রক্তস্বল্পতা: মাসিকে দরকার আয়রন সমৃদ্ধ খাবার

মাসিককালীন আয়রন ঘাটতিকে বাংলাদেশে নারীদের রক্তস্বল্পতার অন্যতম কারণ হিসেবে মনে করছে ইউনাইটেড স্টেটস ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব মেডিসিন।
রক্তস্বল্পতা: মাসিকে দরকার আয়রন সমৃদ্ধ খাবার

এনএলএম এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে প্রায় ৫১.৬% মেয়ে এনিমিয়া বা রক্ত স্বল্পতার রোগে ভুগছে। আর এর অন্যতম কারণ হচ্ছে পিরিয়ডকালিন আয়রনের ঘাটতি।

এ ব্যাপারে ঢাকার বিএসএমএমইউতে কর্মরত শিশু বিভাগের চিকিৎসক দেবশ্রী পাল বলেন, “মাসিককালীন সময়ে বিভিন্ন শাক-সবজি যেমন সরিষা শাক, কচু শাক, বোত্তা শাক, কাঁচা কলা এসব খেতে হবে। এসবের দাম কম কিন্তু প্রচুর আয়রন সমৃদ্ধ। পুঁই শাক, পাট শাক, শিম, পেঁপেতে আছে ফলিক এসিড। এগুলি নিয়মিত খেতে হবে। তা না হলে রক্ত স্বল্পতা দেখা দিতে পারে।”

তিনি বলেন, “মাসিক ছাড়াও অন্যান্য সময়েও মেয়েদের জন্য আয়রন ও ফলিক এসিড সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া দরকার।”

মাসিক প্রতিটি মেয়ে জীবনের একটি সুস্থ ও স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। এই সময়ে মেয়েদের জরায়ু থেকে রক্ত নির্গত হয়। কিশোরী কিংবা নারী, সে যেই হোকনা কেন, ঋতুচক্র প্রতিটি মেয়ের শরীর ও মনের শক্তিকে প্রভাবিত করে। ফলে দরকার হয় বাড়তি খাবার ও যত্ন।

ইউনিসেফেরে এক নির্র্দেশিকায় মাসিক ঋতুচক্রে পুষ্টিকর খাদ্য, বিশেষত কলা, মটরশুটি, শিম, লেবু, মাংস প্রভৃতি, রক্তশূন্যতা পূরনে সাহায্য করে, এমন খাবার খেতে বলা হয়েছে। তাছাড়া এ সময়ে অন্তত আট ঘণ্টা ঘুম ও প্রচুর পরিমাণে পানি পান করারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আমাদের দেশে খুব কম সংখ্যক পরিবারেই পিরিয়ড নিয়ে আলোচনা, প্রয়োজনীয় খাবার ও যত্নের ব্যবস্থা রাখা হয়।

এ বিষয়ে রাজধানীর শুক্রাবাদ এলাকায় বসবাসকারী এক গৃহকর্মী জেসমিনের সাথে কথা হয় হ্যালোর। তিনি জানান, তার ১৬ বছর বয়সী মেয়ে বা নিজের জন্য বিশেষ কোনো খাবারের ব্যবস্থা তার নেই। তিনি জানেনও না এর জন্য তাদের কী ক্ষতি হতে পারে।

তিনি বলেন, “ডাইল ভাতইতো খাইবার পারি না, মাছ, মাংস, দুধ, ডিম কই পামু।”

এমনি আরেক নারী জোসনা বেগম। থাকেন রাজাবাজার এলাকায়। কাজ করেন বিভিন্ন বাসা বাড়িতে। তারও রয়েছে ১৩/১৪ বছর বয়সী এক মেয়ে। তিনি হ্যালোকে বলেন, “যখন যা পারি তাই খাইতে দেই। আলগা কিছু দিতে পারিও না, দেইও না।”

তবে পুষ্টিকর খাবার মানেই দামী খাবার নয় বলে জানান চিকিৎসক দেবশ্রী।

তিনি বলেন, “বিভিন্ন শাক-সবজি যেমন সরিষা শাক, কচু শাক, বোত্তা শাক, কাঁচা কলা এসবের দাম কম কিন্তু প্রচুর আয়রন সমৃদ্ধ। পুঁই শাক, পাট শাক, শিম, পেঁপেতে আছে ফলিক এসিড। এগুলি নিয়মিত খেতে হবে।”

সন্তানের মাসিকের সময়ের স্বাস্থ্য নিয়ে বেশ সচেতন এমন বাবা-মাও কম নয়। রাবেয়া সুলতানা এমনি একজন মা। তার মেয়ে ঢাকার একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের নবম শ্রেণিতে পড়ে।

তিনি হ্যালোকে বলেন, “আমি আমার মেয়েকে শিখিয়েছি এসময়ে কীভাবে হাইজিন মেনটেইন করতে হয়। আমি অন্তত এ সময়টা তাকে জোর করে হলেও সবুজ শাক-সবজি, ফল, মাছ মাংস খাওযাই।”

প্রায় একই রকমের অনুভূতির কথা জানিয়ে ময়মনসিংহের এক সরকারি প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষিকা তাহমিনা রোজ বলেন, “আমি যে সকল বিষয়ে অসচেতন ছিলাম আমার কলেজ পড়ুয়া মেয়ের বেলায় ততটাই সচেতন। আমি তাকে শিখিয়েছি প্যাডের ব্যবহার, কী খেতে হবে আর কোনটা কুসংস্কার।”

এ সময় তিনি বেশি করে পালং শাক, কচু, কচুর লতি, ডিমের সাদা অংশ ও বাদাম খাওয়ার প্রতি জোর দেন।

সরকারি আনন্দমোহন কলেজের একাদশ শ্রেণিতে পড়ছে প্রিয়তা। অনলাইন কথোপকথনে সে হ্যালোকে জানায় মাছ-মাংস তার পছন্দের খাবার হলেও শাক সবজি ভালো লাগে না। কিন্তু সে তার মা, খালাদের কাছ থেকে জানতে পেরেছে মাসিকের সময়ে আয়রন সমৃদ্ধ খাবার না খেলে স্বাস্থ্যগত সমস্যা হতে পারে।

সে বলে, “প্রতি মাসে এক সপ্তাহ নাক চোখ বন্ধ করে শাক, সবজি আর কলিজা খাই।”

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.

সর্বাধিক পঠিত

No stories found.
bdnews24-web.quintype.io