অন্য চোখে

মেহেদী হাসান (১৬), বরিশাল

Published: 2017-06-12 20:13:16.0 BdST Updated: 2017-06-12 20:13:16.0 BdST

‘রাত পোহাবার কত দেরি পাঞ্জেরি?
এখনো তোমার আসমান ভরা মেঘে?
সেতারা, হেলাল এখনো ওঠেনি জেগে?
তুমি মাস্তলে, আমি দাঁড় টানি ভুলে;
অসীম কুয়াশা জাগে শূন্যতা ঘেরি।’

প্রায় একশ বছর আগে এই কবিতার জনক জন্ম নেন মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার মাঝাইল গ্রামে। 

মানবতাবাদ, ইসলামী ঐতিহ্য, সাহিত্য আন্দোলন, রোমান্টিকতাসহ শব্দচয়ন, শব্দ প্রয়োগে তার লেখা ছিল সহজ ও প্রাঞ্জল।

কবির নাম ফররুখ আহমদ। শনিবার, ১০ জুন কবির ৯৯তম জন্মতিথি ছিল।   

বাবা পুলিশের কর্মকর্তা সৈয়দ হাতেম আলী ও মা রওশন আখতারের সন্তান ফররুখের শিক্ষায় হাতেখড়ি হয় গ্রামের পাঠশালাতেই। পরে কলকাতায় এসে তিনি ভর্তি হন তালতলা মডেল এম ই স্কুলে। সেখান থেকে চলে যান কলকাতার বালিগঞ্জ সরকারি হাইস্কুলে এবং সবশেষে খুলনা জিলা স্কুলে ভর্তি হয়ে ১৯৩৭ সালে ম্যাট্রিক পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে পাস করেন। স্কুল পেরিয়ে ১৯৩৯ সালে কলকাতা রিপন কলেজ থেকে আই এ পাস করেন।
এরপরে স্কটিশ চার্চ কলেজে দর্শন এবং ইংরেজি সাহিত্য নিয়ে পড়াশোনা শুরু করলেও তা শেষ করা হয়ে ওঠেনি তার।

কলেজে পড়ার সময়েই জড়িয়ে পড়েন বামপন্থি রাজনীতিতে তবে পরে রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসেন।

১৯৪৭-এ দেশ ভাগের আগে কলকাতায় থাকার সুবাদে ফররুখের কর্মজীবনের সূচনা ঘটে সেখানেই। সেখানে তিনি কিছুদিন আই জি প্রিজন অফিসে, সিভিল সাপ্লাইতে এবং জলপাইগুড়ির একটি ফার্মে চাকরি করেন। এছাড়াও তিনি মাসিক পত্রিকা 'মোহাম্মদী'-র ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক  হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৪৮ সালে দেশভাগের ঢাকা এসে নিয়মিত স্টাফ আর্টিস্ট হিসেবে ঢাকা বেতারে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত চাকরি করেন।

সাহিত্যে হাতেখড়ি স্কুলজীবন থেকেই। প্রথম কবিতা বের হয় খুলনা জিলা স্কুল ম্যাগাজিনে। তার কবিতায় আরবি ও ফার্সি শব্দ ব্যবহার আর ইসলামি সংস্কৃতির প্রভাব আছে।  

সাহিত্যের নানান শাখায় বিচরন করে তিনি রচনা করেন সনেট, হামদ-না'ত, গজল, কবিতা, নিবন্ধ, কাহিনীকাব্য, কাব্যনাট্য, ছড়া, গল্প, শিশু সাহিত্যসহ অনেক লেখা রয়েছে তার।

সাত সাগরের মাঝি, সিরাজাম মুনীরা, মুহূর্তের কবিতা, হাবিদা মরুর কাহিনী, সিন্দাবাদ, পাখির বাসা, হরফের ছড়া তার উল্লেখযোগ্য রচনা।

সাহিত্যে স্বীকৃতি হিসেবে বাংলা একাডেমি পুরস্কার, প্রেসিডেন্ট পদক, ইউনেস্কো পুরস্কার, একুশে পদক (১৯৭৭-মরণোত্তর) ও স্বাধীনতা পদক (১৯৮০-মরণোত্তর) পান।

শেষ জীবনে চরম অভাবের শিকার হয়ে পড়েন। ১৯৭৪ সালের ১৯ অক্টোবর  ঢাকায় এই কবি মারা যান।

Print Friendly and PDF

সর্বাধিক পঠিত