খবরাখবর

সাইদুর রহমান সাগর (১৬), ঢাকা

Published: 2019-12-07 15:33:44.0 BdST Updated: 2019-12-07 15:36:34.0 BdST

রাজধানীর মিরপুর ১১ এর বিভিন্ন বস্তির বাল্যবিয়ে ঠেকিয়ে চলেছেন খোরশেদ আলম এবং শফিকুল ইসলাম নামের দুই ব্যক্তি। সমাজ ভিত্তিক শিশু সুরক্ষা কমিটির হয়ে কাজ করছেন তারা।

দুজন মিলে এ পর্যন্ত রুখে দিয়েছেন বেশ কয়েকটি বাল্যবিয়ে।

এই এলাকার ট্যাকের বাড়ির একটি ছোট বস্তিতে লাইজিলা খাতুন তার মেয়ে হাসি খাতুনকে নিয়ে থাকেন। হাসি খাতুনের যখন বিয়ে ঠিক হয় তখনো তার বয়সের চৌকাঠ ১৮ পার হয়নি। বাল্য বিবাহের অসংখ্য নেতিবাচক উদাহরণ সামনে থাকলেও তাতে তার বিয়ের পথে কোন প্রতিবন্ধকতা হয়নি। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার প্রায় শেষ পর্যায়ে বিয়ে পড়ানোর ঠিক আগে খোরশেদ আলম এবং শফিকুল ইসলাম খবর পেয়ে ছুটে যান বিয়ে বাড়িতে। তাদের সাহসিকতায় শেষ পর্যন্ত এই বিয়ে ঠেকানো যায়।

এ বিষয়ে খোরশেদ আলম হ্যালোকে বলেন, “আমি জানতে পারি যে ট্যাকের বাড়িতে হাসি খাতুন নামের এক মেয়ের বাল্যবিবাহ হচ্ছে, বরযাত্রীর খাওয়া-দাওয়াও ততক্ষণে শেষ। আমি সিবিসিপিসি মেম্বার শফিক ভাইকে ফোনে করে উনাকে নিয়ে যেয়ে বিয়ে বন্ধের ব্যবস্থা করি।”

অন্যদিকে এই ঘটনায় শফিকুল ইসলাম বলেন, “ঐ দিন রাত ৯টার দিকে খোরশেদ ভাইয়ের ফোন পেয়ে আমি সঙ্গে সঙ্গে চলে আসি। যাওয়ার পরে ছেলেমেয়ের কাগজ পত্র ঘেঁটে দেখা যায় ছেলে এবং মেয়ের বয়স হয়নি এখনও। তখন আমরা এই বিয়ে বন্ধ করি এবং সবাইকে বোঝানোর চেষ্টা করি।”

হাসি খাতুন প্রথমে রাজি থাকলেও এই বিয়ে ভাঙাতে বেশ খুশি হয়েছে বলে জানায়। বলে, “বিয়ে বন্ধ হওয়ার পরে আমি খুব খুশি। আমার বয়স ১৮ হবার পরে আমি বিয়ে করব তার আগে না।”

সমাজের নানা কুসংস্কার আর অভাবে পরে বিয়ে ঠিক করেছিলেন হাসি খাতুনের মা। পরে বুঝতে পেরেছেন নিজের ভুল। লাইজিলা খাতুন বলেন, “শফিক ভাই আর খোরশেদ ভাই আমারে বুঝাইছে।”

Print Friendly and PDF

সর্বাধিক পঠিত