বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত শিশুদের সঙ্গে মিমের সাক্ষাৎ

১০ বছর বয়সী নাজিমুল নামের এক শিশুর সঙ্গে কথা বলে মিম।
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত শিশুদের সঙ্গে মিমের সাক্ষাৎ

ছবি: ইউনিসেফ

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত শিশুদের সঙ্গে দেখা করতে সিলেট সফর করেছেন ইউনিসেফ বাংলাদেশের জাতীয় শুভেচ্ছাদূত বিদ্যা সিনহা মিম।

হ্যালো ডট বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জাতিসংঘ শিশু তহবিল- ইউনিসেফ এই তথ্য জানিয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়,  মে-জুন মাসে দেশের উত্তর-পূর্বে আঘাত করা বন্যার ফলে খাদ্য, পানি ও স্যানিটেশন সংকটে ৩৫ লাখ শিশুসহ ৭২ লাখ মানুষের জীবনযাত্রা ব্যাহত হয় । বন্যাকবলিত এলাকায় যখন চিকিৎসা সুবিধা ব্যাহত ও শত শত স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তখন বহু পরিবার বাধ্য হয় আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে।

জেলার গোয়াইনঘাট উপজেলায় শিশুদের সঙ্গে কথা বলার পর বিদ্যা সিনহা মিম বলেন, “সিলেটে শিশু ও তাদের বাবা-মায়েদের কাছ থেকে যে গল্পগুলো শুনেছি তা হৃদয় বিদারক। বন্যার কারণে তাদের জীবন ওলট-পালট হয়ে গেছে। এরপরও তারা অবিশ্বাস্য রকমের দৃঢ়তা দেখিয়েছে। আমাদেরকে অবশ্যই তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে এবং তাদের ক্ষতি কাটিয়ে ওঠায় সহায়তা করতে হবে।”

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয় ১০ বছর বয়সী নাজিমুল নামের এক শিশুর সঙ্গে কথা বলে মিম।

নাজিমুল বলে, “প্রথমে যখন ঘরে পানি আসতে শুরু করে তখন আমি কিছুই বুঝতেছিলাম না। আমার জামা কাপড়, বই, ঘরের সব জিনিস কোনো কিছুই বাদ ছিল না। সবকিছু পানিতে ভেসে যায়। আমাকে যদি স্কুলে (আশ্রয়কেন্দ্রে) না নিয়ে আসা হতো তাহলে আমিও ভেসে যেতাম। তিন-চারদিন দিন না খেয়ে ছিলাম। আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার পর সেখানে মুড়ি, চিড়া এসব শুকনো খাবার দেয়।”

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, বন্যার পানি কমে যাওয়ার কয়েক মাস পর এখনও লাখ লাখ পরিবার সেই বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে পারেনি।

ইউনিসেফ জরুরি পানি, স্যানিটেশন, নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সামগ্রী বিতরণসহ পানিতে ডুবে যাওয়া, পরিবার থেকে বিচ্ছিন্নতা, সহিংসতা ও নির্যাতন থেকে শিশুদের সুরক্ষা দিতে সরকারের জরুরি বন্যা মোকাবিলা কার্যক্রমে সহায়তা করে।

এখন পর্যন্ত ইউনিসেফের সহায়তা কর্মসূচি থেকে উপকৃত হয়েছে ১০ লাখের বেশি মানুষ, যাদের ৪০ শতাংশ শিশু।

দুই দিনের সফরে মিম সরাসরি দেখেছেন কীভাবে ইউনিসেফ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ল্যাট্রিন, পানি সংগ্রহ কেন্দ্র, স্কুল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো পুনরায় চালু ও পুনর্নিমাণে ভূমিকা রাখছে। মিম সমাজকর্মীদের সঙ্গেও দেখা করেন যারা বন্যার পর শিশু ও তাদের পরিবারকে সহায়তা করেছেন।

বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি শেলডন ইয়েট বলেন, “মিমের সফর আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে পানি কমার পরও বাংলাদেশের শিশুরা বন্যা ও জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বিভিন্ন দুর্যোগের ঝুঁকিতে রয়েছে। আজ মিম সেই শিশুদের দুর্দশার কথা তুলে ধরছেন যারা বন্যার কয়েক মাস পরও বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন এবং যাদের এখনও সহায়তা প্রয়োজন।”

২০২২ সালের মে মাসে বাংলাদেশে ইউনিসেফের জাতীয় শুভেচ্ছাদূত নিযুক্ত হওয়া মিম সিলেটের একটি চা বাগান এবং ইউনিসেফ সহায়তাপুষ্ট একটি কিশোর-কিশোরী ক্লাবের শিশু-কিশোরদের সঙ্গেও দেখা করেন।

প্রতিবেদকের বয়স: ১৩। জেলা: ঢাকা।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.

সর্বাধিক পঠিত

No stories found.
bdnews24
bangla.bdnews24.com