অন্য চোখে

আজমল তানজীম সাকির (১৪), ঢাকা 

Published: 2017-09-26 22:06:17.0 BdST Updated: 2017-09-26 22:06:17.0 BdST

নাম ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় হলেও বিদ্যাসাগর হিসেবেই বেশি পরিচিত তিনি। অগাধ জ্ঞানের কারণে তার এ উপাধি। তাকে বাংলা গদ্যের জনকও বলা হয়। বদান্যতার জন্য পরিচিত ছিলেন ‘দয়ার সাগর’ হিসেবেও।

১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে মামার বাড়িতে ঈশ্বরচন্দ্র জন্ম নেন। তার বাবা ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায় একজন চাকরিজীবী ছিলেন। মায়ের নাম ভগবতা দেবী ।  

পাঁচ বছর বয়সে ঈশ্বরের পড়ালেখায় হাতেখড়ি হয় গ্রামের পাঠশালায়। শিক্ষার্থী হিসেবে ছিলেন তুখোড়। নয় বছর বয়সে কলকাতায় এসে ভর্তি হন কলকাতা সংস্কৃত কলেজে।  

প্রতিভাবান এই ছাত্র পরীক্ষায় বরাবর বৃত্তি পেয়েছেন। ১৯৩৯ সালে ১৯ বছরের তরুণ ঈশ্বর এক বিশেষ পরীক্ষায় প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে ‘বিদ্যাসাগর’ উপাধি পান। ১৮৪১ সালে কলেজের প্রশংসাপত্রেও তাকে বিদ্যাসাগর হিসবে ভূষিত করা হয়।  

১৮৪৯ সালে তার ছাত্রজীবন শেষ হয়। ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের প্রধান পণ্ডিত ছিলেন তিনি। ১৮৫১ সালে সংস্কৃত কলেজের অধ্যক্ষ হন। 

নারীর অগ্রগতিতে তার ভূমিকা অনেক। বিদ্যালয় ইন্সপেক্টরের দায়িত্বে থাকার সময় তার অধীনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ৩৫টি বালিকা বিদ্যালয়।  

১৮৫৭ সালের নবজাগরণের পুরোধা ব্যক্তিত্ব হিসেবে তার নাম উল্লেখযোগ্য। বাল্যবিয়ে দূর করা, বিধবা বিয়ে প্রচলন, বহুবিবাহ রোধসহ নারীর স্বার্থে বিভিন্ন কাজে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন তিনি। 

পড়ালেখায় বিদ্যাসাগর অদম্য ছিলেন তো বটেই, লেখার হাতও ছিল অনন্য। তিনিই প্রথম বাংলা গল্পে বিরাম চিহ্নের সঠিক ব্যবহার করেন। বাংলা গদ্যে তার প্রাঞ্জল লেখা, শব্দের চৌকষ ব্যবহার, সহজবোধ্য বাক্য প্রয়োগের কারণে বাংলা গদ্যে নিজেকে নিয়ে গিয়েছেন অনন্য উচ্চতায়। বলা হয়ে থাকে, তিনি বাংলা গদ্যের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলার আবিষ্কারক। তাই তার আরেক উপাধি, বাংলা গদ্যের জনক। 

বিদ্যাসাগরের জীবন নানান গল্পে আর কীর্তিতে ভরা। ১৯ বছর বয়সে পাণ্ডিত্য জাহির করে বিদ্যাসাগর উপাধি লাভ, অসুস্থ মাকে দেখতে যাওয়ার জন্য ছুটি চেয়ে আবেদন নাকচ হওয়ায় চাকরি ছেড়ে দেওয়া এবং প্রচণ্ড বর্ষার রাতে উত্তাল দামোদর নদী সাঁতরে মাকে দেখতে যাওয়াসহ নানান গল্প। বাংলা বর্ণকে সুন্দরভাবে সাজিয়ে বর্ণমালার প্রথম সার্থক গ্রন্থ ‘বর্ণ পরিচয়’ তারই রচনা। 

শকুন্তলা, বেতাল পঞ্চবিংশতি, সীতার বনবাস, চরিতাবলী, ভ্রান্তিবিলাস, আখ্যান মঞ্জরী, তার উল্লেখযোগ্য সৃষ্টি। অনুবাদেও তার হাত ছিল বেশ পাকা।

১৮৯১ সালের ২৯ জুলাই মারা যান তিনি।  

সাহিত্য রচনার পাশাপাশি, সমাজ সংস্কার ও শিক্ষার বিস্তারেও বিদ্যাসাগরের অবদান রয়েছে। তিনি আমৃত্যু ছড়িয়ে গিয়েছেন সভ্যতার আলো।

Print Friendly and PDF

সর্বাধিক পঠিত