খবরাখবর

শাহিন আলম (১৭), সাতক্ষীরা

Published: 2019-12-04 16:56:46.0 BdST Updated: 2019-12-04 16:56:46.0 BdST

সাতক্ষীরায় সুন্দরবন উপকূলীয় অঞ্চলে সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে পড়াচ্ছে ‘স্কুল অব হিউম্যানিটি’ নামের একটি স্কুল।

সম্প্রতি হ্যালো ঘুরে আসে স্কুলটি। কথা বলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে।

এই স্কুলে পড়ে আলম নামের এক শিশু। সাত কিংবা আট হবে, নদীতে জাল টেনে রেণু পোনা সংগ্রহের কাজ করে। আগে ইট ভাঁটায় কাজ করত। হার ভাঙা খাটুনি সইতে না পেরে ইট ভাঁটার কাজ ছেড়ে দিয়েছে ও। স্কুলেও যেত না।  তাকে ‘স্কুল অব হিউম্যানিটি’তে প্রথমদিন কিছুটা জোর করে ডেকে আনা হয়। তারপর থেকে এখন সে নিয়মিত ক্লাস করে।

আলমের মতো অনেক শিশু আছে, যারা শিক্ষা থেকে বঞ্চিত। অনেকেই ঝরে পড়ছে। সেই ভাবনা থেকেই শ্যামনগর উপজেলার পদ্মপুকুর ইউনিয়নের পাতাখালি গ্রামে প্রতিষ্ঠা করা হয় স্কুলটি। উদ্যোগটি গ্রহণ করেন সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের প্রভাষক ইদ্রিস আলী।

বর্তমানে স্কুলটির শিক্ষার্থীর সংখ্যা ত্রিশ জন। তারা সকলেই দরিদ্র পরিবারের সন্তান। এদের কারো কারো বাবা নেই, মা নেই। কেউ দাদীর কাছে থাকে, কেউ বা নানীর কাছে থাকে।

‘স্কুল অব হিউম্যানিটি’ গতানুগতিক ধারার বাইরে গিয়ে একটু ভিন্নভাবে পাঠ দিচ্ছে। সপ্তাহের একটি দিন তারা মজার ছলে লেখাপড়া শেখে। বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও জীবনধারণের উপযোগী অন্যান্য সাধারণ জ্ঞানের শিক্ষা দেওয়া হয়। ক্লাসের ফাঁকে জলবায়ু পরিবর্তন ও সুন্দরবনের উপকারি দিক ও তা রক্ষা বিষয়ক প্রয়োজনীয় শিক্ষা দেওয়ার হয় শিক্ষার্থীদের।

প্রতিদিন ক্লাসে ১০মিনিটের একটি খেলা বা কোনো জ্ঞানমূলক প্রতিযোগিতা হয়। সেখানে দেওয়া হয় পুরস্কার এবং ক্লাস শেষে থাকে খাবারের ব্যবস্থা।

মুশফিক নামের এক শিক্ষার্থী হ্যালোকে বলে, “প্রতি শুক্রবারে ক্লাস হয় শুনিছি, আজকি আমি প্রথম আয়ছি (এসেছি)। ভালো লাগদি (লাগছে) নতুন নতুন জিনিস শেখাতি (শেখাচ্ছেন) স্যারেরা। কিছু সময় লেখাপোড়া (পড়ান) আবার কিছু সময় খেলা কোরায় (করান)। আজকি (আজকে) বোর্ডে আমি গাড়ি আঁকায়ছি (এঁকেছি)।” 

কবির নামে আরেকজন বলে, “প্রথম দিন থেকে আসি, অনেক কিছু শিখি অনেক আনন্দও পাই। আগের এ রকম স্কুলে ক্লাস করিনি কোনোদিন। আমার পুরষ্কার দেয় তাই আর শেষে খাবার দেয় তাই বেশি ভালো লাগে।“

একজন অভিভাবক বলেন, “আমার চায়ের দোকান করি। আমি শারীরিকভাবে অসুস্থ। আমার ছেলে আমাকে সাহায্য করে। সে কিছুদিন যাবত মানবতার স্কুলে যায়। সেখানে যাওয়ার ফলে, এখন দেখছি নিয়মিত নোখ (নখ) কাটছে, দাঁত ব্রাশ করে, সাবান দিয়ে হাত পরিষ্কার করে। এসকল বিষয়গুলো পরিবর্তন হয়েছে আমি লক্ষ্য করেছি।”

স্কুলটির প্রতিষ্ঠাতা ইদ্রিস আলী হ্যালোকে বলেন, “গতানুগতিক ধারার বাইরে এসে শিশুদের পাঠদান করাচ্ছি, যাতে তারা স্কুলের প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠে। মূলত প্রতিদিন শিক্ষার্থীদের তাদের বয়স উপযোগী শিক্ষামূলক আকর্ষণীয় ভিডিও দেখানো, ভিডিও প্রদর্শনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদেরকে ক্লাসে মনোযোগী ও পরবর্তীতে স্কুলের প্রতি টান সৃষ্টি করানো হয়।”

“গান, কৌতুক ও অভিনয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পাঠে মনোযোগী ও পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ তৈরি করি। ভিডিও কার্টুন দেখানোর পাশাপাশি ছবিযুক্ত ছোটগল্পের বই পড়তে উৎসাহিত করাই। স্কুলের অবকাঠামোর কাজ চলছে। ভবিষ্যতে এসকল অঞ্চলে আরও কয়েকটি স্কুল করার পরিকল্পনা আছে।”

Print Friendly and PDF

সর্বাধিক পঠিত