মাসিক নিয়ে যত কুসংস্কার

মাসিক প্রতিটি নারীর জীবনের একটি অত্যন্ত স্বাভাবিক ঘটনা। কিন্তু আমাদের দেশে পিরিয়ড নিয়ে আছে নানা কুসংস্কার। যেগুলো কিশোরীদের জীবনকে বিভীষিকাময় করে তোলে।
মাসিক নিয়ে যত কুসংস্কার

প্রতি ২৮দিন অন্তর অন্তর নারীদের যে রক্তস্রাব হয় তাকে পিরিয়ড বলা হয়। এসময় আমাদের দেশের নারীরা অনেক নিয়ম-কানুন মেনে চলেন। যেগুলোর বেশিরভাগই আসলে কুসংস্কার।

যেমন, এ সময় আচার, শশা, ঠাণ্ডা পানি খাওয়া যাবে না, খোলা চুলে বাইরে ঘোরাফেরা যাবে না, মাসিকের সময় ব্যবহৃত কাপড় রোদে শুকানো যাবে না। অথচ রোদে কাপড় না শুকালেই বরং ক্ষতির ঝুঁকি থাকে। আমি স্কুলের বইয়ে পড়েছি এই সময় ব্যবহৃত কাপড় রোদে ভালো করে শুকাতে হবে। ে সময় মেয়েদের অপবিত্র মনে করা হয়। যেটা মোটেও ঠিক নয়।

প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম প্রতিটি মেয়েই এই কথাগুলো কখনো না কখনো শুনেছে।

তাবিবা ইসলাম আলিফ (১৪)রাজধানীতে বসবাস করে। সে শুনেছে এসময় শশা, ডাব, ঠাণ্ডা পানি এবং আচার খাওয়া যাবে না।

সে হ্যালোকে বলে, “আমি অনেকের কাছেই শুনেছি এসময় কিছু কিছু খাবার খাওয়া যায় না। যেমন শশা, ডাবের পানি, ঠাণ্ডা পানি ইত্যাদি। আবার আমাকে এসময় সন্ধ্যার পর খোলা চুলে থাকতে নিষেধ করা হয়েছে। যদিও আমি বইতে পড়েছি এগুলো কুসংস্কার ছাড়া কিছু নয়, তবুও গুরুজনদের এসব কথা আমাকে মেনে চলতে হয়।”

এরকমই আরো একজন কিশোরী শরিফা আক্তার সুমাইয়া। সেও রাজধানীতে বসবাস করে। সে অবশ্য এসবে না মানলেও বড়দের কাছে শুনেছে।

সুমাইয়া হ্যালোকে বলে, “আমি শুনেছি এসময় খোলা চুলে থাকতে নেই। সবাই বলে টক কিছু খাওয়া যাবে না এসময়। আমি অবশ্য এসব সেভাবে মানি না তারপরও কিছু কিছু বিষয় আছে যেগুলো মানতেই হয়।”

এমাসেই প্রথম পিরিয়ড হয়েছে কাশফিয়া জান্নাত কুহু নামের এক কিশোরীর। ১২ বছর বয়সী হ্যালোকে বলে, “আমি একে বারেই নতুন। তাই খুব বেশি কিছু আমি শুনিনি এখনো। আমাকে এ সময় কোনো কিছু খেতে নিষেধ করা না হলেও আচার একটু কম খেতে বলা হয়েছিল। আমার মা, বাবা, বড় বোন সবাই আমাকে সাহায্য করেছেন। তারা আমাকে এবিষয়টি সম্পর্কে বিভিন্ন বই পড়তে দিয়েছেন যাতে আমি সঠিক তথ্য জানতে পেরেছি। আমার বাবা আমার জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন উপকরণ কিনে এনেছেন।”

কথা হয় সাবিনা ইয়াসমিন (৪৬) নামের এক নারীর সঙ্গে।  মধ্যবয়সী এই নারী রাজধানীর একটি বেসরকারি বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন।

তিনি হ্যালোকে বলেন, “আমরা যখন ছোট ছিলাম তখন তো এসব অনেক শুনেছি। কিন্তু আমার মা শিক্ষিত ছিলেন, আমিও পড়াশোনা করেছি তাই খুব বেশি কুসংস্কার মানতে হয়নি। তবে আমি দেখেছি অনেকেই এসময় অনেক বেশি নিয়ম-কানুন মেনে চলে।”

একই রকম কথা বলেছেন শিউলী খাতুন (৪০) নামের আরো একজন নারী। তিনি রাজধানীর একটি দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক।

তিনি বলেন, “এসব কুসংস্কার আসলে অল্প শিক্ষিত পরিবারগুলোতে বেশি দেখা যায়। আমি এসব বিশ্বাস করি না, আমার মেয়েদেরও এসব মানতে বলি না। কৈশোরে আমার পরিবার থেকে এসব বলা না হলেও প্রতিবেশিরা মাঝে মাঝে বলত। আমার মনে হয় প্রতিটি মেয়েই জীবনের কোনো না কোনো সময়ে এধরণের কথা শুনেছে।”

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.

সর্বাধিক পঠিত

No stories found.
bdnews24-web.quintype.io