার করাও অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।

পতাকা এমনভাবে উত্তোলন, প্রদর্শন বা মজুদ করা যাবে না, যাতে এটি সহজেই ছিঁড়ে যেতে পারে, মাটি লাগতে পারে বা নষ্ট হতে পারে।

কোনো দেয়ালে দণ্ডবিহীন পতাকা প্রদর্শিত হলে তা দেয়ালের সমতলে এবং রাস্তায় প্রদর্শিত হলে উলম্বভাবে দেখাতে হবে। গণমিলনায়তন কিংবা সভায় পতাকা প্রদর্শন করা হলে বক্তার পেছনে ও ঊর্ধ্বে স্থাপন করতে হবে।

আনুষ্ঠানিকভাবে পতাকা উত্তোলনের সময় জাতীয় সংগীত গাইতে হবে। যখন জাতীয় সংগীত বাজানো হয় এবং প্রদর্শিত হয় তখন উপস্থিত সবাইকে পতাকার দিকে মুখ করে দাঁড়াতে হবে।

পতাকার অবস্থা ব্যবহারযোগ্য না হলে তা মর্যাদাপূর্ণভাবে সমাধিস্থ করতে হবে।

বিধি ভঙ্গ করে কেউ জাতীয় পতাকার অবমাননা করলে তাকে একই বিধি অনুযায়ী সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড বা পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে।

জাতীয় পতাকা শুধু একটি কাপড় নয়, এটি আমাদের পরিচয় এবং আমাদের স্বাধীনতার প্রতীক। সুতরাং এর মর্যাদা রক্ষার দায়িত্ব আমাদেরই।

Print Friendly and PDF

সর্বাধিক পঠিত