খবরাখবর

মুহাম্মাদ শরিফুজ্জামান বাপ্পি(১৬), বুশরা মারদিয়া(১৫), রাজশাহী

Published: 2020-01-20 12:50:43.0 BdST Updated: 2020-01-20 13:00:48.0 BdST

রাজশাহী নগরীর বর্ণালি মোড়ের ছোটমনি নিবাস অনাথ ও ছিন্নমূল শিশুদের জন্য আশির্বাদ হয়ে উঠেছে।

সম্প্রতি ছোটমনি নিবাস ঘুরে দেখা যায়, সেখানে সবমিলিয়ে ১৬ জন শিশু রয়েছে। যাদের বয়স সাত বছরের নিচে। যাদের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য লোকবলও আছে পর্যাপ্ত।

জানা যায়, শিক্ষা ব্যবস্থার পাশাপাশি শিশুদের জন্য রয়েছে পর্যাপ্ত বিনোদন ও খেলাধুলার সুযোগও। রাস্তায় কুড়িয়ে পাওয়া শিশুগুলো পুলিশ ও কোর্টের অর্ডারের মাধ্যমে এখানে আসে। অনেক সময় ওয়ার্ড কমিশনারের সুপারিশেও শিশুরা এখানে আসে।

নবজাতক থেকে সাত বছর বয়স পর্যন্ত শিশুদের এখানে আশ্র‍য় দেওয়া হয়। এরপর তাদের রাজশাহী জেলার পবা উপজেলায় অবস্থিত পবা শিশুসদন কেন্দ্রে পাঠানো হয়। সেখানে শিশুদের ১৮ বছর না হওয়া পর্যন্ত রাখা হয়। পরবর্তীতে তাদের চাকরির ব্যবস্থা করা হয়।

শিশুদের সঙ্গে কাজ করতে কেমন লাগে, এমন প্রশ্নের জবাবে ছোটমনি নিবাসের উপ-তত্ত্বাবধায়ক ওয়াহেদা খাতুন হ্যালো ডট বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "শিশুরা তো ফুলের মতো পবিত্র।

"শিশুদের নিয়ে কাজ করতে পারলে আমি স্বর্গসুখ অনুভব করি।"

কোথাও ঠাঁই না হওয়া শিশুদেরকে আপন করে বুকে তুলে নিয়েছেন ছোটমনি নিবাসের কর্মরত সকলে। নিজের সন্তানের মতোই এই শিশুদের আগলে রাখছেন সবাই।

ওয়াহেদা খাতুন আরও বলেন, "আসলে পৃথিবীতে মায়ের বিকল্প কিছু নেই।

"আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছি শিশুদের অভাব পূরণের জন্য।"

তিনি জানান, ছোটমনি নিবাসে সুইপার ও বাবুর্চির পদ শূণ্য৷ যার ফলে শিশুদের রান্নাবান্না ও ছোটমনি নিবাস চত্ত্বর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে কর্তৃপক্ষকে বেশ সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।

আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কেউ চাইলে এখান থেকে শিশু দত্তক নিতে পারেন বলেও জানান তিনি।

নব্বইয়ের দশকে প্রতিষ্ঠিত এই নিবাসে সংস্কার হয়েছে খুব কম। তাই জরাজীর্ণ ভবনে ঝুঁকির মধ্যেই চলে পাঠদান। কিছুটা ঝুঁকির মধ্যেই শিশুদের থাকতে হয়। সরকারের পদক্ষেপই ছোটমনি নিবাসের চেহারা বদলে দিতে পারে বলে মনে করেন এই তত্ত্বাবধায়ক।

Print Friendly and PDF

সর্বাধিক পঠিত