খবরাখবর

আজমল তানজীম সাকির (১৬), ঢাকা

Published: 2020-05-24 23:48:00.0 BdST Updated: 2020-05-24 23:48:00.0 BdST

একে একে ৩০ রোজা শেষ হয়ে গেলেও বাড়ি ফেরার তাড়া নেই, শূন্য পড়ে আছে রেল স্টেশন, বাস স্ট্যান্ড। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণে গণপরিবহন বন্ধ থাকায় বাড়ি ফেরা হয়নি অনেকের।

এবারের ঈদে বাড়ি ফেরার ট্রেনের জন্য অধীর অপেক্ষা নেই। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা আর নানা ভোগান্তি সত্ত্বেও মুখে হাসি নিয়ে ভালোবাসার মানুষদের জন্য যাত্রা করা হয়নি। বাসের টিকিটের জন্য ঢলও ছিল না।

একটি বেসরকারি ব্যাংকে চাকুরী করেন মোস্তফা আসিফ ইকবাল। বাবা-মা থাকেন খুলনায়।

তিনি বলেন, “বাবা-মা ছাড়া ঢাকায় এর আগে একবার ঈদ করতে হয়েছে। কিন্তু এতটা দম বন্ধ করার মতো পরিস্থিতি আসেনি। খারাপ লাগাটা স্বাভাবিক। গাড়ি ভাড়া করে যাওয়ার সুযোগ ছিল কিন্তু পরিবার ও নিজেকে ঝুঁকিতে ফেলাটা পছন্দ করিনি।

“বছরে দুই-তিনটি ছুটিতে বন্ধু মহলের সবাই একত্রিত হওয়ার সুযোগ পাই। এবার তা হচ্ছে না।”

সঙ্কটের সময় ঝুঁকি নিয়ে যারা জরুরি সেবা দিয়েছেন তাদের মধ্যে একজন তিনি। তা নিয়ে বলেন, “এটা নিয়ে আলাদা গর্ব করার একটা জায়গা আছে। যদি এবার বেঁচে যাই তাহলে সারা জীবন মনে রাখার মতো অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে।”

একটি মোবাইল ব্যাঙ্কিং প্ল্যাটফর্মে কর্মরত ইবনে জামানও তাদেরই দলে। ব্যক্তিগত গাড়ি থাকায় যাওয়ার সুযোগ পেয়েও যাননি। কোভিড-১৯ মহামারি আকার ধারণের আগেই বাবা-মাকে ঢাকায় নিয়ে এসেছেন তিনি। না যাওয়ার কারণ তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী এবং বর্তমান পরিস্থিতি।

তিনি বলেন, “গ্রামে আত্মীয়-স্বজন আছে, বন্ধু আছে। প্রতি বছরই ঈদে বাড়ি যাওয়া হয়। কিন্তু এবার নিজের ও এলাকার নিরাপত্তার কথা ভেবে যাইনি।”

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শাহান জামিল ভালো দিনের আশায় উৎসর্গ করেছেন ঈদের আনন্দ। পরিবারের সাথে মোবাইল ফোনে কথা বলে, সিনেমা দেখে আর বই পড়েই ঈদ কাটিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা শাহানের।

তিনি বলেন, "হয়তো অনেক উপায় ছিল যাওয়ার। কিন্তু গেলে আমার মাধ্যমে হয়তো আমার পুরো বাসায় ছড়াত।

“যেখানে দেশের ৩০ হাজারের এর মতো লোক ভাইরাসে আক্রান্ত এবং অনেকে মৃত্যুর সাথে লড়াই করছে সেখানে ঈদের কোনো আমেজই পাচ্ছি না। তবে একটা ভালো দিনের আশায়, এটুকু উৎসর্গ করাই যায়।”

প্রথমবারের মতো শ্বশুড়বাড়িতে ঈদ করার কথা ছিল মনিকা ফারজানার। কিন্তু সেটা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি বলেন, “সেখানে আমার শাশুড়ি এবার একা ঈদ করছেন। লকডাউনের জন্য আমি যেতে পারিনি। তারও একা ঈদ করতে খারাপ লাগছে আমি জানি। কারণ এইবার তার ইচ্ছা ছিল ছেলে ও ছেলের বউয়ের সাথে ঈদ করবে।”

শিশুদের মাঝেও ম্লান হয়েছে ঈদের আনন্দ। পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাহিয়ানের সাথে কথা হয় হ্যালোর। নাহিয়ান জানায় ঘরে বসেই কাটাতে হবে এবারের ঈদ। তাই তার মন ভালো না।নাহিয়ান বলে, “আগে দাদা বাড়ি যেতাম। বাবা-চাচার সাথে নামাজ পড়তে যেতাম। চাচাত ভাইদের সাথে খেলতাম। নানুবাড়িতে গেলে সালামি পেতাম। এবার ঢাকাতেই ঈদ করব। এখানে কিছুই করার নাই। তাই খারাপ লাগছে।” 

Print Friendly and PDF

সর্বাধিক পঠিত