অন্য চোখে

জুঁই রাণী (১১), নীলফামারী

Published: 2016-12-29 19:32:45.0 BdST Updated: 2017-01-02 19:11:49.0 BdST

স্বাধীনতাযুদ্ধে বাঙালির বিজয়ের ৪৫তম বার্ষিকীতে স্মারক ডাক টিকেট ও খাম ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কিন্তু ডাকটিকেটের ইতিহাস দূরে থাক, এখনকার বেশিরভাগ শিশুই ডাকটিকেট, ডাকটিকেট জমানোর শখের কথা বা ডাকবিভাগ সম্পর্কে জানে না।

মোবাইল ফোন, মোবাইলের খুদে বার্তা, ইমেইল, বিকাশ আর কুরিয়ার সার্ভিস ডাকবিভাগের জায়গা দখল করেছে এখন। কিন্তু একটা সময় পর্যন্ত চিঠি আর মানি অর্ডার ছিল খুব আকাঙ্ক্ষিত। আর ছোটো বড় অনেকের ছিল দেশ বিদেশের ডাকটিকেট সংগ্রহ আর জমানোর শখ।  

১৯৭১ সালের ২৯ জুলাই বাংলাদেশের প্রথম আটটি ডাকটিকেট বিভিন্ন দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করতে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট একটি অনুষ্ঠান করে। আটটির প্রতি সেটের মূল্য ছিল ২১ টাকা ৮০ পয়সা।  

ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সদস্য জন স্টোনহাউসের পরামর্শ অনুযায়ী একই বছর এপ্রিলের শেষদিকে প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ ডাকটিকেট প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেন। তখন যুক্তরাজ্য প্রবাসী ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বাঙালি গ্রাফিক শিল্পী অধ্যাপক বিমান মল্লিকের সঙ্গে যোগাযোগ করে ডাকটিকেটের নকশা তৈরি করে দেওয়ার অনুরোধ করেন। বিমান মল্লিকের বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধি আবু সাঈদ চৌধুরীর নির্দেশ মতো ডাকটিকেটের পরিকল্পনা ও নকশা তৈরির দায়িত্ব নেন। ছয় সপ্তাহের মধ্যে আটটি ডাকটিকেটের নকশা তৈরির কাজ শেষ করেন তিনি।

ডাকটিকেটগুলোতে ছিল বাংলাদেশের মানচিত্র, ব্যালটবাক্স, শিকল ভাঙার ছবি, বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণহত্যার ছবি।   

১৯৭২ সালের স্বাধীনতা দিবসে বের হওয়া ডাকটিকেটের প্রতীক ছিল আগুনের ফুলকি। এর ডিজাইনার ছিলেন নিতুন কুন্ডু। আর এ বছরের বিজয় দিবসেও ডাকটিকেট বের করা হয়। ডিজাইনার ছিলেন কে জি মুস্তফা।

১৯৮২ সালের ১৬ ডিসেম্বর মুক্তিযুদ্ধের সাত বীরশ্রেষ্ঠ স্মরণে প্রথম ডাকটিকেট বের হয়। ডিজাইনার ছিলেন আহমেদ এফ করিম।   

Print Friendly and PDF

সর্বাধিক পঠিত