সংক্ষিপ্ত সিলেবাসের বার্ষিক পরীক্ষা কেমন হচ্ছে | hello.bdnews24.com
খবরাখবর

কারিমা ফেরদৌসী কেকা (১৩), ঢাকা

Published: 2021-11-26 22:37:59.0 BdST Updated: 2021-12-01 20:37:51.0 BdST

স্কুল খোলার পর হাতে গোনা কয়েক দিন ক্লাস করেই বার্ষিক পরীক্ষায় বসতে হয়েছে মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদের।

দীর্ঘ দুই বছর পর ২৪ নভেম্বর বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হয়েছে সারা দেশের সব স্কুলে। সিলেবাস থেকে শুরু করে আসন বিন্যাস, প্রশ্নের ধরণ সব কিছুতেই ভিন্নতা এসেছে।

এতে ভীতি ও দুশ্চিন্তা হচ্ছে বলে হ্যালো ডট বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানিয়েছে কয়েক জন শিক্ষার্থী।

রাজধানীর একটি বেসরকারি স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী কাশফিয়া জান্নাত কুহু বলে, “আমাদের ক্লাস হয়েছে মাত্র ১৫ দিন। যদিও অনলাইনে ক্লাস হয়েছে তারপরও খুব নার্ভাস ছিলাম। তার ওপর প্রথম দিনই ছিল গণিত পরীক্ষা৷

“তবে পরীক্ষার প্রশ্ন পাওয়ার পর সব ভয় কেটে গেছে। ভেবেছিলাম সকল প্রশ্নের উত্তর লিখে শেষ করতে পারব না। এখন মনে হচ্ছে পরবর্তী পরীক্ষাগুলোও ভালো হবে।”

একই স্কুলের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাফিসা আক্তার বলে, “আমাদের প্রশ্ন হয়েছে সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে। সপ্তম শ্রেণিতে খুব বেশি পড়াশোনা হয়নি, এ বছরও পুরো বই শেষ করতে পারিনি। পরবর্তী সময়ে এর একটা প্রভাব তো আমাদের উপর পড়বেই।"

তবে দীর্ঘ ছুটিতে পড়া এগিয়ে রাখায় কিছুটা চাপ কমেছে স্কুলটির আরেক শিক্ষার্থী নাইম হাসান সিয়ামের।

সে বলে, “আমি বন্ধের মাঝেও কিছু কিছু পড়াশোনা করেছি। কিন্তু, স্কুলের শিক্ষকরা যেভাবে পড়ান তেমন করে নয়। আমার মনে হয়, পরবর্তী ক্লাসে যদি এই ক্লাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলো ভালোভাবে না পড়ানো হয় তাহলে একটা দুর্বলতা থেকে যাবে।

“আশা করব শিক্ষকরা নবম শ্রেণিতে প্রথম কয়েক মাস আমাদের অষ্টম শ্রেণির অধ্যায়গুলো পড়াবেন।”

পরীক্ষা দিতে ‘একটু বেগ’ পেতে হচ্ছে মফস্বলের অনেক শিক্ষার্থীর। এ ব্যাপারে কথা হয় জামালপুর জেলার একটি বেসরকারি স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী আদিবা মাহ্ জেবিনের সঙ্গে।

সে হ্যালোকে বলে, “শহরের শিক্ষার্থীরা অনলাইনে ক্লাস করলেও আমাদের সেই সুযোগ ছিল না। সংসদ টিভির ক্লাস করতে গেলে কখনও কারেন্ট থাকত না আবার কখনও ডিশ থাকত না। খুব অল্প ক্লাস পেয়েছি পরীক্ষার আগে। পরীক্ষা দিয়ে অন্য রকম একটা অভিজ্ঞতা হলো।”

শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ঘাটতি, পরীক্ষা ও ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার ব্যাপারে কথা রাজধানীর একটি বেসরকারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক আকলিমা জাহানের সঙ্গে।

তিনি বলেন, “আমাদের স্কুলে একেবারে শুরু থেকেই অনলাইনে ক্লাস নেওয়া হচ্ছিল। স্কুল খোলার পরও আমরা চেষ্টা করেছি যাতে শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে না পড়ে সেই ব্যবস্থা করার। আমরা সেই সকল অধ্যায় পড়িয়েছি যেগুলো তাদের পরবর্তী সময়ে অবশ্যই লাগবে। বাকি অধ্যায়গুলোর বেশিরভাগই হয় তারা আগের শ্রেণিতে পড়েছে বা পরবর্তী শ্রেণিতে পড়বে।”

পরীক্ষায় স্বাস্থ্যবিধি মানা নিয়ে কথা বলেছেন একই বিদ্যালয়ের শিক্ষক কাইউম হিলালী। তিনি বলেন, “আমরা চেষ্টা করছি স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখতে। শিক্ষার্থীরা স্কুলে ঢুকে প্রথমেই হাত ধুচ্ছে বা স্যানিটাইজ করে হলে প্রবেশ করছে। পরীক্ষার হলেও তিন ফুট দূরত্ব মেনে বসেছে সবাই।”

শিক্ষার্থীদের টিকা প্রাপ্তি বিষয়ে তিনি বলেন, “আমাদের শিক্ষার্থীরা অনেক আগেই টিকার রেজিস্ট্রেশন করলেও এখনো কেউ টিকা পায়নি। আমাদের স্কুল ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাভুক্ত হলেও শিক্ষার্থীরা অনেকেই উত্তর সিটির হওয়ায় টিকা পেতে দেরি হচ্ছে।”

দেড় বছর পর এবছরের ১২ সেপ্টেম্বর স্কুলে গিয়ে সশরীরে ক্লাস করার সুযোগ পায় শিক্ষার্থীরা। এসএসসি পরীক্ষার্থীদের সপ্তাহে ছয় দিন ক্লাস হলেও অষ্টম ও নবম শ্রেণির দুই দিন আর ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ক্লাস হতো সপ্তাহে একদিন করে। এরই মাঝে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হয়।

Print Friendly and PDF

সর্বাধিক পঠিত