খবরাখবর

রাফসান নিঝুম (১৭), ঢাকা

Published: 2019-10-20 18:53:45.0 BdST Updated: 2019-10-20 19:06:58.0 BdST

ভাগ্য পরিবর্তনের আশায়, সন্তানের নিশ্চিত ভবিষৎ গড়তে অনেক নারীর মতোই বিদেশ পাড়ি জমিয়েছেন শাহনাজ বেগম নামের এক নারী।

সম্প্রতি তার ছেলে সাইদুর রহমান সাগরের সঙ্গে কথা হয় হ্যালোর।

সাগইর জানায়, তার মা একমাত্র সন্তানের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের আশায় পাড়ি জমিয়েছেন মধ্যপ্রাচ্যের দেশ জর্ডানে। এক বছর বয়সেই সাগর তার বাবাকে হারায়। তখন থেকেই মা শাহনাজ বেগম কষ্ট করে বড় করছেন তাকে।

সাগর এখন রাজধানীর বঙ্গবন্ধু কলেজের একাদশ শ্রেণিতে পড়ছে।

“ছোটবেলা থেকেই আম্মু আমাকে অনেক কষ্ট করে বড় করছেন। তিনিই আমাকে এতদূর নিয়ে আসছেন।”

মায়ের কষ্টকে বিফলে যেতে দেয়নি সাগর। ভালো ফলাফল করে মায়ের আশার সঞ্চার জুগিয়েছে, কষ্টকে করেছে লাঘব।

সে বলে, “আমার পিএসসি পরীক্ষার রেজাল্ট আসে এ প্লাস। আমার আম্মুর সেদিনের মুখের হাসি দেখে চোখে পানি চলে আসছিল।

“তারপর যখন আস্তে আস্তে বড় হইতে থাকি তখন খরচ বাড়তে থাকে। তখন আমার আম্মু বাংলাদেশ ছেড়ে জর্ডান চলে যান।

“এরপর দিন গড়িয়ে আমি জেএসসি পরীক্ষা দেই। সেখানে আমি এ প্লাস পাই। এজন্য আম্মু খুব খুশি। কারণ, তাকে বুঝাইতে পারছি যে তার কষ্ট বিফলে যাচ্ছে না।”

কথা বলতে বলতে সাগরের চোখ ভিজে যাওয়া জানান দেয়, মাকে কতটা মনে পড়ে।

প্রবাসে থাকলেও সবসময়ই ছেলেকে নিয়ে চিন্তা করেন শাহনাজ বেগম। হ্যালোর সাথে ভিডিও কলে যুক্ত হয়েছিলেন তিনি।

জর্ডান থেকে শাহনাজ বেগম বলেন, “আজকে আমি জর্ডান আসছি গত ছয় বছর। আমার ছেলেকে নিয়েই আমার ভবিষ্যৎ। যেন আমার ছেলে লেখাপড়া করে মানুষ হতে পারে। আমি সবসময় ওর কথা মনে করি আর নামাজ পড়ে দোয়া করি। আল্লাহ যেন আমার ছেলেকে ভালো রাখে।”

সামাজিক যোগাযোগ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে প্রতিদিনই কথা হয় দুজনের। তবুও মাকে সরাসরি কখনই বলা হয়নি ‘ভালোবাসি।’ হ্যালোর ক্যামেরায় সাগর বলল, সেই কথাগুলো!

মাকে উদ্দেশ্য করে সাগর বলে, “আমি একসময় আম্মুর কাছে একটা ক্যামেরা চেয়েছিলাম। কিন্ত তখন আম্মু বলেছিল এখন লেখাপড়ার সময় ক্যামেরা দিয়ে কী করবি! তখন আম্মুর সাথে আমি অনেক খারাপ ব্যবহার করেছিলাম। কিন্ত এই ভিডিওর মাধ্যমে আমি বলতে চাই, আম্মু আমি স্যরি। আমি সত্যি তোমাকে অনেক মিস করি। আই লাভ ইউ আম্মু।”

Print Friendly and PDF

সর্বাধিক পঠিত